বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়ে এইচ পি ভি টিকাকরণ বিষয়ক আলোচনা
Sangbad Prabhati, 9 June 2026
ডিজিটাল ডেস্ক রিপোর্ট, সংবাদ প্রভাতী : কাঞ্চননগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে চিকিৎসক আশাকর্মী এবং নার্স মহিলারা মঙ্গলবার কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে এসে জরায়ুমুখ ক্যানসারের আশঙ্কা এবং তার প্রতিরোধে টিকাকরণের গুরুত্ব আলোচনা করেন। ড ঋতম চক্রবর্তী বলেন, এইচ পি ভি হল হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস যা যৌনসম্পর্কে আসার পর নারীদের মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যানসার সৃষ্টি করছে।
এই ভাইরাস সংক্রমণ হলেও অনেকে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে সুস্থ হয়ে যান। কিন্তু অনেকে হতে পারছেন না এবং শরীরে ক্যানসার থাবা বসাচ্ছে। এই ভাইরাসের একশোরও বেশি প্রকারের মধ্যে ১৭টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। এগুলির অগ্রিম প্রতিরোধে রাজ্য সরকার যে মেয়েদের বয়স ১৪ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে তাদের গার্ডাসিল টিকাদানের ব্যবস্থা করেছেন।
এই টিকার কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কিনা অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মনীষার প্রশ্নের উত্তরে চিকিৎসকবাবু বলেন, এই টিকা নিলে গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে এই ভুল ধারণা চালু আছে। গর্ভধারণে কোন সমস্যার সম্ভাবনা নেই। পিসিওডি বা ডিম্বাশয়ে টিউমার জাতীয় কোন রোগের সঙ্গেও টিকার কোন সম্পর্ক নেই। প্রতি টিকাগ্রহীতার জন্য সরকারের ছয় সাত হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। কিন্তু এই প্রকল্পে তা বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। যদিও বেসরকারি সংস্থায় দশ বারো হাজার টাকায় কিনতে হয়। আরও জানানো হয় যে, সোম বুধ শুক্র শনি এই চার দিনে বর্ধমান শহরের ঝুরঝরেপুলের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকা দেওয়া হচ্ছে। একবার মাত্র ডোজ নিলেই তা সারা জীবনের জন্য কার্যকর হবে।
বিদ্যালয়ের বায়োলজি শিক্ষিকা সুশ্বেতা সাহা এবং হেলথ কেয়ার শিক্ষিকা নন্দিনী দে বলেন, যিনি ইতিমধ্যে এই রোগে আক্রান্ত তাঁর জন্য এই টিকা কাজ করবে না। সেক্ষেত্রে তাঁকে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। কিন্তু এই টিকা আগে নেওয়া থাকলে পরবর্তী জীবনে রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। বাল্যবিবাহ, স্বামীর একাধিক বিয়ে, বিবাহ বহিভূর্ত সম্পর্ক, একাধিক যৌনসঙ্গী থাকা, অল্প বয়সে মা হওয়া, ঘন ঘন সন্তান ধারণ করা, একটানা ৫ বছরের বেশি জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ খাওয়া, অপুষ্টি, রক্তস্বল্পতা, ধূমপান, তামাক, জর্দার নেশা এ সব কিছু নারীদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এই টিকা তার অগ্রিম প্রতিরোধ যা বহু দেশে কার্যকর।
রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত জাতীয় শিক্ষক তথা বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক ড সুভাষচন্দ্র দত্ত বলেন, বিশ্বজুড়ে কম উপার্জন সম্পন্ন পরিবারের নারীদের মধ্যে জরায়ু ক্যানসারের প্রাদুর্ভাব বেশি। ভাল থাকতে গেলে সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি যেমন সবাইকে মেনে চলতে হবে তেমন সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের অংশীদার হতে হবে। বহুমুল্য এই এইচ পি ভি টিকা রাজ্য সরকারের সৌজন্যে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের বিদ্যালয়ের মূলত নবম আর অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীরা এটি গ্রহণ করার উপযুক্ত বিবেচনা করা হয়েছে। এই ক্যানসার মূলত ৩৫ বছরের পরে বেশি দেখা যায়। কিন্তু প্রিয় ছাত্রীদের ভবিষ্যত জীবন যাতে তাদের নিরুদ্বেগ থাকে, দাম্পত্য জীবন যাতে আশঙ্কিত না হয়, তার জন্য এই জনকল্যাণমূলক সরকারি টিকাপ্রদানের কর্মসূচিকে স্বাগত জানাই। আশা করব, আমাদের এবং অন্য ছাত্রীরাও টিকা নিয়ে নিজেদের সুরক্ষিত রাখবে।




