Scrooling

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব পদে নন্দিনী চক্রবর্তী # রজতজয়ন্তী বর্ষে সংবাদ প্রভাতী পত্রিকা। সকল পাঠক-পাঠিকা বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি শুভেচ্ছা # আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন বঙ্গতনয়া, ৮২তম ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের অরিজন্তি বিভাগে সেরা পরিচালকের খেতাব জয় করলেন চিত্রপরিচালক অনুপর্ণা রায়। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর শুভেচ্ছা। # বর্ধমানে জাতীয় সড়কে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় ১১ পুণ্যার্থীর মৃত্যু। মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর # UGC NET 2025-এ অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক-১ করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের পিএইচডি স্কলার নিলুফা ইয়াসমিন # উচ্চ মাধ্যমিকের পর নিটেও রাজ্যে প্রথম বর্ধমানের রূপায়ণ পাল। # ষষ্ঠ সিন্ধু জিব্রাল্টার জয় করে ইতিহাসের পাতায় সায়নী # 'দাদাসাহেব ফালকে' সম্মানে ভূষিত হলেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী

Sales Representatives movement বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানির সেলসকর্মী বিক্রিতে দেশ জুড়ে আন্দোলনে সোচ্চার সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভস ইউনিয়ন


 

Sales Representatives movement 

বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানির সেলসকর্মী বিক্রিতে দেশ জুড়ে আন্দোলনে সোচ্চার সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভস ইউনিয়ন



Jagannath Bhoumick
Sangbad Prabhati, 26 April 2023

জগন্নাথ ভৌমিক, বর্ধমান : ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা ওষুধ উৎপাদন করে এবং বিক্রি করে, এটা সকলেরই জানা। কিন্তু ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা কর্মী বিক্রি করে এটা নিশ্চয়ই শোনেন নি। সেরকমই একটি ঘটনার বিবরণ শুনলে চমকে উঠবেন। না, কোনও গল্প কথা নয়। বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা সানোফি (SANOFI) সারা ভারতবর্ষের ৬০ জনের বেশি সেলসকর্মীকে কিছু প্রোডাক্ট সহ এক ভুঁইফোড় কোম্পানির কাছে বেচে দিয়েছে। এমনই অভিযোগ তুলেছেন অল ওয়েস্ট বেঙ্গল সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভস ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অভিজিত রায়। তিনি এক লিখিত বিবৃতিতে জানান, আলোচনা দুরস্থ, কর্মীদের ঘুণাক্ষরেও লেনদেনের খবর টের পেতে দেয়নি এই বহুজাতিক সংস্থা। যেন 'দাস' হস্তান্তর প্রক্রিয়া, তাঁদের জানার কোন অধিকারই নেই। তবে মানব সভ্যতার এহেন অবমাননাকর আচরণের বিরুদ্ধে দেশের বেশ কিছু কর্মী রুখে দাঁড়ায়। কর্মী বেচার শর্ত প্রকাশের দাবি জানায়। সব থেকে বড় কথা কোনও সদুত্তর না দিয়ে বাড়িতে ছাঁটাই নোটিশ পাঠিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ।

বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা সানোফি (SANOFI) এই অমানবিক আচরণে ক্ষুব্ধ সারা ভারতের সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভরা। ঘটনার প্রতিবিধান চেয়ে কর্মীরা শ্রম আদালতে ছুটেছে দু'টি প্রশ্ন নিয়ে। প্রথমতঃ, কর্মীদের অন্যত্র বিক্রি করার এবং শর্ত ঠিক করার অধিকার কার – মালিকের না কর্মীর। দ্বিতীয়ত, শ্রমদপ্তরে এই মালিকের বিরুদ্ধে পূর্বে উত্থাপিত 'বিরোধ' বিচারাধীন থাকাকালীন, ছাঁটাই করার আগে দেশের আইন মোতাবেক সরকারের কাছে কোনও অনুমতি কর্তৃপক্ষ চেয়েছিল কিনা। প্রথমটির ক্ষেত্রে মালিকপক্ষ বেমালুম মিথ্যা জানিয়েছে যে, কোম্পানি উঠে গেছে, তাই এই বিক্রি-বাট্টা! আর দ্বিতীয়টিতে সরকারপক্ষ মৌনী, নিশ্চুপ। কর্মীদের ছুটতে হয়েছে উচ্চ আদালতে। 

