চৈতন্য মহাপ্রভু'র নামে নব নির্মিত তোরণ উদ্বোধন কাটোয়ার দাঁইহাটে

হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের যাত্রার সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী # ফুটবলে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়, ফ্রান্স কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ান মেসি # জয়েন্ট এন্ট্রান্স (মেইন) এর প্রথমভাগের পরীক্ষা ২৪ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত # বর্ধমান জেলা রাইস মিলস অ্যাসোসিয়েশন এর শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন # বাংলার চিকিৎসক উজ্জ্বল পোদ্দার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরার তালিকায় #সরকারি কর্মচারীদের সুখের দিন শেষ, শ্রম কোড চালু হতে চলেছে সমগ্র ভারতে # পশ্চিমবঙ্গে কোভিড বিধিনিষেধ প্রত্যাহার # #পূর্ব বর্ধমান জেলায় মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ এর উদ্যোগে খালবিল ও চুনোমাছ উৎসবের উদ্বোধন ২৫ ডিসেম্বর

প্রধানমন্ত্রীর সামনে আদালতে বিচারপতি নিয়োগে সরব হচ্ছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী  


 

প্রধানমন্ত্রীর সামনে আদালতে বিচারপতি নিয়োগে সরব হচ্ছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী 


🟣  মোল্লা জসিমউদ্দিন


➡️  আজ ৩০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর পৌরহিত্যে দেশের সমস্ত মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে বিচার বিভাগ সংক্রান্ত সভা রয়েছে। তাতে যোগ দিচ্ছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গেছে এই সভায় কলকাতা হাইকোর্ট সহ রাজ্যের বিভিন্ন আদালতে শূন্যপদ পূরণে বিচারপতি / বিচারক নিয়োগের সপক্ষে সওয়াল করবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্ন সূত্রে প্রকাশ, গত ১১ বছরে রাজ্যে ১ টি  সার্কিট বেঞ্চ ছাড়াও ৬ টি  সিবিআই কোর্ট, ৮৮টি  ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট, ৪১ টি মহিলা কোর্ট, ১৯ টি  হিউম্যান রাইটস কোর্ট, ৪ টি কমার্শিয়াল কোর্ট ও ১৯ টি চাইল্ড ফ্রেন্ডলি কোর্ট তৈরি হয়েছে। এরমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের ফান্ডে ১৫১টা ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট ছিল। যার মধ্যে ৮৮টা-ই রাজ্য চালাচ্ছে। কারণ কেন্দ্র থেকে টাকা আসছে না। এই অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। পাশাপাশি, বিচারপতির শূন্য পদ থাকায় মামলার শুনানি করা যাচ্ছে না। রয়েছে মামলার দীর্ঘসূত্রিতাও। এরফলে সাধারণ মানুষের সমস্যা হচ্ছে। শুধু হাইকোর্টেই ৭২টি বিচারপতি পদ থাকলেও, বিচারপতি আছেন মাত্র ৩৯ জন। হাইকোর্ট কলেজিয়াম থেকে ১১ জনের নাম পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আইন মন্ত্রক এখনও আটকে রেখেছে। ১১ জন সার্ভিস জাজের নামও পাঠানো হয়েছে। তবে  আইন মন্ত্রক আটকে রেখেছে। এরফলে মামলা জমে থাকছে। শুধু হাইকোর্টেই ২ লক্ষের বেশি মামলা জমে আছে। এই সবটাই মুখ্যমন্ত্রী বিচারপতি সম্মেলনে তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে।সময়ের গতিতে কলকাতা হাইকোর্টে বেড়েছে পাহাড় সমান মামলা, বিশেষত একুশে বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তীতে গঠিত হয়েছে বেশকিছু বৃহত্তর বেঞ্চ। ঠিক এইরকম জায়গায় হাইপ্রোফাইল মামলার ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছেন সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা। তারিখের পর তারিখ মিলছে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপ্রার্থীদের বলে অভিযোগ। অথচ মামলায় বিচারের গতি আনতে নিয়োগ করছেনা কেন্দ্রীয় সরকার। এই মুহুর্তে কলকাতা হাইকোর্টে প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি  বিচারপতির পদ খালি রয়েছে। পাহাড় সমান মামলা। অথচ সেই হারে হচ্ছেনা মামলার নিস্পত্তি। নিদিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শুনানি শুরু হয়নি অনেক মামলার। নেই পর্যাপ্ত বিচারপতি। বাধ্য হয়ে সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের মিলছে শুধুই 'তারিখ'। উল্লেখ্য, ভারতবর্ষে উচ্চ আদালত স্থাপনের ক্ষেত্রে কলকাতা হাইকোর্ট প্রাচীনতার ক্ষেত্রে অন্যতম। 

