Sangbad Prabhati, 30 September 2026
অতনু হাজরা, জামালপুর : জামালপুর মহাবিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ, আইকিউএসি-এর সহযোগিতায় এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব হিস্টোরিক্যাল রিসার্চ (আইসিএইচআর), নয়াদিল্লি-র আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় ‘বেঙ্গলি রেনেসাঁ অ্যান্ড ইন্ডিয়ান নলেজ ট্র্যাডিশন্স: ডায়ালগস অব রিফর্ম, রিভাইভাল অ্যান্ড মডার্নিটি’ শীর্ষক দু'দিনব্যাপী জাতীয় সেমিনার ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে সেমিনারটি এক উল্লেখযোগ্য একাডেমিক মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন ও প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামালপুর মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. শ্রাবন্তী ব্যানার্জি। উপস্থিত অতিথিদের স্বাগত জানান সেমিনারের আহ্বায়ক, ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক সুপর্ণা সরেন। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক এবং মহাবিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির সভাপতি অরুণ হালদার।
সেমিনারের প্রথম দিনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক প্রবীণ কুমার মিশ্র, অধ্যাপক, ইতিহাস বিভাগ, স্কুল অব স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেস, গুরু ঘাসিদাস বিশ্ববিদ্যালয়, ছত্তিশগড় এবং অধ্যাপক সৌরাংশু মুখোপাধ্যায়, উপাচার্য, মহাত্মা গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয়, মহিষাদল, পূর্ব মেদিনীপুর। তাঁদের বক্তব্যে বাংলা নবজাগরণের বহুমাত্রিক তাৎপর্য, ভারতীয় জ্ঞান-ঐতিহ্যের পুনর্মূল্যায়ন এবং সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে গভীর আলোচনা হয়।
এছাড়াও বিশেষ বক্তৃতা প্রদান করেন অধ্যাপক সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়, অধ্যাপক, ইতিহাস বিভাগ, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়; সোহিনী মুখোপাধ্যায়, পিএইচ.ডি. গবেষক, ইতিহাস বিভাগ, ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় অ্যাট শিকাগো; অধ্যাপক দীপশিখা পাণ্ডে, সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, প্রাচীন ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, আর্য কন্যা ডিগ্রি কলেজ, প্রয়াগরাজ (এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত মহাবিদ্যালয়); অধ্যাপক অলোক কুমার ঘোষ, ট্রাস্টি, ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম, কলকাতা এবং কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান; অধ্যাপক অপরাজিতা ধর, অধ্যাপক, ইতিহাস বিভাগ, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়; অধ্যাপক মানস দত্ত, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, ইতিহাস বিভাগ, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধ্যাপক অভিষেক কর্মকার, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, গলসি মহাবিদ্যালয় ও অতিথি অধ্যাপক, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। তাঁদের প্রাঞ্জল ও গবেষণাধর্মী বক্তব্য সেমিনারের আলোচনাকে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ করে।
দু'দিনব্যাপী এই সেমিনারে অফলাইন ও অনলাইন মিলিয়ে একাধিক টেকনিক্যাল সেশনের আয়োজন করা হয়, যেখানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও গবেষণার্থীরা তাঁদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। বাংলা নবজাগরণ, ভারতীয় জ্ঞান-ঐতিহ্য, সমাজসংস্কার, শিক্ষা, সাহিত্য, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, নারীচিন্তা, দেশজ জ্ঞানব্যবস্থা ও আদিবাসী ঐতিহ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি অধিবেশনেই অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় মতবিনিময় সেমিনারটিকে এক উচ্চমানের গবেষণামূলক পরিসরে উন্নীত করে।
দু'দিনে তিনশোরও বেশি অধ্যাপক, গবেষক, গবেষণার্থী ও শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় থেকে এই সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন। একাডেমিক জ্ঞান-বিনিময়, গবেষণার নতুন দিক উন্মোচন এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই জাতীয় সেমিনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৩০ সেপ্টেম্বর সমাপনী অধিবেশনের মাধ্যমে সেমিনারের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে। সমাপনী ভাষণ প্রদান করেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট অফিসার অ্যান্ড ইন্সপেক্টর অব কলেজস, ড. ইন্দ্রজিৎ রায়। তিনি তাঁর বক্তব্যে ভারতীয় জ্ঞান-ঐতিহ্যের চর্চা ও গবেষণাকে আরও সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান এবং এ ধরনের জাতীয় সেমিনারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব হিস্টোরিক্যাল রিসার্চ (আইসিএইচআর)-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়। পাশাপাশি উপস্থিত সকল বিশিষ্ট বক্তা, অতিথি, গবেষক, অংশগ্রহণকারী, উপদেষ্টা কমিটি, আয়োজক কমিটির সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী এবং ছাত্র-স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়। দুই দিনের এই জাতীয় সেমিনারটি অংশগ্রহণকারী সকলের কাছে একটি স্মরণীয় ও সার্থক একাডেমিক আয়োজন হিসেবে সমাদৃত হয়।



