Sangbad Prabhati, 3 July 2026
জগন্নাথ ভৌমিক, বর্ধমান : যে কালা (শ্রবণ প্রতিবন্ধী), সে বোবা (বাক-প্রতিবন্ধী)। আসলে জন্মগত বা শৈশবের শুরুতে কোনো কারণে কানে শুনতে না পেলে, স্বাভাবিকভাবে শোনার সুযোগ না থাকায় তারা কথা বলাও শিখতে পারে না।চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় এদের 'শ্রবণ ও বাক-প্রতিবন্ধী' বলা হয়ে থাকে। তবে বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবের বোবা -কালা প্রবাদ এখন অতীত। বর্তমানে বধিরতা ও জন্মগত শ্রবণ সমস্যার আধুনিক চিকিৎসায় এসে গেছে ককলিয়ার ইমপ্ল্যান্ট। চিকিৎসা ক্ষেত্রে এটা এক বৈজ্ঞানিক বিস্ময়। সেই বিষয়কে সামনে রেখে ৩ জুলাই কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতালের উদ্যোগে বর্ধমানের হোটেল সিটি টাওয়ারে আয়োজিত হল এক বিশেষ সচেতনতামূলক আলোচনা সভা।
এই অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ছিলেন, পিয়ারলেস হাসপাতালের ইএনটি হেড অ্যান্ড নেক সার্জন ডাঃ মনোজেন্দ্র নারায়ণ ভট্টাচার্য। তিনি ককলিয়ার ইমপ্ল্যান্টের আধুনিক প্রযুক্তি, চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর গুরুত্ব এবং জন্মগত বধিরতা ও শ্রবণ সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের জীবনে এর ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশেষত শিশুদের ক্ষেত্রে দ্রুত রোগ নির্ণয় ও সঠিক সময়ে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার উপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
এই কর্মসূচি পূর্ব বর্ধমান জেলার অডিওলজিস্ট, শিশু বিশেষজ্ঞ, স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ চিকিৎসকদের জন্য বিশেষভাবে আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে চল্লিশের বেশি অতিথি ও চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন।
এদিন ডাঃ এম এন ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানান, চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বধিরতার দিনও প্রায় শেষ। বধিরতা ও জন্মগত শ্রবণ সমস্যার আধুনিক চিকিৎসায় ককলিয়ার ইমপ্ল্যান্ট এর মাধ্যমে মানুষ চাইলে তাঁর শ্রবণশক্তি সম্পূর্ণ ভাবে ফিরে পেতে পারেন। শ্রবণশক্তি ফিরলে তিনি কথাও বলতে পারবেন। শৈশবেই যদি কোন শিশুর এই সমস্যা ধরা পড়ে এবং তখনই ককলিয়ার ইমপ্ল্যান্ট করানো হয় তাহলে সারা জীবন সে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে বেঁচে থাকতে পারে। এক্ষেত্রে খরচ মোটামুটি পাঁচ থেকে পনেরো লক্ষ টাকার মধ্যে। শৈশবেই যদি এই চিকিৎসা করিয়ে নেওয়া হয় তাহলে সারা জীবন স্বাভাবিক ছন্দে পড়াশোনা থেকে শুরু করে কাজকর্ম সামাজিক জীবনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। এছাড়া স্পিচ থেরাপি, বিকল্প যোগাযোগ মাধ্যম এবং ইশারা ভাষা বা সাইন ল্যাঙ্গুয়েজএর মাধ্যমে তারা নিজেদের মনের ভাব প্রকাশ করতে পারেন। কানের পর্দা বা অভ্যন্তরীণ অংশের সমস্যা থাকলে শ্রবণ সহায়ক যন্ত্র বা বিশেষ সার্জারির সাহায্যে তাদের শোনার ক্ষমতা অনেকাংশে ফিরিয়ে আনা যায়।
তবে একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের শ্রবণশক্তিও নানা কারণে কমে যেতে পারে বা একেবারে শ্রবণ শক্তি হারিয়েও ফেলতে পারেন। এক্ষেত্রে তিনি বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াও শব্দ দূষণকে বেশি করে দায়ী করেছেন। এক্ষেত্রেও সময়োপযোগী চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে ককলিয়ার ইমপ্ল্যান্ট এর মাধ্যমে সেই ব্যক্তি সম্পূর্ণভাবে শ্রবণশক্তি ফিরে পেতে পারেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কলকাতা পিয়ারলেস হাসপাতালে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার তনুশ্রী আলি। তিনি হাসপাতালের আসন্ন বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রকল্প, আধুনিক চিকিৎসা পরিকাঠামো এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা সম্পর্কে উপস্থিত চিকিৎসকদের অবহিত করেন।
সমগ্র অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা ও সফল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন কলকাতা পিয়ারলেস হাসপাতালে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (বর্ধমান-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত) সপ্তর্ষি ঘোষ।
অনুষ্ঠানের শেষে চিকিৎসকদের সঙ্গে একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ককলিয়ার ইমপ্ল্যান্ট প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং সমাজে এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।







