Scrooling

নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রীসভায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে শপথ নিলেন ডঃ সুকান্ত মজুমদার ও শান্তনু ঠাকুর # অ্যালার্জিজনিত সমস্যায় ভুগছেন ? বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ অয়ন শিকদার আগামী ২১ জুলাই বর্ধমানে আসছেন। নাম লেখাতে যোগাযোগ 9734548484 অথবা 9434360442 # আঠারো তম লোকসভা ভোটের ফলাফল : মোট আসন ৫৪৩টি। NDA - 292, INDIA - 234, Others : 17 # পশ্চিমবঙ্গে ভোটের ফলাফল : তৃণমূল কংগ্রেস - ২৯, বিজেপি - ১২, কংগ্রেস - ১

ছাত্র ছাত্রীরা নিজের হাতে বিদ্যালয়ে আয়োজন করলো থিমের পুজো


 

ছাত্র ছাত্রীরা নিজের হাতে বিদ্যালয়ে আয়োজন করলো থিমের পুজো 




Atanu Hazra
Sangbad Prabhati, 14 February 2024

অতনু হাজরা, জামালপুর : পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের অন্যতম একটি প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেরুগ্রাম আচার্য্য গিরিশ চন্দ্র বসু বিদ্যাপীঠ। আগামী ২০২৫ সালে ৭৫ বছরে পদার্পণ করবে এই বিদ্যালয়। এবার সরস্বতী পুজো উপলক্ষ্যে বিদ্যালয়ে এক অন্য চিত্র দেখা গেলো। বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছাত্রীরা পুরো পুজোর দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে। তারা নিজের হাতে তৈরি করেছে মন্ডপ। তাদের মন্ডপের থিম প্রাচীন কালের মানুষের ঘর। কাদা, কাপড়, বাঁশ ও খড় দিয়ে তারা তৈরি করেছে এই মন্ডপ। 

একাদশ শ্রেণীর ছাত্র সৌমেন রুইদাস নিজের হাতে সমস্ত আঁকার কাজ ও অন্যান্য হাতের কাজ গুলি করেছে। তাকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সাহায্য করে তার সহপাঠী কৃষ্ণা, নাহার, শামীম, নাজরীন, সুদীপ, সৃজনী, সাহিল, মেহরাব, নাসিম, শুভ, ধরুবন ও পারভেজ সহ অন্যান্যরা। মন্ডপের মধ্যে যখন মা সরস্বতীর মূর্তি স্থাপন হয় এবং এর সাথে অলোক সজ্জায় সত্যি মনে হচ্ছিল যেনো কোনো প্রাচীন কালের বাড়িতে আমরা গিয়ে উপস্থিত হয়েছি। তারাই আবার নিজের হাতে পুজোর বাজার করা এবং পুজোর জোগাড় সবই তারা নিজের হাতে করেছে। 

বুধবার সরস্বতী পুজোর দিনে বিকালে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা নানান অনুষ্ঠান করে। তাদের পরিচালনা করেন সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সোমা হালদার। তিনি প্রথম থেকেই এই ছাত্র ছাত্রীদের উজ্জীবিত করার কাজটি করে গেছেন। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেবাশীষ মালিক সমস্ত ছাত্র ছাত্রী ও সহ শিক্ষিকাকে ধন্যবাদ জানান। সুন্দর ভাবে এই পুজো ও অনুষ্ঠান করার জন্য। এদিন বিদ্যালয়ে পুজো দেখতে আসেন বিদ্যালয়ের এক অন্যতম কৃতি প্রাক্তন ছাত্র শ্যামল কুমার হালদার। 

তিনি একজন অবসর প্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। তিনি রিজার্ভ ব্যাঙ্কে কাজ করতেন।অনেকদিন পর বিদ্যালয়ে এসে স্মৃতি মেদুর হয়ে পড়েন। তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেবাশীষ বাবুর সাথে পুরো বিদ্যালয় ঘুরে দেখেন এবং অনুষ্ঠান মঞ্চে তিনি ঘোষণা করেন যে তিনি তাঁর মায়ের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই বছর থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম স্থান অধিকারী কে পাঁচ হাজার করে টাকা দিয়ে পুরস্কৃত করবেন। তাঁর এই ঘোষণার জন্য দেবাশীষ বাবু তাঁকে ধন্যবাদ জানান। তাঁর এই উপহার নিশ্চিত ভাবেই ছাত্র ছাত্রীদের উৎসাহিত করবে। বিদ্যালয়ের আর এক কৃতি ছাত্রী শ্রমনা হালদার একটি সুন্দর নৃত্য প্রদর্শন করেন।এই একমাত্র সরস্বতী পুজোতেই এক অন্যরকম চিত্র দেখা যায় বিভিন্ন বিদ্যালয়ে। হিন্দু মুসলিম সব ছাত্র ছাত্রীরা একসঙ্গে এই পুজোয় অংশ গ্রহণ করে। বিদ্যালয়ের অন্য এক শিক্ষক নূর আলী ছাত্র ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে কিছু বক্তব্য রাখেন যার মধ্যে তিনি ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা তুলে ধরেন। বিদ্যালয়ের এই অনুষ্ঠান দেখতে অনেকেই ভিড় জমান।