Legal Awareness
নারীর সুরক্ষায় আইনি সচেতনতা শিবির
Sangbad Prabhati, 30 August 2023
অতনু হাজরা, আউসগ্রাম : পূর্ব বর্ধমান জেলার আউসগ্রাম ১ ব্লকের কয়রাপুর বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠে, অনুষ্ঠিত হয়ে গেল, নারীর সুরক্ষায় আইনি সচেতনতা শিবির। উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী রোহিনী পুততুন্ডু। বিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রী, পরিচালন সমিতির অভিভাবক অভিভাবিকা এবং ছাত্রীদের মায়েরা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আজকে যাঁরা ছাত্রী আগামীকাল তারাই তাদের নিজের পরিবারের কর্ত্রী হয়ে উঠবে। এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে। সংসারে যখন থাকবে, তখন যাতে তাঁরা গার্হস্থ্য হিংসার বলি না হয়, কোনভাবেই বঞ্চিত না হয়, অত্যাচারিত না হয়, সে ব্যাপারে প্রাথমিক পাঠ বিদ্যালয় থেকে দেওয়া শুরু হলো। ভারতবর্ষের আইন তাদের পক্ষেই আছে, সেটিও আজকে তাঁরা জানতে পারল। কর্মক্ষেত্রে এই ছাত্রীরা, যেন কোনোভাবেই বঞ্চিত অত্যাচারিত না হয়, সেই অত্যাচার শারীরিক কিংবা মানসিক যাই হোক না কেন, যাতে না হয় তার জন্য তাঁরা আজকে আইনি পাঠ নিয়ে নিল। এখানে ছাত্ররাও উপস্থিত ছিল। সকলেই জানতে পারল, নারীদের প্রতি কোন কোন বিষয়গুলি করা উচিত নয়। আমরা বিশ্বাস করি, বিদ্যালয়ে কেবলমাত্র পরীক্ষা দিয়ে পাস করার জায়গা নয়। বিদ্যালয় চেতনা জাগ্রত করবার একটি পীঠস্থান। ছাত্র-ছাত্রীদের আগামী ভবিষ্যতের জন্য, আইন জানতে হবে। এবং আইনি চেতনায় সমৃদ্ধ হতে হবে।
আজকের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী রোহিনী পুততুন্ডু এবং আইনজীবী পল্লবী মন্ডল। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সীমা থান্ডার তাঁকে সহযোগিতা করেন শেখ জিয়াউর রহমান ও শুক্লা সিনহা। বিদ্যালয়ের কর্ম ক্ষেত্রে নারীদের আইনি সচেতনতার প্রতিষ্ঠার জন্য যে কমিটি তৈরি হয়েছে সেই কমিটির নোডাল টিচার অসীমা থান্ডার বলেন "আমরা এক নতুন জগতের স্বপ্ন দেখি। যেখানে নারীদের উপর কোন অত্যাচার হবে না। নারীরা বিনা বাধায় সর্বত্র সব জায়গায়, নিজেদের মনের মতন থাকতে পারবে। এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজের যাঁতাকল আর কোনোভাবেই ফিরে আসবে না। বিশেষত সমাজের নিম্ন শ্রেণীর নারীদের জন্য আইনি সচেতনতা অত্যন্ত জরুরী। যার পাঠ আজ বিদ্যালয় থেকে শুরু হল। "বিশিষ্ট আইনজীবী রোহিণী পুতপুন্ডু সকল ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে মানসিক সংকোচ এবং ভয়কে জয় করে এগিয়ে আসার কথা বলেন তিনি বলেন ভারতের নারীদের সুরক্ষার জন্য আইন যথেষ্ট শক্তিশালী এবং নারী সুরক্ষায় এত অজস্র আইন আছে যে নারীরা কোনভাবেই কোন জায়গাতেই অত্যাচারিত হতে পারবেনা শুধু যে কাজটি করতে হবে সেটি হল নারীদের সাহস করে এগিয়ে আসতে হবে এবং থানায় গিয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করতে হবে তিনি ছাত্রীদের মধ্যে মনের মধ্যে পুষে রাখা ভয় দূর করে সাহস সঞ্চয়ের জন্য বলেন। আজকের এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০০ জন ছাত্রী তাদের অভিভাবিকা এবং পরিচালন সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সতীনাথ গোস্বামী যিনি এই সমস্ত অনুষ্ঠানের পরিকল্পনাটি তৈরি করেন। বিদ্যালয়ের মূল অনুষ্ঠানের সঞ্চালক অসীমা থান্ডার এবং সহযোগী শুক্লা সিনহা । শুক্লা সিনহা বলেন "আমরা সেই উজ্জ্বল দিনটির অপেক্ষায় আছি, যেদিন রাস্তাঘাটে কোন মহিলার উপর শারীরিক বা মানসিক অত্যাচার হবে না। আমরা শিশু কন্যাভ্রুণ হত্যার চিৎকার শুনতে পাবো না, আমরা আর সুখী দাম্পত্যের মাঝে অসহায় গৃহবধুর চিৎকার, রক্তাক্ত দেহ দেখতে পাবো না। সমৃদ্ধ ভারত, সমৃদ্ধ পশ্চিমবঙ্গ, নারী শক্তির ওপর ভর করে জাগ্রত হবে, এই স্বপ্ন আমরা দেখি।"