বীরসা মুন্ডার ১৫১ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পূর্ব বর্ধমানে তিনদিন ব্যাপী জয় জোহার মেলা
Sangbad Prabhati, 15 November 2025
অভিরূপ আচার্য ও অতনু হাজরা : বীর সংগ্রামী শহীদ বিরসা মুন্ডা-র ১৫১ তম জন্ম বার্ষিকী সারা রাজ্যের সঙ্গে পূর্ব বর্ধমান জেলায়ও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়। পূর্ব বর্ধমানে জেলার মূল অনুষ্ঠানটি হয় পাহাড়হাটি গোলাপমনি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও মেমারী-২ ব্লক এবং মেমারী-২ পঞ্চায়েত সমিতির ব্যবস্থাপনায় ১৫ নভেম্বর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ।
উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার, সহকারী সভাধিপতি গার্গী নাহা, জেলা শাসক আয়েশা রাণী এ, বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য, অলক মাঝি, বর্ধমান বিভাগীয় বনাধিকারিক নিশা গোস্বামী, মেমারী-২ নং পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতি ময়না হালদার টুডু, মেমারী-২ ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সৌম্যজিৎ বসু, জেলা অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ ও আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের প্রকল্প আধিকারিক পার্থ প্রতিম দাস, জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি দেবু টুডু প্রমুখ।
পাহাড়হাটি গোলাপমনি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বীর সংগ্রামী শহীদ বিরসা মুন্ডা-র ১৫১ তম জন্ম বার্ষিকী উদযাপনের সঙ্গে ৩ দিন ব্যাপী জয় জোহার মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এই উপলক্ষে আদিবাসী সমাজের মানুষজনের হাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু পরিষেবাও তুলে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে জামালপুর ব্লকে বীরসা মুন্ডার পবিত্র জন্মদিন উপলক্ষে তিনদিন ব্যাপী জয় জোহার মেলা শুরু হয়েছে রঙ্কিনি মহুলা মন্দির সংলগ্ন মাঠে। ১৫ নভেম্বর এই মেলার উদ্বোধন করেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামা প্রসন্ন লোহার। ছিলেন বিধায়ক অলক কুমার মাঝি, তৃণমূল কংগ্রেসের জামালপুর ব্লক সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মেহেমুদ খাঁন, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পূর্ণিমা মালিক, সহ সভাপতি ভূতনাথ মালিক, বিডিও পার্থ সারথী দে, জয়েন্ট বিডিও অরিন্দম চন্দ, ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ শঙ্খ শুভ্র দাস, দুই জেলা পরিষদের সদস্য শোভা দে ও কল্পনা সাঁতরা, আদিবাসী সমাজের মাজি বাবারা, চকদিঘি অঞ্চল প্রধান অসীমা বাগ সহ অন্যান্যরা। ছিলেন এই মেলার অন্যতম উদ্যোক্তা তারক টুডু, ছিলেন প্রবীর নায়েক সহ অন্যান্য শিক্ষকরা।
সভাধিপতি তাঁর বক্তব্যে বলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বদাই চান এই আদিবাসী সমাজের মানুষরা সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসুক। তাই এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর আদিবাসী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন মনিষী যারা দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন তাদের জন্মদিন এবং মৃত্যুদিন সাড়ম্বরে পালন করে তাদের প্রতি সম্মান জানানোর ব্যবস্থা করেন।
