স্বপ্নের উড়ানে স্নেহের হাত : প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের পাশে বর্ধমান সায়েন্স অ্যান্ড নেচার ক্লাব
Sangbad Prabhati, 27 September 2026
ডিজিটাল ডেস্ক রিপোর্ট, সংবাদ প্রভাতী : সমাজের অর্থনৈতিক দিক দিয়ে দুর্বল পড়ুয়াদের পাশে আবারও আলোর দিশারী হয়ে পরম মমতায় এসে দাঁড়াল ‘বর্ধমান সায়েন্স অ্যান্ড নেচার ক্লাব’। পরিবেশ রক্ষা ও বিজ্ঞানমনস্কতা ছড়ানোর পাশাপাশি দুস্থ ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ গড়ার অঙ্গীকারে দীর্ঘ দিন ধরে নিঃশব্দে কাজ করে চলেছে এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি। বিগত তিন বছর ধরে শহর বর্ধমানের বুকেই শুধু নয়, শিক্ষা ও সামাজিক সেবার জগতে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত গড়ে তুলেছে তারা। তারই ধারাবাহিকতায় আজ, ২৭ সেপ্টেম্বর, বর্ধমানের শিবকুমার হরিজন বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো এক হৃদয়স্পর্শী শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি।
২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে তাঁদের ভবিষ্যৎ সুগম করতে হাত বাড়িয়ে দেয় সংগঠনটি। এলাকার প্রায় ৬৫ জন দুস্থ অথচ প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ক্লাবের নিজস্ব উদ্যোগে সংকলিত ও প্রকাশিত মূল্যবান টেস্ট পেপার এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী। শুধু পাঠ্যবই বা টেস্ট পেপারই নয়, পরীক্ষার চূড়ান্ত দিনগুলোতে অ্যাডমিট কার্ড ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সযত্নে সুরক্ষিত রাখার জন্য তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি করে বিশেষ সাদা কভার ফাইল ও কলম। ক্লাবের শিক্ষক বিশ্বরূপ দাসের কথায়, “মাধ্যমিকের এই জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় আমাদের এই সামান্য আয়োজনটুকু ছাত্র-ছাত্রীদের মানসিক সংকল্প ও প্রস্তুতিকে কিছুটা হলেও মসৃণ করবে।”
আর্থিক প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করা কিশোর-কিশোরীদের চোখেমুখে আজ ছিল নতুন করে স্বপ্নের আলো দেখার আনন্দ। ইমন মল্লিক, বিবেক সরেন, শাবানা পারভিন, অদ্রিতি পাল, অমৃতা দাস, সিমরন খাতুন, ঋদ্ধি সাহা ও আকাশ গড়াইদের মতো পড়ুয়ারা আবেগরুদ্ধ কণ্ঠে জানায়, “এই টেস্ট পেপারটির কার্যকারিতা ও সুনামের কথা আমরা বহু আগেই শুনেছিলাম। কিন্তু সংসারের আর্থিক টানাপোড়েনে তা সংগ্রহ করা আমাদের সাধ্যের বাইরে ছিল। টেস্ট পরীক্ষার ঠিক মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বর্ধমান সায়েন্স অ্যান্ড নেচার ক্লাবের এই অকৃত্রিম সহায়তা আমাদের আত্মবিশ্বাস একধাক্কায় অনেক বাড়িয়ে দিল।”
পড়ুয়াদের মুখে আরও ফুটে ওঠে কৃতজ্ঞতার সুর। তারা জানায়, কেবল এই উপহারসামগ্রী তুলে দিয়েই ক্লাবের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না, বিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট সময়ের বাইরেও ডিজিটাল মাধ্যমে—হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সাহায্যে—শিক্ষকেরা নিরলসভাবে তাঁদের পড়াশোনার নানা জটিল সমস্যার সমাধান করে চলেন। প্রাতিষ্ঠানিক সীমানা ছাড়িয়ে শিক্ষকদের এমন অনাবিল ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা পেয়ে আপ্লুত ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে উপস্থিত অভিভাবককুল। তাঁরা সর্বান্তঃকরণে সংগঠনের এই মহতী প্রয়াসের উত্তরোত্তর সাফল্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন।
এদিনের এই আনন্দঘন মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট বিশ্বরূপ দাস সহ সুদীপ্ত দাস, ধীমান মাল, নয়ন চক্রবর্তী, মিঠুন চক্রবর্তী ও সন্দীপ দেওয়্যারীর মতো একঝাঁক প্রাণবন্ত ও দরদী শিক্ষক-বন্ধু। সব মিলিয়ে রবিবারের এই ছোট্ট অথচ আন্তরিক আয়োজনটি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধনে পরিণত হয়ে এক স্নিগ্ধ, মানবিক রূপ নিল।







