জামালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে বাল্যবিবাহ রোধ ও বিদ্যালয় ছুট ছাত্র-ছাত্রী বিষয়ে আলোচনা সভা
Sangbad Prabhati, 22 July 2025
অতনু হাজরা, জামালপুর : পূর্ব বর্ধমানের জেলা শাসক আয়েশা রাণী এ বিশেষ ভাবে নজর দিয়েছেন জেলার বিদ্যালয়গুলি যেন অবিলম্বে বাল্য বিবাহ রোধে ও বিদ্যালয় ছুট ছাত্র ছাত্রী বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে এনে শিক্ষার আঙিনায় ফিরিয়ে আনার জন্য যেনো দ্রুত পদক্ষেপ করে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বিডিও সাহেব ও এস আই সাহেবদের তত্ত্বাবধানে জামালপুর ব্লকের প্রতিটি স্কুল বাড়ি বাড়ি ভিজিট করছে বিদ্যালয় ছুট ছেলে মেয়েদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনতে। তারই সাথে সাথে অভিভাবকদের সচেতন করছে যাতে কোনো ভাবেই ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিবাহ না দেয়। এই বিষয়ে সচেতনতা মূলক ভাবে বিভিন্ন কাজ স্কুল গুলি করে যাচ্ছে। আজ জামালপুর হাই স্কুলে বাল্য বিবাহ রোধ ও বিদ্যালয় ছুট ছাত্র ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে একটি সচেতনতা মূলক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীদের নিয়ে।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক অলক কুমার মাঝি, পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধক্ষ্য মেহেমুদ খাঁন, এ আই অফ স্কুলস অরুন কুমার মন্ডল, এস আই জামালপুর চক্র অনিন্দিতা সাহা, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রবীর কুমার নায়েক, বিশিষ্ট শিক্ষক পীযূষ কুমার দাস, শিক্ষক ও সাংবাদিক অতনু হাজরা, শিক্ষানুরাগী অঞ্জন মুখার্জী, অরূপ মল্লিক,সহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকারা।
বিধায়ক উপস্থিত ছাত্রীদের সামনে বর্তমান সরকার মেয়েদের শিক্ষার জন্য কী কী করেছেন তা সবিস্তারে তুলে ধরেন। তিনি মেয়েদের বলেন আগামীতে তাদের মধ্য থেকেই হয়তো অনেকেই জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবে। প্রত্যেক মেয়েকে নিজে পায়ে দাঁড়িয়ে সাবলম্বী হতে হবে। তবেই সমাজ এগিয়ে যাবে। তাই কোনো ভাবেই স্কুল কামাই করা যাবে না। আর অল্প বয়সে বিবাহ তো কোনমতেই করা যাবে না।
মেহেমুদ খাঁন তাঁর বক্তব্যে বলেন এই জামালপুর থেকেই বর্তমানে অনেক মহিলাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কেউ ডাক্তার, কেউ শিক্ষক, কেউ প্রফেসর সহ বিভিন্ন পেশায় নিযুক্ত হয়েছে। এটা একটা বিশেষ গর্বের বিষয়। তিনি মেয়েদের তাদের স্কুলের দিদিমনি দের মত হওয়ার জন্য বলেন। তিনি বলেন আগে তাদের সচেতন হতে হবে অল্প বয়সে বিবাহ হলে অল্প বয়সেই সে মা হবে আর এতেই মেয়েদের শরীর , স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যায়। অনেক সময় জীবনহানীর ও আশঙ্কা থাকে। তাই প্রত্যেককে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসতে হবে। কোনো ভাবেই স্কুল ছুট হওয়া যাবে না।
অরুণ বাবু যিনি বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন করে থাকেন তিনি ছাত্রীদের সুন্দর ভাবে ড্রপ আউট কী কেনো ড্রপ আউট হয় বা প্রবণতা বাড়ে সে বিষয়ে বিস্তারিত বলেন। তিনি বাল্য বিবাহের সুফল কুফল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এস আই অনিন্দিতা সাহা বলেন এই ধরনের অনুষ্ঠান বিদ্যালয়গুলোকে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে করতে হবে। তিনি মেয়েদের উদ্দেশ্যে বলেন সরকার এত কিছু ব্যবস্থা করছেন শুধু তাদের জন্যই। তাই মেয়েদেরও দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রবীর কুমার নায়েক বলেন আজকের এই আলোচনায় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা যা বক্তব্য রাখলেন তাতে ছাত্রীরা যথেষ্ট সমৃদ্ধ হবে। তিনি বলেন তাঁর সরবত ভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন স্কুল ছুট দের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনতে। তাঁর স্কুলের কন্যাশ্রী ক্লাব সচেতন ভাবে কাজ করে চলেছে।তিনি ছাত্রীদের উদ্যেশ্যে বলেন পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি তাদের বৃত্তিমূলক শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। যাতে তারাও নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে।