চৈতন্য মহাপ্রভু'র নামে নব নির্মিত তোরণ উদ্বোধন কাটোয়ার দাঁইহাটে

বিদ্যালয়ের কিচেন গার্ডেনের সব্জি দিয়েই চলছে মিড ডে মিল




বিদ্যালয়ের কিচেন গার্ডেনের সব্জি দিয়েই চলছে মিড ডে মিল




Atanu Hazra
Sangbad Prabhati 5 April 2024

অতনু হাজরা, জামালপুর : পড়ুয়াদের মিড ডে মিলের পাতে কোনোদিন এ্যাঁচড় চিংড়ি, কোনো দিন শাক পোস্ত, তো কোনদিন ঢেঁড়স, আবার কোনোদিন পাঁচমিশালি সবজির তরকারি। আর পড়ুয়ারা সব আনন্দের সাথে মজা করে ও তৃপ্তিতে খাচ্ছে। আর এই সব সবজি তাদের নিজের স্কুলেরই সবজি বাগানে তারা নিজেরাই ফলিয়েছে। সরকারি ভাবে রাজ্যের বিভিন্ন ব্লকের বিভিন্ন স্কুলকে কিচেন গার্ডেন করার জন্য অনুদান দেওয়া হয়েছিল। তাতেই অনেক স্কুলই নিজেদের স্কুলের মধ্যে করেছিলো কিচেন গার্ডেন। এখন সেখান থেকেই তাঁরা সবজি নিয়ে চালাচ্ছেন মিড ডে মিল। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের এরকম তিনটি স্কুলে এই চিত্র ধরা পড়লো।

 চৌবেরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝাপানডাঙ্গা সাবিত্রী দেবী বালিকা বিদ্যালয় ও রেওরা প্রাথমিক বিদ্যালয় এই তিনটি স্কুলে শিক্ষক শিক্ষিকা ও ছাত্র ছাত্রীরা সকলে মিলে অতি যত্ন সহকারে নিজেদের স্কুলে তৈরি করেছেন কিচেন গার্ডেন। ফলিয়েছেন বিভিন্ন সবজি যা দিয়েই তারা ছোট ছোট বাচ্চাদের মিড ডে মিলে সবজির জোগান দিয়ে যাচ্ছেন। সাবিত্রী দেবী বালিকা বিদ্যালয়ে সবজি বাগানের সাথে রয়েছে কাঁঠাল গাছ। এই কাঁঠাল গাছের এ্যাঁচড় দিয়েই বাচ্চাদের পাতে তারা দিতে পারছেন এ্যাঁচড় চিংড়ি। দুই প্রাথমিক বিদ্যালয় ফলানো হয়েছে বিভিন্ন শাক। খুদে পড়ুয়াদের পাতে দিচ্ছেন শাক পোস্ত। চৌবেরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিব্যেন্দু সেনশর্মা বলেন তাঁরা বিদ্যালয়ে সবজির বাগান করে সেখানে নানান ধরনের সবজি ফলিয়েছেন এবং সেই সবজি দিয়েই তাঁরা মিড ডে মিল চালান। 

তাঁরা নিজেরাই সবজি বাগানের দেখাশোনা করেন। তিনি আরো বলেন নিজেদের বাগানে ফলানো সতেজ সবজি ছাত্র ছাত্রীরা পায় যাতে কোনো কীটনাশক দেওয়া থাকে না। রেওড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুদীপ্ত কুমার ঘোষ বলেন বিদ্যালয়ের সবজির বাগানে সবজি ফলানোর ফলে ছাত্র ছাত্রীরা যেমন টাটকা, তাজা সবজি পায় তেমন তাদের বাগান তৈরির উপর একটা ঝোঁক তৈরি হয় যা তাদের ভবিষ্যতে অনেক কাজে দেবে। আর নিজেদের বাগানের সবজি রান্না করলে খরচও কিছুটা কমে। যার ফলে তাঁরা কোনো কোনো দিন ছাত্র ছাত্রীদের স্পেশাল নিউট্রিশন হিসাবে অন্যান্য খাবার দিতে পারেন যেমন তাঁরা আখের রস বাচ্চাদের খাইয়েছেন। 

সাবিত্রী দেবী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জয়তী আইচ মিত্র বলেন তাঁদের বিদ্যালয়ে সবজির বাগানের সাথে তাঁরা বিদ্যালয়ে কাঁঠাল গাছ বসিয়েছেন। তাতে এখন অনেক এ্যাঁচড় ধরেছে। তাই দিয়েই তাঁরা ছাত্রীদের এ্যাঁচড় চিংড়ি খাওয়াচ্ছেন। আর ছাত্র ছাত্রীরা প্রতিদিন খাবার মেনুতে নিত্য নতুন জিনিস পাওয়াতে খুবই মজা করে খাচ্ছে। জামালপুরের বিডিও পার্থ সারথী দে বলেন, তাঁরা প্রতিটি বিদ্যালয়কেই এই বিষয়ে উৎসাহ দিচ্ছেন যাতে কম বেশি সকলেই নিজেদের বিদ্যালয়ে কিচেন গার্ডেন করেন। এর জন্য সরকারি অনুদান ও পাওয়া যায়। তবে ব্লকের বিভিন্ন স্কুলে নিজেদের সবজির বাগানের সবজি দিয়েই মিড ডে মিল রান্নার ব্যাপারটায় তিনি বিদ্যালয়গুলোর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন প্রয়োজনে তিনি নিজে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে যাবেন কিচেন গার্ডেন দেখতে। 

জামালপুর ব্লকের দুই অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক রাজেন্দ্র প্রসাদ মাজি ও অনিন্দিতা সাহা এই তিনটি স্কুলের যথেষ্ট সুনাম করেন ও বিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান। নিজেদের বিদ্যালয়ের সবজির বাগানের সবজি দিয়ে সুন্দর ভাবে মিড ডে মিল চালানোর জন্য। তাঁরা বলেন ব্লকের আরো অনেক বিদ্যালয়েই এরকম কিচেন গার্ডেন আছে। তাঁরা সারাবছরই বিদ্যালয় গুলির সাথে এবিষয়ে যোগাযোগ রাখেন। তবে প্রতিটি স্কুল যদি এই ভাবে নিজেদের স্কুলেই কিচেন গার্ডেন করে সবজি ফলিয়ে রান্না করে বাচ্চাদের খাওয়ায় তাহলে একদিকে যেমন বাচ্চারা টাটকা, তাজা সবজি পাবে যাতে কোনরকম বিষাক্ত কীটনাশক থাকবেনা, বিদ্যালয়ে বাগান হবার ফলে বিদ্যালয় হবে পরিবেশ বান্ধব এবং খরচও কিছুটা সাশ্রয় হবে।