চৈতন্য মহাপ্রভু'র নামে নব নির্মিত তোরণ উদ্বোধন কাটোয়ার দাঁইহাটে

উচ্চ মাধ্যমিকে রাজ্যের সেরা অদিশা দেবশর্মা, দশের মেধা তালিকায় ২৭২ জন # মাধ্যমিকে যুগ্ম প্রথম বর্ধমান সিএমএস হাই স্কুলের রৌনক মন্ডল এবং বাঁকুড়ার রাম হরিপুর রামকৃষ্ণ মিশনের অর্ণব ঘড়াই # আধার কার্ডের ফটোকপির অপব্যবহার রুখতে বিজ্ঞপ্তি জারি # ইউনেস্কো'র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুজো # বাংলার চিকিৎসক উজ্জ্বল পোদ্দার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরার তালিকায়মাধ্যমিকের পর উচ্চমাধ্যমিকেও তাক লাগালো কাটোয়ার অভীক পশ্চিমবঙ্গে কোভিড বিধিনিষেধ প্রত্যাহার #১০০ দিনের কাজের বকেয়া টাকা নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের আন্দোলন

'নীল বর্ণ শেয়াল' এর প্রিমিয়ার শো দর্শকদের নজর কেড়েছে


 

'নীল বর্ণ শেয়াল' এর প্রিমিয়ার শো দর্শকদের নজর কেড়েছে 


জগন্নাথ ভৌমিক, বর্ধমান : কচিকাঁচাদের উৎসাহ উদ্দীপনা দেখেই দর্শকরা আপ্লুত। বহুদিন এমন ভাবে দেখা মেলেনি ওদের। শিশু দিবসের সন্ধ্যায় ওদের উপস্থিতিতে বর্ধমান টাউন হলের মঞ্চ ঝলমলে হয়ে উঠেছিল। আর এটা সম্ভব করে তুলেছে বর্ধমান দি পাপেটিয়ার্স। আসলে কোভিড অতিমারি পরিস্থিতিতে সারা দেশের সঙ্গে শহর বর্ধমানেও সব ধরণের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডই প্রায় বন্ধ ছিল। সংক্রমণের তীব্রতা কমতেই ধীরে ধীরে পঞ্চাশ শতাংশ দর্শক নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করার অনুমতি দিয়েছে সরকার। আর সেই সূত্রেই দক্ষিণবঙ্গের সক্রিয় এবং আধুনিক পুতুলনাচের দল দি পাপেটিয়ার্স তাদের নতুন পুতুল নাটকের  প্রিমিয়ার শো আয়োজন করলো বর্ধমান টাউন হলে। শিশু দিবসের বৃষ্টিবিঘ্নিত সন্ধ্যাতেও শহরের সাংস্কৃতিক জগতের মানুষেরা এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন। 

এই অনুষ্ঠানেই ছোটদের জন্য ছবি আঁকার আয়োজন করা হয়েছিল। কচিকাঁচাদের তুলির টানের সঙ্গে উচ্ছ্বাস উদ্দীপনায় বর্ধমানের টাউন হল মুখরিত হয়ে উঠেছিল। টাউন হলের প্রবেশের মুখেই ছিল ছোটদের 'যেমন খুশি আঁকো' এই শিরোনামে একটি বড় ক্যানভাস। সংস্থার দেওয়া রং তুলি দিয়ে মনের ভাব প্রকাশ করেছে দলের শিক্ষানবিশ ক্ষুদে শিল্পীরা। ভাবনাটি অবশ্যই অভিনবত্বের দাবি রাখে।

ছবি আঁকা শেষে বর্ধমান দি পাপেটিয়ার্স  প্রযোজিত পুতুল নাটক 'নীল বর্ণ শেয়াল' এর প্রিমিয়ার শো দেখানো হয়। শিশু দিবসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে উদ্বোধন করে শিশুরাই। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিত্র শিল্পী ক্ষীরোদ বিহারী ঘোষ। 

  নীল বর্ণ শেয়াল পুতুল নাটক পুরনো কথামালার গল্পকে আধুনিকতার মোড়কে সাজিয়েছেন সৌম্য দে। নাট্য নির্দেশনায় অমিতাভ চন্দ্র।  সমগ্র পুতুল নাটকটির  পরিকল্পনা ও পরিচালনা করেছেন পার্থ প্রতিম পাল। আবহ সঙ্গীত আয়োজনে পলাশ দাস ও অনুপম রায়। নেপথ্য কন্ঠে ছিলেন অমিতাভ চন্দ্র, শুভাশিস চক্রবর্তী, অনির্বাণ বিশ্বাস,  বাসুদেব ঘোষ, অনুপম চট্টোপাধ্যায়, মধুমিতা পিরি, স্নেহা অধিকারী ও অগ্নিভো চন্দ্র। পুতুল নাটকের নামাঙ্কন করেছেন শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়। নাটকের পুতুল সঞ্চালনা করেছেন  দীপেন্দ্র কর্মকার, অভিজিৎ রাহা, অনুরাধা পাল, তন্দ্রা কুন্ডু, বিশ্বজিৎ সিং, তন্ময় ঘোষ ও শুভঙ্কর শী। নাটকে কারিগরী সহায়তায় ছিলেন জগন্নাথ সিংহ, সান্নিধ্য চ্যাটার্জী ও সুনীল টুডু। সব মিলিয়ে সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষজনকে একটি সুন্দর সন্ধ্যা উপহার দিল বর্ধমান দি পাপেটিয়ার্স।

পাপেট এবং মাপেট-এর সংমিশ্রণে প্রযোজনাটি  প্রথাগত পুতুল নাচ বা পুতুল নাট্যের বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। পুতুল নির্মাণেও শিল্পীরা মুন্সিয়ানার ছাপ রেখেছেন। চরিত্র অনুযায়ী পুতুল গুলি দারুণভাবেই বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে। বলাই বাহুল্য দর্শকদেরও নজর কেড়েছে পূর্ণমাত্রায়। এক কথায় পার্থপ্রতিম পালের পরিচালনায় নীল বর্ণ শেয়াল দর্শকদের মন জয় করতে পুরোপুরি সফল। এই প্রযোজনাটি যেমন ছোটদের আনন্দ দিতে পেরেছে, একইভাবে বড়দের ভাবনার জগৎকে স্পর্শ করতেও সক্ষম হয়েছে । নীল বর্ণ শেয়াল এর পরিচালক পার্থ প্রতিম পাল জানান, আসলে ঐতিহ্যবাহী পুতুল শিল্প নিয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে।



Post a Comment

0 Comments