সাম্প্রতিককালে এই বহুজাতিক সংস্থাটি আবার দেশ জুড়ে আরও অনেক কর্মীকে ছাঁটাই করেছে বলে এবং প্রতিনিয়ত ছাঁটাইয়ের হুমকি দিয়ে অন্য কর্মীদেরও তটস্থ করে রাখছে বলে অভিযোগ এনেছেন অল ওয়েস্ট বেঙ্গল সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভস ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অভিজিত রায়। 

এই ঘটনার প্রতিবাদে দেশ জুড়ে সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভরা আন্দোলনে নেমেছেন। তাদের এই আন্দোলনে চিকিৎসকদের সমর্থন পেতে ২৬ এপ্রিল বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভরা সমবেত হন। তাদের আন্দোলনে সমব্যাথী চিকিৎসকদের কাছে আবেদন রাখেন। সংগঠনের তরফে এদিন উপস্থিত ছিলেন অল ওয়েস্ট বেঙ্গল সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভস ইউনিয়নের বর্ধমান আঞ্চলিক শাখার সভাপতি শুভেন্দু সামন্ত, সম্পাদক প্রদীপ যশ, এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য রাফিউল ইসলাম সহ বর্ধমান আঞ্চলিক শাখার ৩৫ জন সদস্য। প্রদীপ বাবু জানান, ইতিমধ্যেই চিকিৎসকদের অনেকে তাদের আন্দোলনে সহমর্মী হয়ে স্বাক্ষর করেছেন।

এদিকে অল ওয়েস্ট বেঙ্গল সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভস ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অভিজিত রায় লিখিত বিবৃতিতে আরও জানিয়েছেন দেশের আইন, সংবিধান যেখানে এইভাবে ভূলুণ্ঠিত সেখানে এই অসম শক্তির আন্দোলনে যুক্ত হতে এগিয়ে এসেছেন চিকিৎসক সমাজ, কেমিস্ট-স্টকিস্ট বন্ধুগণ, সংশ্লিষ্ট কর্মীবৃন্দ এবং অবশ্যই বিভিন্ন কোম্পানির লড়াকু সেলস প্রমোশন কর্মীরা। ১৫০০-র অধিক চিকিৎসক সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান চেয়ে মালিকের কাছে ধাপে ধাপে পাঠানো আবেদন পত্রের শরিক হয়েছেন এবং হচ্ছেন, কেউবা ‘ভিডিও ক্লিপিংসে সংগ্রামের প্রতি সংহতি জ্ঞাপন করেছেন। কিন্তু মালিকপক্ষের সে-সবে গা নেই, উপেক্ষা, তাচ্ছিল্যকে বর্ম করে আপাতত কালহরণ করে চলেছে।

তিনি আরো জানান, মানব সভ্যতার এই একবিংশ শতাব্দীতে পৌঁছে দেশের সংবিধান, আইন, সর্বোপরি মানবধর্মের মর্যাদা রক্ষায় অর্ধাহারে-অনাহারে মরণপণ লড়াইয়ে সামিল হয়েছেন এইসব ছাঁটাই কর্মীগণ। এঁদের পাশে থাকার, যূথবদ্ধ হওয়ার দায় এসে বর্তেছে এই সমাজের মেহনতি মানুষজনের উপর। পণ্য ব্যবস্থায় প্রতিনিয়ত ধ্বস্ত হতে থাকা শ্রমজীবি মানুষ এই লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই পায়ের তলায় মাটি, মর্যাদা ফিরে পেতে চায়। অতীতকাল থেকে অনেক দীর্ঘ লড়াইয়ের ফসল হিসাবে আজ পেশা, সংশ্লিষ্ট কর্মী, বৃহত্তর সমাজের মানুষজন নিয়ে রণসজ্জায় আমরা রণভূমে রত, সেই অভিজ্ঞতার রসদ নিয়ে আসুন রুখে দিই উদারবাদী অর্থনীতির ধারক-বাহক একচেটিয়া বহুজাতিকের প্রতিভূ সানোফি'র ছাঁটাই উৎপীড়নের বর্তমান পরিক্রমা।