Scrooling

কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আউসগ্রামের বিউটি বেগম # নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রীসভায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে শপথ নিলেন ডঃ সুকান্ত মজুমদার ও শান্তনু ঠাকুর # অ্যালার্জিজনিত সমস্যায় ভুগছেন ? বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ অয়ন শিকদার আগামী ২১ জুলাই বর্ধমানে আসছেন। নাম লেখাতে যোগাযোগ 9734548484 অথবা 9434360442 # আঠারো তম লোকসভা ভোটের ফলাফল : মোট আসন ৫৪৩টি। NDA - 292, INDIA - 234, Others : 17 # পশ্চিমবঙ্গে ভোটের ফলাফল : তৃণমূল কংগ্রেস - ২৯, বিজেপি - ১২, কংগ্রেস - ১

কঠোর নিরাপত্তায় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচন


 

কঠোর নিরাপত্তায় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচন  




Atanu Hazra
Sangbad Prabhati, 10 August 2023

অতনু হাজরা, পূর্ব বর্ধমান : বৃহস্পতিবার পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে কঠোর নিরাপত্তায় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। রায়না, খন্ডঘোষ, গলসি, মন্তেশ্বর, পূর্বস্থলি ব্লকে কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে সর্বত্র ব্যাপক পুলিশি ব্যবস্থা থাকায় বড় কোনও গন্ডগোল হয়নি।

তবে পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুরে শান্তিপূর্ন ভাবে ১৩ টি পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন করা হলো বৃহস্পতিবার। জৌগ্রাম পঞ্চায়েতে একটু অন্য চিত্র দেখা যায়। সেখানে দলীয় প্রার্থীকে না মেনে ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রধান এবং উপ প্রধান নির্বাচন করা হয়। জামালপুরের ১৩ টি পঞ্চায়েতই দখল করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাই সকাল থেকেই বোর্ড গঠনের তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়। পঞ্চায়েত এর বোর্ড গঠনে চকদিঘী পঞ্চায়েত ও জামালপুর ১পঞ্চায়েতে যান ব্লক সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির বিদায়ী পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মেহেমুদ খান, পারাতল ২ পঞ্চায়েতে যান পঞ্চায়েত সমিতির বিদায়ী সভাপতি তথা দলের কার্যকরী সভাপতি ভূতনাথ মালিক। প্রতিটি পঞ্চায়েতে দলের মনোনীত প্রার্থীরাই প্রধান ও উপ প্রধান হন। ব্লক তৃণমূল সভাপতি মেহেমুদ খানকে জৌগ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন নির্বাচনে দলের বিজয়ী প্রার্থীদের গতকাল পার্টি অফিসে ডেকে দলীয় নির্দেশে কে প্রধান বা উপ প্রধান হবে তা জানিয়ে দিয়েছিলেন। তা সত্বেও কিভাবে এই ভোটাভুটি হলো তা তারা দলীয়ভাবে খতিয়ে দেখছেন। তিনি পুরো বিষয়টা দলকে জানিয়েছেন। দল যা ব্যবস্থা নেবে সেটাই মেনে নিতে হবে। নিম্ন লিখিত ব্যক্তিরা আজ প্রধান ও উপ প্রধান নির্বাচিত হলেন আবুইঝাটি ১ গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান রমজান শা। আবুইঝাটি ২ প্রধান ঝর্না দাস ও উপপ্রধান শ্যামল চ্যাটার্জী। আঝাপুর কাশীনাথ হেমব্রম ও অশোক ঘোষ।

