চৈতন্য মহাপ্রভু'র নামে নব নির্মিত তোরণ উদ্বোধন কাটোয়ার দাঁইহাটে

Ladies Compartment রেলওয়েতে মহিলা বগির ইতিহাস


 

Ladies Compartment

রেলওয়েতে মহিলা বগির ইতিহাস




Sangbad Prabhati, 26 March 2024

ডিজিটাল ডেস্ক রিপোর্ট, সংবাদ প্রভাতী : রেলওয়েতে মহিলাদের বগিগুলির প্রবর্তনের একটি সমৃদ্ধ এবং আকর্ষণীয় ইতিহাস রয়েছে যা বিশ্বজুড়ে মহিলাদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করেছে। আজ, আমরা এর উৎস এবং বিবর্তন বোঝার জন্য এই ইতিহাসের দিকে তাকাই।

ট্রেনে মহিলাদের জন্য ডেডিকেটেড বগির ধারণাটি ১৯ শতকের শেষের দিকের। অনেক সমাজে, নিরাপত্তার উদ্বেগ এবং সামাজিক নিয়মের কারণে মিশ্র-লিঙ্গের বগিতে ভ্রমণ করার সময় মহিলারা বিভিন্ন অসুবিধা এবং অস্বস্তির সম্মুখীন হন।

একটা সময় ছিল যখন মহিলারা মিশ্র-লিঙ্গের বগিতে ভ্রমণ করতে বাধ্য হতো, তার জন্য তাদের মর্যাদা ক্ষুন্ন হতে পারে, এই কথা চিন্তা করে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত বগীর দাবি উঠতে থাকে 

যেহেতু তখন মেয়েদের জন্য আলাদা কোন সংরক্ষিত বগি ছিল না, ১৮৬৯ সালে, ভারত সরকার বাংলাদেশের সরকারি কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশের পর কার্যক্রম শুরু হয়। 

সরকারি নির্দেশ পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে রেল কোম্পানিগুলো। ১৮৬৯ সালের শেষের দিকে মেয়েদের জন্য একটি আলাদা বগি তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। নারীদের সুবিধার্থে একজন ইউরোপীয় মহিলা গার্ড উপস্থিত থাকবেন। সেই বগিতে শুধুমাত্র মহিলারা চড়তে পারবে তাদের নিকটজনেরা কাছাকাছি বগিতে থাকবে।

মেয়েদের জন্য আলাদা বগি তৈরির নির্দেশ পেয়ে ভারতীয় রেলওয়ে কোম্পানি মহিলাদের জন্য বেশ কিছু আলাদা কোচ তৈরি করেছে, সময়ের সাথে সাথে, ধারণাটি জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং সারা বিশ্বে রেলওয়েতে ছড়িয়ে পড়ে। ভারতে, উদাহরণস্বরূপ, মহিলাদের বগিগুলির প্রবর্তন মহিলা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল, বিশেষত দূর-দূরত্বের যাত্রার সময়৷ ভারতীয় রেলওয়ে মহিলা যাত্রীদের বিভিন্ন চাহিদা মেটাতে স্থানীয় এবং দূর-দূরত্বের পরিষেবা সহ বিভিন্ন শ্রেণীর ট্রেনে ডেডিকেটেড মহিলাদের বগি প্রয়োগ করেছে।

এই প্রয়োজনকে স্বীকৃতি দিয়ে, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র মহিলা যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট বগি নির্ধারণ করতে শুরু করে। ১ জুন, ১৯৩০ সালে, ডেকান কুইন ছিল ভারতের "প্রথম সুপারফাস্ট বৈদ্যুতিক ট্রেন, যাতে শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য একটি বগী ছিল ।

৫ মে ভারতীয় রেলওয়ের মহিলা যাত্রীদের উদযাপন করার একটি বিশেষ কারণ রয়েছে ৷ বিশ্বের প্রথম লেডিস স্পেশাল ট্রেনটি চার্চগেট এবং বোরিভালির মধ্যে ৫ মে, ১৯৯২ সালে চালু হয়েছিল। এখন প্রতিটি ট্রেনে তা ইএমইউ, ডিইএম, প্যাসেঞ্জার এবং সুপার ফাস্ট প্যাসেঞ্জার ট্রেন হোক না কেন তাতে একটি মহিলা বগি রয়েছে।

ইস্টার্ন রেলওয়েতে মহিলা বিশেষ (মাতৃভূমি লোকাল) ট্রেনগুলি মহিলা যাত্রীদের জন্য নিরাপদ এবং সুবিধাজনক ভ্রমণের বিকল্প প্রদানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এখন ইস্টার্ন রেল জুড়ে ৬ টি মহিলা স্পেশাল (মাতৃভূমি লোকাল) ট্রেন চলছে যা শিয়ালদহ ডিভিশন থেকে ৫ টি এবং হাওড়া ডিভিশন থেকে ১ টি। এগুলি হল শিয়ালদহ থেকে ক্যানিং, শিয়ালদহ থেকে কৃষ্ণনগর শহর, শিয়ালদহ থেকে রানাঘাট, শিয়ালদহ থেকে বনগাঁ জংশন, শিয়ালদহ থেকে বারাসাত এবং হাওড়া থেকে ব্যান্ডেল।

প্রধানত কর্মরতা মহিলারা এই লেডিস স্পেশাল ট্রেনটিতে যাতায়াত করেন এবং যাতায়াত চলাকালীন তারা নিজেদের অনেক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।