Scrooling

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব পদে নন্দিনী চক্রবর্তী # রজতজয়ন্তী বর্ষে সংবাদ প্রভাতী পত্রিকা। সকল পাঠক-পাঠিকা বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি শুভেচ্ছা # আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন বঙ্গতনয়া, ৮২তম ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের অরিজন্তি বিভাগে সেরা পরিচালকের খেতাব জয় করলেন চিত্রপরিচালক অনুপর্ণা রায়। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর শুভেচ্ছা। # বর্ধমানে জাতীয় সড়কে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় ১১ পুণ্যার্থীর মৃত্যু। মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর # UGC NET 2025-এ অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক-১ করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের পিএইচডি স্কলার নিলুফা ইয়াসমিন # উচ্চ মাধ্যমিকের পর নিটেও রাজ্যে প্রথম বর্ধমানের রূপায়ণ পাল। # ষষ্ঠ সিন্ধু জিব্রাল্টার জয় করে ইতিহাসের পাতায় সায়নী # 'দাদাসাহেব ফালকে' সম্মানে ভূষিত হলেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী

সিঙ্গুর থেকে পূর্ব বর্ধমানের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর একগুচ্ছ উন্নয়নমুখী প্রকল্পের উদ্বোধন


 

সিঙ্গুর থেকে পূর্ব বর্ধমানের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর একগুচ্ছ উন্নয়নমুখী প্রকল্পের উদ্বোধন 


Jagannath Bhoumick 
Sangbad Prabhati, 28 January 2026

জগন্নাথ ভৌমিক, ২৮ জানুয়ারি : হুগলি জেলার সিঙ্গুরে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক বৈঠকের মঞ্চ থেকে বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের বিভিন্ন জেলার কল্যাণে একগুচ্ছ উন্নয়নমুখী প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। 

উন্নয়নমূলক প্রকল্পসমূহের মধ্যে রয়েছে "বাংলার বাড়ি গ্রামীণ" প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়সহ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের অধীন আরও একাধিক প্রকল্প।

পূর্ব বর্ধমান জেলায় "বাংলার বাড়ি গ্রামীণ প্রকল্প”-এর প্রথম পর্যায়ে ইতিমধ্যেই ৭৯ হাজার ১০৩টি পরিবার উপকৃত হয়েছে, যেখানে সরকারের মোট ব্যয় হয়েছে ৯৪৯.২৩৫ কোটি টাকা।

২৮ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় "বাংলার বাড়ি গ্রামীণ প্রকল্প"-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনের মাধ্যমে মোট ৫৪ হাজার ১৩ জন উপভোক্তার অনুমোদন দেন। এবং প্রথম কিস্তি বাবদ মোট ৩২৪.০৭৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। উক্ত প্রকল্পের অধীন সংশ্লিষ্ট উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই অর্থ জমা দেওয়া হবে। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি পূর্ব বর্ধমান জেলা যুক্ত ছিল। জেলা শাসকের কনফারেন্স হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামা প্রসন্ন লোহার, জেলা শাসক আয়েশা রাণী এ, জেলা পুলিশ সুপার সায়ক দাস সহ বিধায়ক, জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্তাব্যক্তিরা এবং জেলা পরিষদের মেন্টর ও কর্মাধ্যক্ষরা। 

 রাজ্য সরকারের বিভিন্ন ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচির মধ্যে "বাংলা শস্য বীমা কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে বীমা সুবিধা প্রদানের একটি অন্যতম উল্লেখযোগ্য প্রকল্প। এই প্রকল্পের অধীনে, "বাংলা শস্য বীমা খরিফ, ২০২৫" পর্যায়ে কেতুগ্রাম-১, কেতুগ্রাম-২ ব্লক এবং রায়না১ ও রায়না-২ ব্লকের মোট ৩২ হাজার ৭২৫ জন উপভোক্তা ফসল ক্ষতির ক্ষতিপূরণ বাবদ মোট ১২ কোটি ৪৪ লক্ষ ৯৯ হাজার ৯৬৪ টাকা পাবেন। উক্ত উপভোক্তাদের মধ্য থেকে কেতুগ্রাম-১ ও কেতুগ্রাম-২ ব্লকের ১৩ জন করে উপভোক্তাকে আজ পূর্ব বর্ধমান জেলা শাসকের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বীমা দাবি নিষ্পত্তির জন্য বরাদ্দপত্র প্রদান করা হয়েছে।

জেলাজুড়ে মোট ২০২ জন উপভোক্তাকে কৃষিজ পাট্টা প্রদান করা হচ্ছে। একইসঙ্গে, আজ জেলাজুড়ে মোট ১১০ জন উপভোক্তাকে হোমস্টেড পাট্টা প্রদান করা হচ্ছে। পাট্টা প্রাপকদের মধ্যে ৫ জন উপভোক্তাকে আজ পূর্ব বর্ধমান জেলা শাসকের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পাট্টা অধিকার সংক্রান্ত নথি প্রদান করেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, জেলা শাসক আয়েশা রাণী এ, পুলিশ সুপার সায়ক দাস সহ অন্যান্যরা।

