Scrooling

নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রীসভায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে শপথ নিলেন ডঃ সুকান্ত মজুমদার ও শান্তনু ঠাকুর # অ্যালার্জিজনিত সমস্যায় ভুগছেন ? বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ অয়ন শিকদার আগামী ২১ জুলাই বর্ধমানে আসছেন। নাম লেখাতে যোগাযোগ 9734548484 অথবা 9434360442 # আঠারো তম লোকসভা ভোটের ফলাফল : মোট আসন ৫৪৩টি। NDA - 292, INDIA - 234, Others : 17 # পশ্চিমবঙ্গে ভোটের ফলাফল : তৃণমূল কংগ্রেস - ২৯, বিজেপি - ১২, কংগ্রেস - ১

World Disability Day Observe সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তনের নামে দৃষ্টিহীনদের প্রতি বঞ্চনার অভিযোগ


 

World Disability Day Observe 

সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তনের নামে দৃষ্টিহীনদের প্রতি বঞ্চনার অভিযোগ 


ডিজিটাল ডেস্ক রিপোর্ট, সংবাদ প্রভাতী : আজ বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস। দৃষ্টিহীনসহ বিভিন্ন স্তরের প্রতিবন্ধী মানুষের নানাবিধ সমস্যাবলীর প্রতি বৃহত্তর সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য রাষ্ট্রসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদ ৩ ডিসেম্বর দিনটি আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবসরূপে চিহ্নিত করেছে‌। এবছর আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবসের মূল স্লোগান হল 'সমানভাবে এবং পূর্ণ অংশগ্রহণ'  অর্থাৎ Equally and Full Participation. 

বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে ব্লাইন্ড পার্সনস অ্যাসোসিয়েশন অনুমোদিত বর্ধমানের নজরুল স্মৃতি দৃষ্টিহীন বিদ্যালয় কার্জনগেটের সামনে একটি পথসভার আয়োজন করছিল। উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালন কমিটির সভাপতি ডাঃ অশোক মজুমদার, যুগ্ম সম্পাদক ডাঃ তসবিরুল ইসলাম, অনুপম চক্রবর্তী সহ অন্যান্য বিদ্যজন।

সেই সভা থেকেই উল্লেখ করা হয়েছে ভারতবর্ষে দৃষ্টিহীনদের সার্বিক পরিস্থিতি খুবই খারাপ। ২০২০ সালের জাতীয় সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতে দৃষ্টিহীন মানুষের সংখ্যা ১৮.৭ মিলিয়ন। প্রতি বছর ২০ হাজার মানুষ দৃষ্টিহীনতায় আক্রান্ত হচ্ছেন। সুষম খাদ্যের অভাব, অপুষ্টি, নানাবিধ রোগ, মাতৃত্বকালীন অসুস্থতা, ভয়াবহ পরিবেশ দূষণ ও ক্রমবর্ধমান দুর্ঘটনা মূলত দৃষ্টিহীনতার জন্য দায়ী। Global Hunger Index এর তথ্য অনুযায়ী ২০২২ সালে বিশ্ব খাদ্য সূচকে এদেশের অবস্থান ১০৭ নম্বরে। গত জুলাই মাসে প্রকাশিত রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্ট বলছে, ভারতের অন্তত ৫৬ শতাংশ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তার অভাবে ভুগছেন, যা মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ। রাষ্ট্রপুঞ্জের আর একটি রিপোর্টে প্রায় ৯৭ কোটি ভারতীয় সুষম আহার থেকে বঞ্চিত। সরকারী রিপোর্ট, ৩৬০ লক্ষ শিশু গুরুতর অপুষ্টির শিকার। এরই পটভূমিতে দৃষ্টিহীন সমস্যার ব্যাপকতা ও গভীরতা বিচার করতে হবে। দৃষ্টিহীনদের ওপর সর্ববৃহৎ আক্রমণটি নেমে এসেছে সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তনের নামে। দৃষ্টিহীনদের জন্য চিহ্নিত স্পেশাল স্কুল গুলো তুলে দেওয়ার সরকারী সিদ্ধান্তে, যার শিক্ষা সংহারকারী, ধ্বংসাত্মক বিশেষত, গরীব ও নিম্নবিত্ত দৃষ্টিহীনদের কাছ থেকে শিক্ষাকে কার্যত কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্রকারী অপপ্রয়াসটির স্বরূপ জনসমক্ষে উন্মোচিত হওয়া প্রয়োজন। দৃষ্টিহীনদের উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণা কর্মে  সমন্বিত শিক্ষা তত্ত্বগতভাবে স্বাগত। শিক্ষার মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত দৃষ্টিহীনদের আবশ্যক স্পেশাল স্কুল, যথার্থভাবে প্রশিক্ষিত শিক্ষকমন্ডলী, উপযুক্ত পরিকাঠামো সমন্বিত, কালের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ রেনেসাঁ ভাবনা ধারণা প্রসূত শ্রেণীকক্ষ ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা। 

এদিনের সভা থেকেই দৃষ্টিহীনদের স্পেশাল স্কুল তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার ডাক দেওয়া হয়। সরকারের উদ্যোগে প্রতিটি জেলায় জেলায় দৃষ্টিহীন বিদ্যালয় স্থাপন, অবিলম্বে দৃষ্টিহীন বিদ্যালয়ের শূন্যপদ পূরণ, বিনামূল্যে ব্রেইল বই সরবরাহ সহ দৃষ্টিহীনদের ন্যায়সঙ্গত দাবি সমূহ পূরণের জন্য সকলকে পাশে  দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।