বেরুগ্রাম হাসনারা বেগম ও রিয়া বাগ। চকদীঘি অসীমা বাগ ও পার্থ প্রতিম শেঠ। জামালপুর ১ ডলি নন্দী ও সাহাবুদ্দিন মন্ডল। জামালপুর ২ মিঠু পাল ঐ মিতালী মুর্মু। জারোগ্রাম নূরজাহান বিবি সাহনা ও বীরেন্দ্রনাথ শী। জৌগ্রাম মল্লিকা মন্ডল মিস্ত্রি ও শাজাহান মন্ডল। জোতশ্রীরাম আরিফ মন্ডল ঝ সুভাষ চন্দ্র রায়। পাঁচড়া বিকাশ পাকড়ে ও সাবিত্রী সাঁতরা। পারাতল ১ কামিনী কুমুদ ঘোষ ও উত্তম হাজারী। পাড়াতল ২ মাবিয়া বেগম শেখ ও সরস্বতী টুডু।

অন্যদিকে মেমারি ১ ব্লকের দশটি গ্রাম পঞ্চায়েতেই শান্তিপূর্ণভাবে প্রধান উপপ্রধান দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মেমারি ১ ব্লকের নিমো ১ ও দলুইবাজার ২ গ্রাম পঞ্চায়েতে ভোটাভুটি হলেও দলের মনোনীত প্রতিনিধিরাই প্রধান ও উপপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আমাদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বাহামনি সরেন ও উপপ্রধান প্রভাতী ভট্টাচার্য্য, বাগিলা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ঝর্ণা মুর্মু ও উপপ্রধান জামাল মল্লিক নির্বাচিত হয়। একমাত্র বাগিলা গ্রাম পঞ্চায়েতেই দলগত উপপ্রধানের নাম প্রলয় পাল প্রস্তাব থাকলেও শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন হয়ে জামাল মল্লিক উপ প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সূত্র মারফত জানা যায় এদিনের প্রধান ও উপপ্রধানের নির্বাচন ও দায়িত্ব গ্রহণের অনুষ্ঠানে প্রলয় কুমার পাল উপস্থিত ছিল না। দলুইবাজার ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান গোপাল দাস ও উপপ্রধান লক্ষ্মী মালিক, দলুইবাজার ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান চুমকি মন্ডল ও উপপ্রধান ধীমান বিশ্বাস, দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অশোক সরকার ও উপপ্রধান অঞ্জনা সরেন। দুর্গাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আশিয়া বিবি শেখ ও উপপ্রধান নিতাই ঘোষ, গোপগন্তার ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অপর্ণা ক্ষেত্রপাল ও উপপ্রধান মধুসূদন মালিক, গোপগন্তার ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ঝর্ণা ভান্ডারী ও উপপ্রধান দেবব্রত দাস, নিমো ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মধুমালা মন্ডল ও উপপ্রধান রবি শর্মা, নিমো ২ পঞ্চায়েতের প্রধান শেখ আব্দুল রহমান ও উপপ্রধান জয়ন্তী মুর্মু কড়া নিরাপত্তার মধ্যে এই প্রধান ও উপপ্রধান সর্বসম্মত ভাবে নির্বাচিত হয় এবং তারা দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

রায়না-১ ব্লকের পলাশন গ্রাম পঞ্চায়েতে সিপিএমের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে বোর্ড গঠিত হল। মনিকা কোঙারকে প্রধান এবং টিনা মালিককে উপপ্রধান নির্বাচিত করা হল। পূর্ব বর্ধমান জেলার মধ্যে একমাত্র এই গ্রাম পঞ্চায়েতে ক্ষমতা দখল করতে পেরেছে সিপিএম। বৃহস্পতিবার বোর্ড গঠনের আগে বামেরা সশস্ত্র জমায়েত করেছিল। কারও হাতে তীরধনুক, ধাতব অস্ত্র, লাঠি ছিল‌। যা নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। যদিও সিপিএমের দাবি, গণনা কেন্দ্রে জোর করে তৃণমূলী, বিডিও এবং পুলিশের তীব্র সন্ত্রাস প্রতিরোধ করে ৮ টি আসনে জয়ী হন সিপিআই (এম) প্রার্থীরা। বোর্ড গঠনের ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে এরা সক্রিয় ছিল। তবে আজ পঞ্চায়েত গঠনে জনগণের প্রতিরোধী মেজাজ দেখে কেউই ধারে-কাছে ঘেঁষতে সাহস পায়নি।