এদিন মুখ্যমন্ত্রীর ভার্চুয়াল সভা ও পূর্ব বর্ধমানের পরিষেবা প্রদান শেষে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের প্রচারে একটি ট্যাবলো পরিক্রমার সূচনা হয়। সবুজ পতাকা নেড়ে ট্যাবলো যাত্রার সূচনা করেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, জেলা সভাধিপতি শ্যামা প্রসন্ন লোহার, জেলা শাসক আয়েশা রাণী এ, পুলিশ সুপার সায়ক দাস সহ অন্যান্যরা।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ কৃষি বিপণন দপ্তরের অধীন সুফল বাংলা প্রকল্পের আওতায় ২০টি মোবাইল আউটলেটের শুভ সূচনা করেন। এর মধ্যে একটি পূর্ব বর্ধমান জেলার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে, যা জেলায় ইতিমধ্যেই কার্যরত একটি মোবাইল আউটলেটের সঙ্গে যুক্ত হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্বিতীয় যানটি মূলত কালনা আরএমসি হাব ও তার আশপাশের এলাকায় মোবাইল আউটলেট এবং মোবাইল সংগ্রহ কেন্দ্র-উভয় রূপেই কাজ করবে।

এদিন সিঙ্গুরের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সিঙ্গুর আমার প্রিয় জায়গা। আমার আন্দোলনের একটা বড় অংশ ২০০৬ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত জুড়ে রয়েছে সিঙ্গুর। এই সিঙ্গুরের মাটিতে আমি অনেকগুলো দিন কাটিয়েছি। রাস্তায় পড়ে থেকেছি। সিঙ্গুরের মানুষরা বাড়ি থেকে কেউ মুড়ি, চিড়ে, নারকেল নারু নিয়ে এসেছে। যারা ধর্নায় বসেছিল তাঁদের জন্য কেউ সবজি নিয়ে এসেছে। আমি সিঙ্গুর আন্দোলনের জন্য ২৬ দিন অনশন করেছি। তাই সকলকে অভিনন্দন জানাই। আপনারা আমার চেতনা। সিঙ্গুরের পাশেই ফুরফুরা শরিফ। তার উন্নয়ন বোর্ড তৈরি করেছি। ১০০ বেডের হাসপাতাল করেছি। পাশেই তারকেশ্বরে মন্দির উন্নয়ন করেছি। এছাড়া কামারপুকুর জয়রামবাটি, সেখানেও উন্নয়নের জন্য ১০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেললাইন আমি করে গেছিলাম। ওরা সেটার ফিতে কেটেছে। আমি করে গেছিলাম কারণ ওখানে কোনও রেললাইন ছিল না। রাজ্যের সব জেলা মিলিয়ে মোট ১৬৯৪টি পরিষেবার উদ্বোধন ও শিলান্যাস করা হয়েছে। যার মোট মূল্য ৩৩ হাজার ৫৫১ কোটি টাকা। বাংলার বাড়ি আগে আমরা এক কোটি করে দিয়েছি। কিছুদিন আগেও ১২ লক্ষ বাড়ি দিয়েছি। আজ ২০ লক্ষ মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে। দিল্লি এক পয়সাও দেয় না। যারা টাকা পেয়ে যাবেন সঙ্গে সঙ্গে ইট গাঁথতে শুরু করে দেবেন। মোট ৩২ লক্ষ হল। আর যেটুকু বাকি রইল আগামী দিনে ধাপে ধাপে করে দেওয়া হবে। আমি চাইনা কেউ কষ্ট করে থাকুন। দুর্যোগে যাদের বাড়ি ভেঙেছে তাঁদের বাড়িও করে দিলাম।” 

সিঙ্গুরের শিল্প প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সিঙ্গুরের মানুষ, যারা জমি হারিয়েছিল আজও তাঁরা টাকা পায়। সম্পূর্ণ খাদ্যসাথী পায়। স্বাস্থ্যসাথী পায়। লক্ষীর ভান্ডার পায়। কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এখানে আট একর জমির উপর ৯ কোটি ২০ লক্ষ টাকা খরচ করে ‘সিঙ্গুর এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক’ গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানকার ২৮টি প্লটের মধ্যে ২৫টি বরাদ্দ হয়ে গেছে। কর্মসংস্থান হবে। কৃষিও চলবে, শিল্পও চলবে। কৃষিজমি দখল করে শিল্প নয়।” 

এখানেই থামেননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, “আরও একটি প্রকল্প আমরা হাতে নিয়েছি। এসএআইপি-র অধীন, ৭৭ একর জমিতে প্রাইভেট ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক সিঙ্গুরে হচ্ছে। অ্যামাজন এবং ফ্লিপকার্ট এখানে বড় ওয়্যার হাউস তৈরি করছে। হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। আমরা মুখে বলি না। কাজে করে দেখাই। একশো দিনের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। ওরা মহাত্মা গান্ধীর নাম তুলে দিয়েছে। আমরা মহাত্মা গান্ধীর নামে মহাত্মাশ্রী, কর্মশ্রী প্রজেক্ট চালু করেছি। একশো দিনের কাজ বাংলায় চলছে এবং চলবে। রাজ্যের টাকায় চলবে। ভিক্ষা করব না।”