দুর্গাপুরে পাঁচ জেলা নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অভিমুখ নিয়ে বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
Sangbad Prabhati, 21 May 2026
জগন্নাথ ভৌমিক, দুর্গাপুর : পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দক্ষিণবঙ্গের পাঁচ জেলাকে নিয়ে দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠক করলেন। ২১ মে অন্ডাল বিমানবন্দর থেকে এসে রোড শো করেন তিনি। দুর্গাপুরের সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, বীরভূম ও পুরুলিয়া জেলা নিয়ে সভা করেন। ছিলেন রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, দিলীপ ঘোষ, ক্ষুদিরাম টুডু, নিশীথ প্রামানিক, অশোক কীর্তনীয়া ও সাংসদ সৌমিত্র খাঁ, জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। এছাড়া এই প্রশাসনিক সভায় ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল সহ স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশ কমিশনার, পাঁচ জেলার নির্বাচিত বিধায়করা, জেলা শাসক ও পুলিশ সুপাররা, বিভিন্ন ব্লকের বিডিও ও জেলার আধিকারিকরা।
রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর এই প্রথম দক্ষিণবঙ্গে বড়সড় প্রশাসনিক পর্যালোচনায় বসলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই হাইভোল্টেজ বৈঠকের আগেই রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে এক নজিরবিহীন ঘটনা দেখা গেল। যখন জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও তেলের ঘাটতি নিয়ে দেশজুড়ে চর্চা চলছে, ঠিক তখনই সরকারি গাড়ির কনভয় ছুটিয়ে নয়, বরং গণপরিবহনকে অগ্রাধিকার দিয়ে রীতিমতো বাসে চড়ে দুর্গাপুরের সভায় পৌঁছালেন বিভিন্ন জেলার আধিকারিকরা।
প্রশাসনিক সভায় মুখ্যমন্ত্রী জেলার আধিকারিকদের সঙ্গে জেলার উন্নয়নমূলক কাজ পর্যালোচনা করেন। ভবিষ্যতে সেই উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনিক বৈঠকের নামে সরকারি তহবিলের অপব্যবহার, যা আগের সরকারের আমলে হয়েছিল, এবার তা হয়নি। ভবিষ্যতেও হবে না। কোথাও রাস্তা বন্ধ করা হয়নি৷ তিনদিন ধরে কোন হোটেল বুক করা হয়নি। বিকেলে বৈঠক করা হয়েছে। সন্ধ্যের মধ্যে সবাই ফিরে যাবেন। এমন বৈঠক আরো সব জেলায় করা হবে। যাতে একটা সমন্বয় তৈরি হয়। ৫ টি জেলার ৫৭ বিধানসভার মধ্যে ৫০ টিতে বিজেপি জিতেছে। তারা সবাই এসেছেন। ৭ জন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ককেও ডাকা হয়েছিলো। মনে হয়, তারা কেউ আসেননি। বীরভূমের মুরারইয়ের বিধায়ক আমাকে কাল ম্যাসেজ করে বলেছিলেন আসবে। তিনিও আসেননি। আমাদের সরকার বিরোধীদের ডাকবে। আগের সরকারে তা করেনি।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এই জেলার ৯ বিধায়ক আমাকে বলেছেন, চিত্তরঞ্জন থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত গোটা এলাকাকে আগের সরকার খরা করে দিয়েছে। এই সরকার এবার এই জেলায় কর্মসংস্থান বাড়াতে উদ্যোগী হবে। শিল্প আনার সবরকম চেষ্টা করবে। এছাড়াও, সিন্ডিকেট, কাটমানি, তোলাবাজি বন্ধ হয়েছে কি না, তা দেখা হচ্ছে। রাজস্ব আদায় ঠিক মতো হচ্ছে কি না বা তা কোথাও লিকেজ হচ্ছে কি না, সব কিছু দেখতে বলা হয়েছে। শুধু বীরভূমের উদাহরণ দিয়ে বলতে পারি, সেখানে পাথর থেকে প্রতিদিন ৩০ লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায় হতো।
নতুন সরকার আসার পরে একটু টাইট দেওয়াতে, তা বেড়ে ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা হয়েছে। ওই জেলায় দিনে ৫ কোটি, একমাসে ১৫০ কোটি, বছরে ১৮০০ কোটি রাজস্ব ফাঁকি পড়েছে। এটা পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান সহ সব জেলায় আছে। যেমন বালি। এই বালি নিয়ে এক এক রকম দাম নেওয়া হচ্ছে। আমি বলছি, প্রয়োজনে বালির দাম বেঁধে দিন। বালিঘাটে নজরদারি করতে হবে। সরকারের বদনাম করার চেষ্টা করবে। তারজন্য একটা চক্র কাজ করছে।। সরকার কি চায়, তার একটা ম্যাসেজ সব স্তরের আধিকারিকদের দিতে এই বৈঠকের আয়োজন।