১৫ নভেম্বর বিরসা মুন্ডার জন্মদিনেও সারা রাজ্য জুড়ে এই জয় জোহার মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী একের পর এক প্রকল্প নিয়ে এসেছেন এই আদিবাসী পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর জন্য। তিনি সকলকে আহ্বান জানান, সবাই যেন মুখ্যমন্ত্রীর এই কর্মযজ্ঞে নিজেদেরকে সামিল করেন। মেহেমুদ খাঁন বলেন ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তৃণমূল সরকার আদিবাসী সমাজের মানুষদের আলাদাভাবে সম্মান দিয়ে সমাজে মূল স্রোতে নিয়ে আসতে চাইছেন। সেই কারণেই আদিবাসী সমাজের যারা মহাপুরুষ তাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাদের জন্মদিন এবং মৃত্যু দিবস পালন করা হচ্ছে। আজ বিরসা মুন্ডার জন্মদিনে এই জয় জোহর উৎসবে তিনি সকল আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন রাজ্য সরকার বিভিন্নভাবে নানা প্রকল্পের মাধ্যমে এই পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর মানুষগুলোকে সমাজের মূল আঙিনায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। আদিবাসী সমাজের মানুষদের জন্য নানা সামাজিক সুরক্ষা এবং প্রকল্প চালু করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন মেলায় যে সমস্ত ক্যাম্প করা হয়েছে সেই ক্যাম্পে বিশেষ করে স্বাস্থ্য বিষয়ক যে ক্যাম্প সেখানে আদিবাসী সমাজের মানুষজন তাদের চোখ দেখাতে পারবেন এবং এস আই আর এর ফর্ম ফিলাপ করার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা আছে কেউ যদি তাদের এস আই আর এর ফরম ফিলাপ করতে অসুবিধায় পড়ে তাহলে এখান থেকে সেটা করে দেওয়া হবে। বিধায়ক তার বক্তব্যে বলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যে উন্নয়ন সেই উন্নয়নে অংশীদার এই আদিবাসী সমাজের মানুষরাও। তারাও যে সমাজের মূল অংশ তারা পিছিয়ে পড়া নয় এইটা ভাবানোর জন্যই একাধিক প্রকল্পের সূচনা করেছেন তিনি। তিনি এই মেলার সাফল্য কামনা করেন। বিডিও পার্থ সারথী দে তিনি বলেন আদিবাসী সমাজের মানুষকে তাদের ঘরের বাচ্চাদের শিক্ষার আঙিনায় অবশ্যই নিয়ে আসতে হবে। কারণ শিক্ষাই মানুষের মধ্যে চেতনা নিয়ে আসতে পারে। কোনভাবেই তাদের ছেলে মেয়েরা যেন স্কুলছুট না হয়। এছাড়াও তিনি আদিবাসী সমাজের মানুষের কাছে আবেদন রাখেন যে যেন বাল্যবিবাহ তারা কোনমতে না দেন। এছাড়াও এসআইআর ফর্ম সংক্রান্ত কোনো সমস্যা হলে স্থানীয় ভাবে সমস্যা না মিটলে তিনি সরাসরি ব্লকে যোগাযোগ করতে বলেন। তিন দিন ধরে চলবে এই আদিবাসী মেলা। খেলাধুলা গান-বাজনা সহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকছে। উদ্বোধনে এই জয় জোহর মেলার অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে পরিচালনা করেন রবিন মান্ডি।
এছাড়া এদিন বর্ধমানের নবাবহাট সংলগ্ন তালপুকুরে স্বাধীনতা সংগ্রামী ও সমাজ সংস্কারক ভগবান বিরসা মুন্ডার জন্মজয়ন্তীতে তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ্য নিবেদনের মাধ্যমে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হলো স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আমার পাঠশালার উদ্যোগে।
এদিনের অনুষ্ঠানে পিছিয়ে পড়া, সুবিধা বঞ্চিত শিশু ও প্রবীণ সহ মোট ৭০ জনের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় ও সেই সঙ্গে আপেল,কমলা লেবু, খেজুর, লাড্ডু সহযোগে পুষ্টির দিশা কর্মসূচির মাধ্যমে পুষ্টিকর খাদ্য সামগ্রীও বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাক্তার অচিন্ত্য কুমার রায়,ডাক্তার ইউসুব মন্ডল, ডাক্তার ওয়াসেফ আলী এবং ডাক্তার চন্দন ভট্টাচাৰ্য সহ বিশিষ্ট সঞ্চালক ও সাংবাদিক শ্যামাপ্রসাদ চৌধুরী এবং বিশিষ্ট কবি ও সঞ্চালক শেখ জাহাঙ্গীর। আমার পাঠশালার পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সম্পাদক সন্দীপ পাঠক, সহসভাপতি কামরুজ্জামান চৌধুরী ও মোশারফ হোসেন।