গত ১৮৬২ সালে স্থাপিত হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। বর্তমান হিসাবে কলকাতা হাইকোর্টে সর্বমোট বিচারপতি থাকার কথা ৭২ জন। এঁদের মধ্যে ৫৪ জন স্থায়ী এবং ১৮ জন অস্থায়ী। সেইজায়গায় কলকাতা হাইকোর্টে রয়েছেন ৩৯ জন বিচারপতি। দেখা যাচ্ছে এখনও ৩৩ জন বিচারপতি পদ খালি রয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। যা শতাংশ বিচারে পয়তাল্লিশ শতাংশের মতো। সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম কমিটি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে হাইকোর্ট গুলির বিচারপতি নিয়োগের সুপারিশ দেয়। যা কেন্দ্রীয় সরকার মেনে নেয়। তবে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্র সরকার কলেজিয়াম কমিটির সুপারিশ কেন কার্যকর করছেনা তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। 'বার কাউন্সিল অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল' এর শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান  আনসার মন্ডল জানিয়েছেন, " আমরা চাই কলকাতা হাইকোর্টে দ্রুত বিচারপতি নিয়োগ হোক। সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত বিচার পাবেন এতে"। ৩৩ জন বিচারপতি পদ শুন্য থাকায় দাখিল হওয়া মামলার বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সংবিধান বিশেষজ্ঞ আইনজীবী বৈদূর্য ঘোষাল জানান, "অনেক মামলায় শুনানির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে, মামলার নিস্পত্তি ঘটছে কম। আমরা চাই দ্রুত বিচারপতি নিয়োগ হোক"। এইমুহূর্তে কলকাতা হাইকোর্টে ২ লক্ষ ২০ হাজারেরও বেশি মামলা এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। রাজ্যের নিম্ন আদালত  গুলিতে  মামলা  রয়েছে ২৬ লক্ষেরও বেশি।চলতি মাসে দেখা যাচ্ছে  কলকাতা হাইকোর্টে জমে থাকা মামলার সংখ্যা ২ লক্ষ ২১ হাজারের মতো। এর মধ্যে দেওয়ানি মামলা ১ লক্ষ ৮৯ হাজার মতো। ফৌজদারি মামলার সংখ্যা ৩২ হাজার মতো। কলকাতা হাইকোর্টের পাশাপাশি রাজ্যের নিম্ন আদালত গুলিতে মামলা রয়েছে ২৬ লক্ষ এর বেশি। এই পরিস্থিতিতে আগামী ২ রা মে থেকে কলকাতা হাইকোর্টে মামলার শুনানি হবে প্রথম পর্যায়ে সকাল সাড়ে দশটা থেকে দুপুর একটা পনেরো মিনিট অবধি, শেষ পর্যায়ে চলবে দুপুর দুটো থেকে বিকেল সাড়ে চারটে পর্যন্ত। তবে  স্বাভাবিক শুনানি পর্বের সময়সীমা ১৫ মিনিট বেড়ে যাওয়ায় মামলার পাহাড় কিছুটা কমবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।  সাধারণ বিচারপ্রার্থী থেকে আইনজীবীরা প্রত্যেকেই চাইছেন কলকাতা হাইকোর্টের ৩৩ জন বিচারপতির পদ অবিলম্বে পূরণ হোক। অপরদিকে একের পর এক নির্ভীক নির্দেশদানকারি বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে স্বাভাবিক শুনানি পর্বের গতি কমে যাওয়ায় ( আইনজীবীদের একাংশের গড়হাজিরায়) বিচারপ্রার্থীরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।  ঠিক এইরকম পরিস্থিতিতে আজ অর্থাৎ শনিবার মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিচারবিভাগ সংক্রান্ত সভায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী আদালতে শূন্যপদ পূরণ নিয়ে সরব হচ্ছেন বলে জানা গেছে। 

Post a Comment

0 Comments