Scrooling

ঘূর্ণিঝড় রিমাল : পূর্ব বর্ধমানে ৪টি ব্লক ক্ষতিগ্রস্ত, মৃত ২ # চুরুলিয়ায় ৫ দিন ব্যাপী নজরুল স্মরণে বর্ণময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলা # নন্দীগ্রামে বিজেপি সমর্থক খুনে রিপোর্ট চাইলো কমিশন # ১৮ তম লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল জানা যাবে ৪ জুন

বর্ধমানে শুরু হয়েছে প্রাক পূজা তাঁত বস্ত্ৰ মেলা


 

বর্ধমানে শুরু হয়েছে প্রাক পূজা তাঁত বস্ত্ৰ মেলা




Sangbad Prabhati, 8 October 2023

ডিজিটাল ডেস্ক রিপোর্ট, সংবাদ প্রভাতী : বর্ধমানে শুরু হলো ১২ তম বর্ষ প্রাক পূজা তাঁত বস্ত্ৰ মেলা। রাজ্যের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প ও বস্ত্র দপ্তরের উদ্যোগে ৮ অক্টোবর বর্ধমান কোর্ট কম্পাউন্ডে সিধু কানু পার্কে শুরু হয়েছে এই মেলা। চলবে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত। শনিবার প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে মেলার অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামা প্রসন্ন লোহার। অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বর্ধমান পূর্বের সাংসদ সুনীল মণ্ডল, জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি গার্গি নাহা, অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি) ইউনুস রিসিন ইসমাইল, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ মেহেবুব মন্ডল, শান্তনু কোনার, মিঠু মাঝি, নিত্যানন্দ ব্যানার্জী, আরতি খান, হ্যান্ডলুম দপ্তরের জয়েন্ট ডিরেক্টর শঙ্কর সরকার, ডেপুটি ডিরেক্টর কৌশিক হালদার সহ অন্যান্যরা।

পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামা প্রসন্ন লোহার বলেন পুজোর মুখে তাঁত শিল্পীদের জন্য সরাসরি বিপণনের ব্যবস্থা করছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এটা আগে ছিল না, রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাঁত শিল্পীদের প্রভূত উন্নতি করা হয়েছে। তারই ফলশ্রুতি এই তাঁত বস্ত্র মেলা। শিল্পীদের উৎপাদিত তাঁত বস্ত্র সরাসরি যাতে মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় সেই ব্যবস্থাই করে দিয়েছে সরকার। সভাধিপতি বর্ধমান বাসীর উদ্দেশ্যে আবেদন রাখেন, প্রত্যেকে মেলায় আসুন তাঁত বস্ত্র দেখুন এবং অন্তত একটি হলেও কিনে তাঁত শিল্পীদের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিন। 

এদিন সভাধিপতি শ্যামা প্রসন্ন লোহার ও কর্মাধ্যক্ষরা মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শনের সঙ্গে বর্ষা সামগ্রী ও দেখেন। তাঁত শিল্পীদের সঙ্গেওৎকথা বলেন।

হ্যান্ডলুম দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর কৌশিক হালদার জানান এবারের মেলায় ৩০ টি স্টল হয়েছে তাৎ বছরের পাশাপাশি হস্তশিল্পীদের কিছু সামগ্রীয় পাওয়া যাবে এই মেলায়। তিনি বলেন, পূর্ব বর্ধমান জেলার একটা বড় অংশের মানুষজন তাঁত কার্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে আছেন এবং তারা তাদের রুজি রোজগার ও দৈনন্দিন অন্নসংস্থান এই তাঁত শিল্পের মাধ্যমেই মেটান। প্রায় ১ লক্ষ ১৬ হাজারের অধিক মানুষজন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই তাঁত শিল্পের সাথে জড়িত আছেন। কালনা জোনের অন্তর্গত ধাত্রীগ্রাম, সমুদ্রগড়, নসরতপুর, শ্রীরামপুর, গোয়ালপাড়া, হাটশিমলা, নিভুজি, কালনাতে জামদানি ও টাঙ্গাইল ধরনের শাড়ি বুনন হয়ে থাকে। কাটোয়া জোনের অন্তর্গত কেতুগ্রাম পারুলিয়া ও তামাঘাটা অঞ্চলে অনুরূপ শাড়ি বয়ন হয়ে থাকে।

বর্তমানে কালনার অন্তর্গত ৫২ টি হ্যান্ডলুম ক্লাস্টার (২৩৬৮৭ জন তন্তুজীবী আওতাধীন) ও কাটোয়ার অন্তর্গত ৮ টি হ্যান্ডলুম ক্লাস্টার (১৮৬৮ জন তন্তুজীবী আওতাধীন) অর্থাৎ ৬০টি হ্যান্ডলুম ক্লাস্টার (২৫৫৫৫ জন তন্তুজীবী নিয়ে) কার্যরত আছে। অপরদিকে কালনার অন্তর্গত ৩৯ টি (৭৫৪৫ জন তন্তুজীবী) প্রাথমিক তন্তুবায় সমবায় সমিতি ও কাটোয়ার অন্তর্গত ৩৩ টি (৭৫৬২ জন তন্তুজীবী) প্রাথমিক তন্তুবায় সমবায় সমিতি অর্থাৎ মোট ৭২ টি প্রাথমিক তন্তুবায় সমবায় সমিতি (১৫১০৭ জন তন্তুজীবী) কার্যরত আছে।

তাঁতিদের পরিচয় পত্র প্রদানের কাজ শুরু হয়েছে‌ কালনা জোনে মোট ১১২০০০ জন তাঁতি পরিচয় পত্রের জন্য আবেদন করেছেন। ইতিমধ্যে ১৫৫০০ জনের পরিচয় পত্র প্রদান করা হয়েছে।

২০১১ সালে বর্তমান রাজ্য সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাঁত শিল্পীদের বিপণনের জন্য মেলার আয়োজন শুরু করে। বর্ধমানে প্রথম বছরে ৫০ টি স্টল হয়েছিল। মেলায় ৫৮ লক্ষ ৭২ হাজার টাকার বস্ত্র সামগ্রী বিক্রি হয়েছিল। ২০১৯ সালে ১ কোটি ৬৫ লক্ষ ১৫ হাজার ৭৫০ টাকার বস্ত্র সামগ্রী বিক্রি হয়েছে। কোভিড পরিস্থিতির জন্য তিন বছর বর্ধমানে তাঁত বস্ত্র মেলা হয়নি। এবছর ৩০ টি স্টল নিয়ে মেলা আয়োজিত হচ্ছে।