Scrooling

উচ্চ মাধ্যমিকের পর নিটেও রাজ্যে প্রথম বর্ধমানের রূপায়ণ পাল। # উচ্চমাধ্যমিক ২০২৫ প্রথম দশে ৭২ জন। প্রথম হয়েছে রূপায়ন পাল। রূপায়ন বর্ধমান সিএমএস হাইস্কুলের ছাত্র। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৭ ( ৯৯.৪ শতাংশ) # ২০২৫ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যে প্রথম রায়গঞ্জের করোনেশন হাইস্কুলের অদৃত সরকার। প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৬ নম্বর # ষষ্ঠ সিন্ধু জিব্রাল্টার জয় করে ইতিহাসের পাতায় সায়নী # বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ, শুভেচ্ছা বার্তা পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় # 'দাদাসাহেব ফালকে' সম্মানে ভূষিত হলেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী

পিঠেপুলি পার্বণে তেজগঞ্জ হাই স্কুলের অভাবনীয় উদ্যোগ প্রশংসিত


 

পিঠেপুলি পার্বণে তেজগঞ্জ হাই স্কুলের অভাবনীয় উদ্যোগ প্রশংসিত 


Sangbad Prabhati, 14 January 2025

ডিজিটাল ডেস্ক রিপোর্ট, সংবাদ প্রভাতী : পঠন পাঠনের পাশাপাশি যেসব স্কুল ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্তের স্বাক্ষর রাখে তার মধ্যে বর্ধমান তেজগঞ্জ হাই স্কুল অন্যতম। আনন্দদায়ক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক সন্দীপ কুমার চক্রবর্তী এবং পরিচালন কমিটির সভাপতি নিতাই চন্দ্র কাইতি সহ সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা শিক্ষা কর্মীর উদ্যোগে ১৪ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল খাদ্য মেলা ও পিঠে পুলি পার্বণ উৎসব।

পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীরা সম্পূর্ণ নিজেদের উদ্যোগে বাড়ি থেকে তৈরি করে নিয়ে আসে নানান ধরণের পিঠেপুলি। এইসব পিঠে পুলির তালিকায় ছিল সিদ্ধ পিঠে, সরু চাকলি থেকে শুরু করে প্রদীপ পিঠে, ভেগান পিঠে, পনির পিঠে, পিঠে অরেঞ্জ,খেজুর গুড়ের পিঠে, রসমালাই, মালাই পাটিসাপটা, ভাজা পিঠে, চুষি পিঠে, পুর পিঠে, মালপোয়া, দুধপুলি, ক্ষীর পিঠে, পালং শাকের পাটিসাপটা, তেল পিঠে, গোল্লা পিঠের মতো রকমারি পিঠের আয়োজন। ছাত্রীরা ঢেঁকিতে পেষাই চাল গুঁড়ো দিয়ে নিজেদের অপটু হাতে যা বানিয়েছে তা এক কথায় অমৃত। সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী বৃষ্টি বিশ্বাস এবং সৌমী রুজ জানায়, " বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই ধরণের উৎসবে অংশগ্রহণ করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এই পিঠে পুলি আমার এই ছোট্ট জীবনে আমার হাতের প্রথম রান্না। তাই এগুলো যদি আপনাদের ভালো লাগে তাহলে ভীষণ ভালো লাগবে"। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সুপ্রিম সুলতানা, শিবানী ক্ষেত্রপাল এবং পূজা কর্মকার এদের উৎসাহ উদ্দীপনার শেষ নেই। তারা এই প্রতিবেদককে জানায় তাদের এই পিঠে পুলি বানাতে মা এবং ঠাকুমারা সাহায্য করেছেন। অল্প সময়ের মধ্যে হলেও কি করে বানাতে হয় তারা তা শিখে নিয়েছে। তাই নবসৃষ্টির আনন্দে তারা মাতোয়ারা । আনন্দের কথা বিদ্যালয়ের তরফেও আজ মিড ডে মিলে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পিঠে পুলির আয়োজন করা হয়। এই প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিশ্বরূপ দাস জানান,"রসনা প্রিয় বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব এই পিঠে পুলি পার্বণ উৎসব। তাই এই আনন্দের দিনে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি সহ বিদ্যালয়ে উপস্থিত কোন ছাত্র-ছাত্রী  যাতে এই পিঠেপুলির স্বাদ থেকে বঞ্চিত না হয় তার জন্য এই আয়োজন।"

যাইহোক এই পিঠে পুলি উৎসবের আয়োজনকে প্রাণভরে উপভোগ করতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে উপস্থিত ছিলেন সর্বশিক্ষা মিশনের কোঅডিনেটর সহ জেলা শিক্ষা আধিকারিক পৌষালি চক্রবর্তী। তিনি এই উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন। ছাত্র-ছাত্রীদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন "রন্ধনের মধ্যেই জড়িয়ে থাকুক ছাত্র-ছাত্রীদের ভালোবাসার বন্ধন। পঠন পাঠনের পাশাপাশি  এই ভাবেই সৃজনশীলতা চলতে থাকুক। শীতের হাওয়ায় লাগুক নাচন আমলকির ওই ডালে ডালে। পত্র পুষ্পে শোভিত হোক তেজগঞ্জ হাইস্কুল"। প্রসঙ্গক্রমে তিনি আরো জানান " তেজগঞ্জ  হাইস্কুলের ছাত্রছাত্রীরা সত্যিই আমাকে অবাক করে দিয়েছে। ওদের ভালোবাসা, আতিথেয়তা এবং সহজ সরল সত্যবাদিতার সাথে অভিনব চিন্তা ভাবনা আমাকে মোহিত করেছে "।