চৈতন্য মহাপ্রভু'র নামে নব নির্মিত তোরণ উদ্বোধন কাটোয়ার দাঁইহাটে

হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের যাত্রার সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী # ফুটবলে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়, ফ্রান্স কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ান মেসি # জয়েন্ট এন্ট্রান্স (মেইন) এর প্রথমভাগের পরীক্ষা ২৪ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত # বর্ধমান জেলা রাইস মিলস অ্যাসোসিয়েশন এর শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন # বাংলার চিকিৎসক উজ্জ্বল পোদ্দার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরার তালিকায় #সরকারি কর্মচারীদের সুখের দিন শেষ, শ্রম কোড চালু হতে চলেছে সমগ্র ভারতে # পশ্চিমবঙ্গে কোভিড বিধিনিষেধ প্রত্যাহার # #পূর্ব বর্ধমান জেলায় মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ এর উদ্যোগে খালবিল ও চুনোমাছ উৎসবের উদ্বোধন ২৫ ডিসেম্বর

তৃণমূলের যুব নেতা খুনে গ্রেপ্তার দলেরই তিন


 

তৃণমূলের যুব নেতা খুনে গ্রেপ্তার দলেরই তিন


রাধামাধব মণ্ডল, আউশগ্রাম


পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রামে তৃণমূলের  যুবনেতা খুনের ঘটনায়, ভিন্ন রাজ্য থেকে আনা হয়েছিল সুপারি কিলার। পুলিশ সুত্রে এমনই খবর জানা যাচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখুনি পুলিশ তেমন স্পষ্ট করে কিছু বলতে চাইছে না। পুলিশসুত্রে জানা যাচ্ছে ভিন রাজ্যের সুপারি দিয়েই মোটা টাকার বিনিময়ে হত্যা করা হয়েছে তৃণমূলের যুবনেতা চঞ্চল বক্সীকে। তদন্তের জন্য সে দিনের অনুষ্ঠানে যাওয়া বিভিন্ন জনকে একান্ত ভাবে ডেকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নানা উত্তর খুঁজে পায় তদন্তকারীরা। সেই মতো খুনে যুক্ত থাকতে পারে, এমন বিভিন্ন সন্ধেহ ভাজনদের একটি তালিকা তৈরি করে আউশগ্রাম থানার পুলিশ। তারপর নানা সুত্র ধরে তদন্ত শুরু করে কেসের তদন্তকারী অফিসার ছোড়া ফাঁড়ির ও সি রণজিৎ মুখোপাধ্যায়। ফোন ট্যাপিং করেই  বড়োসড়ো সাফল্য মেলে। সেখান থেকেই বড় সূত্র খুঁজে পায় পুলিশ। সি সি টিভির রেকর্ড ইতিহাসও পুলিশের কাছে রয়েছে। ঘটনার দিন এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রটি এবং জামাটিকে ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠিয়েছে পুলিশ। সেই সঙ্গে বৃহত্তর তদন্তের স্বার্থে ভিন রাজ্যেও পাড়ি দিয়েছে আউশগ্রাম থানার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল। চলছে সুপারি কিলারের খোঁজে তল্লাশিও। গত মঙ্গলবার গেঁড়াই গ্রাম থেকে নিমন্ত্রণ খেয়ে নিজের বাইকে ফিরছিলেন আউশগ্রামের দেবশালার অঞ্চল প্রধান শ্যামল বক্সীকে সঙ্গে নিয়ে তার ছেলে তৃণমূলের যুবনেতা চঞ্চল বক্সী। সে দিন দিনদুপুরে বলরামবাটি মৌজার জঙ্গলে শুটআউটের ঘটনার তদন্তে নেমে সিট গঠন করে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ। মৃত যুবনেতার ভাই, ঘটনার একদিন পর পূর্ব বর্ধমানের এসপি-র কাছে লিখিত অভিযোগ করে। সেই মতো শুরু হয় আউশগ্রাম থানায় খুনের মামলা। তারপর মৃত যুবনেতার বাড়িতে আসেন বীরভূমের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা আউশগ্রামের দলীয়  পর্যবেক্ষক অনুব্রত মণ্ডল।

 তিনি গ্রেফতারের জন্য পুলিশকে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেন। তা না হলে ভয়ঙ্কর খেলা খেলে দিয়ে চলে যাবার কথাও বলেন। তার বক্তব্যেই স্পষ্ট হয়ে যায় দল কি চাইছে। তিনি দেবশালাবাসীর কাছেই দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে, বলে পুলিশকে। তারপর থেকেই ছোটাছুটি শুরু হয় পুলিশ মহলে। রবিবার দুপুরে দেবশালার কলমডাঙা গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য ও দেবশালা তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল যুব সভাপতি আসানুর মণ্ডল (২৬), তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতির ছেলে লবণধার গ্রামের তৃণমূল নেতা বিশ্বরূপ মণ্ডল ওরফে মানু (৪২), ভাতকুণ্ডার মৌকোটা গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য মণির হোসেন মোল্লা (৬২) কে গ্রেফতার করে আউশগ্রাম থানার পুলিশ। পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা সকলেই যুবনেতা চঞ্চল বক্সী খুনের ঘটনায় প্রত্যক্ষ জড়িত। যদিও আরও অনেকেই এই খুনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বলে পুলিশসুত্রে জানা যাচ্ছে। ধৃতদের সোমবার বর্ধমান আদালতে তোলা হবে। এবং পুলিশ জানায়, তারা তদন্তের স্বার্থে হেফাজতে চাইবে। 

এবিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে আউশগ্রাম বিধানসভার বিধায়ক অভেদানন্দ থান্দার বলেন, "পুলিশ নিজেদের মতো তদন্ত করবে। কোনো রং দেখা হবে না। তৃণমূল মানুষের সরকার। সেখানে মানুষকে বিপদে ফেলে কিছু করা হবে না। আগামীতে দল কি সিদ্ধান্ত নেবে, তা আমাদের নেতা অনুব্রত মণ্ডল জানাবেন।"

যদিও মৃত যুবনেতার বাবা, দেবশালা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শ্যামল বক্সী বলেন, "আমাদের সরকারের প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে। আমাদের নেতৃত্ব অনুব্রত মণ্ডল বিষয়টি দেখছেন। তিনি বলেছেন, দোষীদের শাস্তি হবে। আমরা আর কিছু চাই না।"

Post a Comment

0 Comments