Scrooling

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দু অধিকারী # ৯২ বছর বয়সে মুম্বইয়ে প্রয়াত হলেন সুরের দুনিয়ার কিংবদন্তি আশা ভোঁসলে # রজতজয়ন্তী বর্ষে সংবাদ প্রভাতী পত্রিকা। সকল পাঠক-পাঠিকা বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি শুভেচ্ছা # আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন বঙ্গতনয়া, ৮২তম ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের অরিজন্তি বিভাগে সেরা পরিচালকের খেতাব জয় করলেন চিত্রপরিচালক অনুপর্ণা রায়। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর শুভেচ্ছা। # বর্ধমানে জাতীয় সড়কে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় ১১ পুণ্যার্থীর মৃত্যু। মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর # UGC NET 2025-এ অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক-১ করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের পিএইচডি স্কলার নিলুফা ইয়াসমিন # উচ্চ মাধ্যমিকের পর নিটেও রাজ্যে প্রথম বর্ধমানের রূপায়ণ পাল। # ষষ্ঠ সিন্ধু জিব্রাল্টার জয় করে ইতিহাসের পাতায় সায়নী # 'দাদাসাহেব ফালকে' সম্মানে ভূষিত হলেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী

জীবনের তিন আলো : গুরু পূর্ণিমায় শ্রদ্ধার্ঘ্য


 

জীবনের তিন আলো : গুরু পূর্ণিমায় শ্রদ্ধার্ঘ্য

Bishwarup Das
Sangbad Prabhati, 29 July 2026

🟠 বিশ্বরূপ দাস

"গুরু ব্রহ্মা গুরু বিষ্ণু গুরুদেব মহেশ্বর।
গুরুদেব পরমব্রহ্ম তস্মৈ শ্রী গুরবে নমঃ॥"

সনাতন ভারতীয় সংস্কৃতিতে 'গুরু' কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি এক অলৌকিক চেতনা, অন্ধকার থেকে আলোর অভিমুখে যাত্রার আলোকবর্তিকা। 'গু' শব্দের অর্থ অন্ধকার আর 'রু' শব্দের অর্থ তা নিবারণকারী। শ্রাবণ মাসের এই পবিত্র পূর্ণিমা তিথি—যা ঐতিহাসিকভাবে বেদব্যাসের জন্মতিথি হিসেবে 'ব্যাস পূর্ণিমা' নামেও পরিচিত—মানুষের জীবনের সেই পথপ্রদর্শকদের স্মরণের দিন। জীবনের এই মধ্যগগনে দাঁড়িয়ে, অনুভবের রঙতুলি আর প্রজ্ঞার অর্ঘ্য সাজিয়ে যখন পিছন ফিরে তাকানো যায়, তখন স্পষ্ট দেখা যায় তিন গুরুর মহিমাময় উপস্থিতি: জন্মদাত্রী পিতা-মাতা, জ্ঞানদাতা শিক্ষক এবং মোক্ষপ্রদাতা আধ্যাত্মিক গুরু।

প্রথমেই আসে সেই আদি গুরুর কথা, যাঁরা এই পৃথিবীর আলো দেখিয়েছেন—পিতা ও মাতা। উপনিষদের বাণী বলে, "মাতৃদেব ভব, পিতৃদেব ভব।" শিশুর প্রথম স্পন্দন, প্রথম উচ্চারণ এবং প্রথম বিশ্বদর্শনের সূচনা তাঁদের হাত ধরেই। জন্মসূত্রে পাওয়া এই শরীর ও চেতনার নেপথ্যে রয়েছে তাঁদের অশেষ ত্যাগ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। মহাবিশ্বের স্রষ্টা যদি পরমেশ্বর হন, তবে এই মর্ত্যধামে পিতা-মাতা সেই স্রষ্টারই বাস্তব রূপায়ণ। গুরু পূর্ণিমার প্রারম্ভেই তাঁদের শ্রীচরণে প্রণতি জানানো মানে জীবনের মূল শিকড়কে স্পর্শ করা।

এর পরেই যাঁর স্থান, তিনি জ্ঞানের দিশারী—শিক্ষক। শিক্ষা কেবল পুঁথিগত বিদ্যা অর্জন নয়, শিক্ষা হলো মানুষের ভেতরের অন্তর্নিহিত রূপকে জাগ্রত করা। শিক্ষকদের নিবিড় সান্নিধ্য, প্রজ্ঞা এবং স্নেহের পরম পরশ না পেলে জীবনের নাট্যমঞ্চে নিজের ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করা অসম্ভব হতো। আজ নিজে শিক্ষকের আসনে বসে উপলব্ধি করা যায়—এক একজন শিক্ষক কীভাবে প্রদীপের সলতেটির মতো নিজেকে ক্ষয় করে শিষ্যের ভেতরে জ্বালিয়ে দেন জ্ঞানের অবিনশ্বর আলোকশিখা। শিষ্যের মধ্যে প্রজ্ঞার বীজ রোপণ করে তাঁকে সুন্দর ও সার্থক জীবনের উপযোগী করে তোলাই শিক্ষাগুরুর পরম ব্রত।

আর জীবনের তৃতীয় ও গভীরতম অধ্যায়ে প্রবেশ ঘটে আধ্যাত্মিক গুরুর। জীবন কেবল পার্থিব সাফল্য ও অর্জনের নাম নয়; সুখ-দুঃখ, উত্থান-পতন, ভাঙা-গড়ার দোলাচলেই এর গতি। এই অশেষ ঝঞ্ঝার মাঝে যিনি জীবনের আসল অর্থ বোঝান, যিনি শিখিয়ে দেন পরার্থপরতা ও সত্যের পথে চলার অমিয় মন্ত্র—তিনিই শ্রীগুরু। তিনি জীবনের সুখে-দুঃখে হিরে-পান্নার মতো জ্বলজ্বল করেন, বাহ্যিক অন্ধকারের মাঝে দেখান পরম চেতনার পথ। তিনি শেখান, কীভাবে জীবনের নানা অভিঘাত সহ্য করেও হৃদয়ে বেঁচে থাকার পরম রসদ খুঁজে নিতে হয়।

জীবনের পথচলায় সূর্য আজ মধ্যগগন পেরিয়ে হয়তো পশ্চিম দিগন্তে ঢলে পড়ার অপেক্ষায়। কিন্তু বোধ ও অনুভবের এই পরিপক্কতায় মন চায়, ওই তিন গুরুর রাঙা চরণে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সমর্পণ করতে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সুর ধরে তাই অন্তরের আকুল প্রার্থনা—

"আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে,/ আমার এ জীবন পুণ্য করো দহন দানে..."

তাদের আশীর্বাদের অমিয়ধারায় সিক্ত হয়ে, তাদের আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে যেন বাকি পথটুকু চলা যায়। এই শুভ গুরু পূর্ণিমায় তিন গুরুর শ্রীচরণে বিনম্র প্রণাম ও চিরন্তন শ্রদ্ধার্ঘ্য—তাঁরা যেন চিরকাল বিরাজ করেন হৃদয়ের মণিকোঠায়, আর তাঁদের চরণে যেন মেলে চির আশ্রয়।

                                 Image : AI                       
                                লেখক : শিক্ষক ও সমাজকর্মী।