দীঘা থেকে কুলিন গ্রাম : রথযাত্রার উৎসবে মানুষের ঢল
Sangbad Prabhati, 27 June 2025
অতনু হাজরা, জামালপুর : রথযাত্রার পূণ্য দিনে দীঘা থেকে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা আচার অনুষ্ঠান ও পূজা সরকারি নির্দেশে প্রতিটি ব্লকে জায়ান্ট স্কিনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। সেই মোতাবেক পূর্ব বর্ধমানের শহর থেকে গ্রামে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রথযাত্রার সামগ্রিক অনুষ্ঠান দেখার সুযোগ পেয়ে সাধারণ মানুষ খুশি।
জামালপুরে ব্লক অফিসে একটি জায়ান্ট স্কিনের মাধ্যমে দীঘার জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা লাইভ দেখানো হয়। অনুষ্ঠান দেখতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিডিও পার্থ সারথী দে, পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি ভূতনাথ মালিক পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মেহেমুদ খাঁন সহ অফিসের কর্মীরা ও অন্যান্যরা। মেহেমুদ খাঁন বলেন দীঘায় জগন্নাথ দেবের মন্দির প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর এই প্রথম রথযাত্রা উৎসব হচ্ছে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য সহ সমস্ত মানুষকে দেখার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। যারা সরাসরি দীঘায় পৌঁছাতে পারবেন না বা পুরি যেতে পারেন না তারা নিজেরাই ঘরে বসে এই রথ যাত্রার অনুষ্ঠান দেখতে পাবেন। তিনি মা মাটি মানুষের সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
এরপর বিকালে বিডিও পার্থ সারথী দে এবং পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মেহেমুদ খাঁন যান জামালপুরের অন্যতম এক ঐতিহ্যশালী প্রায় ৭০০ বছরের ইতিহাস প্রসিদ্ধ কুলীনগ্রামের রথ দেখতে। তাঁরা সেখানে গিয়ে সরেজমিনে দেখেন সব ঠিক আছে কিনা। সেখানে তাঁরা জগন্নাথ দেব, বলরাম এবং সুভদ্রার উদ্দেশ্যে ভক্তিপূর্ণ প্রণাম জানান।
জামালপুর ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক পার্থ সারথি দে বলেন, কুলিন গ্রামের রথের একটা ঐতিহ্য আছে। এটি একটি এমন গ্রাম যেখানে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর পদধূলি পড়েছে। শ্রীকৃষ্ণ বিজয় রচয়িতা মালাধর বসুর জন্মস্থান এটি। তিনি শুনেছেন একটা সময় এখান থেকে পট্ট দড়ি যেতো পুরীর জগন্নাথ দেবের রথে। সব মিলিয়ে এই রথের ঐতিহাসিক একটি গুরুত্ব আছে। এখানে আসতে পেরে তাঁর খুবই ভালো লাগছে।
মেহেমুদ খাঁন বলেন, প্রায় ৭০০ বছরের জগন্নাথ দেবের মন্দির এটি। যদিও পুরানো মন্দিরটি এখন নেই। নতুন মন্দিরেই রাখা আছে বিগ্রহ। এই রথের একটি ইতিহাস আছে। কুলিন গ্রামের সাথে শ্রীচৈতন্যদেব, যবন হরিদাস ও মালাধর বসুর নাম জড়িয়ে আছে। তাই এই গ্রাম একটি পুণ্যভূমি। তিনি প্রতিবছরই এখানে আসেন। কারণ পশ্চিমবঙ্গ এমন একটি জায়গা যেখানে ধর্ম যার যার উৎসব সবার। তাই সকল সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগদান করে।
রথ যাত্রা উপলক্ষ্যে কুলিন গ্রামে প্রচুর জনসমাগমও হয়। মানুষের ঢল সামাল দিতে জামালপুর থানার পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। এদিন আবুজহাটি অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিপুল সংখ্যক তৃষ্ণার্ত মানুষের জন্য জলসত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।