Scrooling

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব পদে নন্দিনী চক্রবর্তী # রজতজয়ন্তী বর্ষে সংবাদ প্রভাতী পত্রিকা। সকল পাঠক-পাঠিকা বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি শুভেচ্ছা # আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন বঙ্গতনয়া, ৮২তম ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের অরিজন্তি বিভাগে সেরা পরিচালকের খেতাব জয় করলেন চিত্রপরিচালক অনুপর্ণা রায়। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর শুভেচ্ছা। # বর্ধমানে জাতীয় সড়কে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় ১১ পুণ্যার্থীর মৃত্যু। মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর # UGC NET 2025-এ অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক-১ করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের পিএইচডি স্কলার নিলুফা ইয়াসমিন # উচ্চ মাধ্যমিকের পর নিটেও রাজ্যে প্রথম বর্ধমানের রূপায়ণ পাল। # ষষ্ঠ সিন্ধু জিব্রাল্টার জয় করে ইতিহাসের পাতায় সায়নী # 'দাদাসাহেব ফালকে' সম্মানে ভূষিত হলেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী

"বঙ্গ ভূষণ" সম্মাননা পেলেন কালনার রবিলাল টুডু


 

"বঙ্গ ভূষণ" সম্মাননা পেলেন কালনার রবিলাল টুডু 


জগন্নাথ ভৌমিক, ২৫ জুলাই : বঙ্গ ভূষণ সম্মান পেলে কালনার রবিলাল টুডু। আজ কলকাতা নজরুল মঞ্চে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার হাতে এই সম্মান তুলে দিয়েছেন। আদিবাসী সাহিত্যের উপর অসামান্য কাজের জন্য তাকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে এই সম্মান প্রদান করা হয়। কালনা ২ নং ব্লকের বাদলা গ্রাম পঞ্চায়েতের নোয়ারা গ্রামের বাসিন্দা রবিলাল টুডু ব্যাঙ্কের অফিসার পদে চাকরি করার পাশাপাশি আদিবাসী সাহিত্য রচনা করেছেন। পেশাগত জীবনের শুরুতে এক মাসের মধ্যে তিনি তিনটি চাকরি পান। সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক, এজি বেঙ্গল অডিটর সেকশন এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্কে। কিন্তু তিনি সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের চাকরিতে যোগদান করেন এবং ২০০৯ সালে অবসর গ্রহণ করে। রবিলাল টুডু মূলতঃ সাঁওতালি ভাষায় নাট্য সাহিত্যের উপরেই কাজ করেছেন। তাঁর লেখা নাটক "বীর বীরষা" স্নাতক, স্নাতকোত্তর ডিগ্রি কোর্সের সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পাশাপাশি ইউপিএসসি'র আদিবাসী সাহিত্য রয়েছে।

রবিলাল টুডু জানান, সাহিত্য চর্চাটা মূলত সাঁওতালি ভাষায় নাটকের উপরেই করেছেন তিনি মনে করেন সেই সময় সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য নাটকই একমাত্র সহজ মাধ্যম। সমাজ সচেতনতা থেকে নানা বিষয়ে মানুষকে শিক্ষিত করে তুলতে নাটক খুবই কার্যকরী। নাটক ছাড়াও তিনি অন্যান্য সাহিত্যও রচনা করেছেন। তবে সাঁওতালি নাটকই ছিল তাঁর মূল বিষয়। ঐতিহাসিক নাটক রচনা দিয়ে তিনি তাঁর কাজ শুরু করেন। বীরসা মুন্ডার জীবনের উপর তিনি প্রথম নাটক লেখেন "বীর বীরষা"। এর জন্য তিনি জামশেদপুর বীরষা মেমোরিয়াল সোসাইটি পক্ষ থেকে পুরস্কার পেয়েছেন। এখান থেকেই তার পথচলা শুরু হলে জানালেন রবিলাল টুডু। এখন পর্যন্ত তিনি সাঁওতালি ভাষায় ২২টি নাটক লিখেছেন। এর মধ্যে কয়েকটি মুদ্রিত আকারে প্রকাশ হয়েছে। দ্বিতীয় যে নাটকটি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে সেটি হল "পার্শিখাতি"। এই নাটকের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকেও তাকে পুরস্কৃত করা হয়। ২০১৪ সালে তৎকালীন আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী বাচ্চু হাজরা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে সারদা প্রসাদ কিসকু পুরস্কার প্রদান করেন। এর পরের বছরই অর্থাৎ ২০১৫ সালে এই নাটকটির জন্য দিল্লি সাহিত্য একাডেমীর পক্ষ থেকে তাঁকে পুরস্কৃত করা হয়। আজ সারা  জীবনের সাহিত্য চর্চার স্বীকৃতি হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বঙ্গ ভূষণ সম্মান তাঁর হাতে তুলে দেন। রবিলাল টুডু বলেন, এই পুরস্কার গ্রহণ করে তিনি গর্বিত এবং একই সঙ্গে তিনি  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে ধন্যবাদ জানান।