যুব সংসদ প্রতিযোগিতায় দীননাথ দাস বিদ্যালয়ের সাফল্য
Diptosundar Mukhopadhyay
Sangbad Prabhati, 10 September 2026
দীপ্তসুন্দর মুখোপাধ্যায়, বর্ধমান : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে এবং বর্ধমান পৌরসভার পরিচালনায় বুধবার বর্ধমান শহরের বাছাই করা আটটি বিদ্যালয়ের মধ্যে যুব সংসদ নাটক প্রতিযোগিতা হয়ে গেল বর্ধমান পৌর উচ্চ বিদ্যালয়ে। লোকসভা বা বিধানসভার কেমন আদর্শ হওয়া উচিত এবং সরকার তথা বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা কেমন হবে এই বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা বিস্তারের লক্ষ্যে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রতিযোগিতায় প্রথম হয় বর্ধমান টাউন স্কুল, দ্বিতীয় হরিসভা হিন্দু বালিকা বিদ্যালয়, তৃতীয় হয় কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়। সেরা অধ্যক্ষের পুরস্কার পায় দীননাথ দাস বিদ্যালয়ের পমি ঘোষ।
একই দিনে অন্যান্য বিষয়ের ওপর প্রতিযোগিতাও আহ্বান করা হয়। ভারতবর্ষ ও জাতীয়তাবাদ এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক বক্তৃতায় প্রথম হয় দীননাথ দাস বিদ্যালয়ের সুরজ কুরি, রাজনীতিতে ছাত্রসমাজের ভূমিকা বিষয়ক প্রবন্ধ রচনায় তৃতীয় হয় অঙ্কিতা মালিক। কুইজ প্রতিযোগিতায় চতুর্থ স্থান পায় বিল্টু রায় এবং মধুমিতা বাড়ুই জুটি।
বিদ্যালয়ের রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত বলেন, এই সাফল্য আমাদের সকলকে আরও উজ্জীবিত করবে এবং ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার পাশাপাশি বহুবিধ বিষয়ে নিজেদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের মঞ্চ ব্যবহার করে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দেবে।
নাটকের পরিচালক শিক্ষিকা শ্যামলী দাস ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, স্বল্প সময়ের প্রচেষ্টায় এই সাফল্য আমাদের সবার জন্যেই আনন্দদায়ক। কর্তৃপক্ষ নির্দেশিত প্রতিটি বিধি আমরা মেনে চলেছি যাতে একটি সুষ্ঠু বিধানসভা আমরা প্রদর্শন করতে পারি। সেই লক্ষ্যে আমরা সফল।
সংলাপ রচয়িতা শিক্ষক অনিমেষ বর্মন বলেন, আমরা নাটকে সর্বাধিক সংখ্যক মন্ত্রী রেখেছি। বিশেষত শিক্ষামন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীর সংলাপ এমনভাবেই রাখার চেষ্টা করেছি যাতে সমসাময়িক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি আলোচনায় উঠে আসে, বিরোধী সদস্যদের প্রতিপ্রশ্নের মুখে সেসবের সমাধান সূচিত হয় এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থে দিশানির্দিষ্ট হয়।
সেরা অধ্যক্ষের পুরস্কারপ্রাপ্ত পমি জানায়, জানি না আমরা কখনও বিধানসভায় পা রাখতে পারব কিনা, তবে এই নাটক আমাদের অনেক কিছু ভাবার অবকাশ দিল। মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকায় থাকা মৌসুমির কথায়, রাজ্যের প্রধান যিনি তাঁর দায়িত্ব সম্পর্কে অবহিত হওয়া একটি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।
বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক দীপ্তসুন্দর মুখোপাধ্যায় বলেন, সাধারণ সামাজিক নাটক থেকে যুব সংসদ নাটকের পার্থক্য হল এতে শরীর সঞ্চালন প্রায় থাকে না। একই জায়গায় দাঁড়িয়ে বা বসে সংলাপ বলে যেতে হয় এবং দেশসেবার উদ্দেশ্যে নিজেদের অনুপ্রেরিত করতে হয়। আমাদের ছাত্রছাত্রীরা অসামান্য অভিনয়ে সবকিছু ফুটিয়ে তুলেছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য আমাদের শ্রদ্ধেয় প্রধানশিক্ষকের অনলস উৎসাহপ্রদান এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা যা আমাদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।







