Scrooling

ঘূর্ণিঝড় রিমাল : পূর্ব বর্ধমানে ৪টি ব্লক ক্ষতিগ্রস্ত, মৃত ২ # চুরুলিয়ায় ৫ দিন ব্যাপী নজরুল স্মরণে বর্ণময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলা # নন্দীগ্রামে বিজেপি সমর্থক খুনে রিপোর্ট চাইলো কমিশন # ১৮ তম লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল জানা যাবে ৪ জুন

বড়শুলে তিনটি ক্লাবের উদ্যোগে দু'দিনের রক্তদান উৎসব


 

বড়শুলে তিনটি ক্লাবের উদ্যোগে দু'দিনের রক্তদান উৎসব




ডিজিটাল ডেস্ক রিপোর্ট সংবাদ প্রভাতী : বড়শুল কিশোর সংঘের উদ্যোগে এবং বড়শুল নিউ সান ক্লাব ও বড়শুল কুমীরকোলা ইয়ং স্টার ক্লাবের সহযোগিতায় দু'দিনের রক্তদান শিবির শুরু হলো আজ। বড়শুল উৎসব মঞ্চে বর্ধমান শুক্রবার প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে রক্তদান শিবিরের উদ্বোধন করেন বর্ধমান উত্তরের বিধায়ক ও বর্ধমান উত্তর ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নিশীথ কুমার মালিক

 বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কের সহযোগিতায় এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য দপ্তরের শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ভলভো বাসে দুদিন ব্যাপী সেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। আজ উদ্বোধনে রক্তদাতাদের উৎসাহ দিতে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব বর্ধমান পুলিশের সার্কেল ইন্সপেক্টর দেবনাথ সাধুখাঁ, শক্তিগড় থানার অফিসার ইন চার্জ কুনাল বিশ্বাস, বর্ধমান ২ নং পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি অরুণ গোলদার, পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ সৌভিক পান, বড়শুল ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুস্মিতা সরেন, উপ প্রধান রমেশ চন্দ্র সরকার, ফেডারেশন অফ ব্লাড ডোনার্স অর্গানাইজেশন ইন্ডিয়া'র রাজ্য সম্পাদক কবি ঘোষ, পূর্ব বর্ধমান জেলার কনভেনর উদয় রায়, সভাপতি ফজলুল হক, পাল্লারোড পল্লীমঙ্গল সমিতির সম্পাদক সন্দীপন সরকার, বড়শুল ২ পঞ্চায়েতের প্রাক্তন উপপ্রধান গৌরাঙ্গলাল বসু সহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ ও তিনটি ক্লাবের কর্মকর্তারা। 

উল্লেখ্য দু'দিনের রক্তদান শিবিরকে সামগ্রিক ভাবে সফল করে তুলতে বড়শুল কিশোর সংঘের সম্পাদক পার্থ ঘোষ এর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন বড়শুল নিউ সান ক্লাবের সম্পাদক পল্লব মন্ডল এবং বড়শুল কুমীরকোলা ইয়ং স্টার ক্লাবের সম্পাদক সৌমিত্র বিশ্বাস।

বিধায়ক নিশীথ কুমার মালিক বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই উদ্যোগের ভূয়ষী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বর্ধমান উত্তর বিধানসভা এলাকায় এখন একছাতার নিচে ১৮৭ টি ক্লাব রয়েছে। তাঁর পরিচালনায় ক্লাবগুলো নানাবিধ সামাজিক কাজকর্ম করে চলেছে। ২০২০ সালে লকডাউনের শুরু থেকেই বড়শুল কিশোর সংঘ অসহায় মানুষের পাশে রয়েছে। সম্প্রতি একটি গরীব পরিবারের মেয়েকে নিজেদের খরচে বিয়ে দিয়েছে। আর এই ক্লাবের সম্পাদক পার্থ ঘোষ হলো বর্ধমান উত্তর ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ। মিশন নির্মলবাংলা কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিভিন্ন ক্লাবগুলোরও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল।

বড়শুল কিশোর সংঘের সম্পাদক পার্থ ঘোষ জানান, আজকের রক্তদান শিবিরে মোট ৫০ জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। মহিলা রক্তদাতা ছিলেন ১৫ জন, পুরুষ রক্তদাতা ছিলেন ৩৫ জন। পার্থবাবু জানান, এই করোনা পরিস্থিতিতে চারিদিকে একটা রক্তের সঙ্কট চলছে। সমাজের দায়িত্ব পালনই ক্লাব সংগঠনগুলির প্রধান উদ্দেশ্য হওয়াই উচিত বলে মনে করি। তাই এলাকার তিনটি ক্লাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগন আলোচনা করে দুদিন ব্যাপি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেছি। আগামী কালও ৫০ জন মানুষ স্বেচ্ছায় রক্তদান করবেন। এলাকা সবুজায়ানের লক্ষ্যে সকল রক্তদাতাদের হাতে একটি করে চারাগাছ তুলে দেওয়া হয়। এব্যাপারে বড়শুল কিশোর সংঘের সম্পাদক পার্থ ঘোষ জানান, মোট চার ধরনের চারাগাছ রক্তদাতাদের হাতে দেওয়া হলো। এরমধ্যে রয়েছে মহুয়া, পিয়াল পলাশ ও কুসুম। সদ্য মাউন্ট ইউনাম পর্বত শৃঙ্গ জয়ী মেমারীর মহঃ নওয়াজ ও কৌশিক বাসুর ব্যবস্থাপনায় পুরুলিয়া জেলার বনদপ্তর থেকে এই চারাগাছগলি পাওয়া গেছে। বড়শুল কিশোর সংঘের সম্পাদক পার্থ ঘোষ বলেন, পুরুলিয়া জেলার সাথে পূর্ব বর্ধমান জেলার মধ্যে সিডস ও চারাগাছের মাধ্যমে দুই জেলার সেতুবন্ধনের কাজ করবে বড়শুল কিশোর সংঘ। তিনি আরও বলেন আমাদের দুই জেলার মধ্যে চারাগাছ বিনিময় করাই আমাদের বড়শুল কিশোর সংঘের প্রধান উদ্দেশ্য। পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন গাছের সিডস ও চারাগাছ (আম, জাম, কাঁঠাল সহ অন্যান্য চারাগাছ) পুরুলিয়ার একটি সংস্থাকে দেওয়া হবে। সেই সংস্থা সিডস থেকে অঙ্কুর করে তারপর চারাগাছ তৈরি করে ওই এলাকায় চারাগাছগলি রোপণ করবে। পুরুলিয়া জেলার পলাশ, কুসুম, মহুয়া, পিয়াল সহ অন্যান্য গাছের সীডস এনে আমাদের ক্লাব অঙ্কুর তৈরি করে তারপর চারাগাছ তৈরি করে এলাকায় সবুজায়ানের লক্ষ্যে রোপণ করবে এবং এলাকায় বিলিও করা হবে। তার শুভ সূচনা করার উদ্দেশ্যেই আজ প্রত্যেক রক্তদাতাদের প্রতীকী হিসাবে ওই চারটি প্রজাতির চারাগাছ তুলে দেওয়া হলো। 

এলাকায় সবুজায়ানের উদ্দেশ্যে বড়শুল কিশোর সংঘ আগামী এক বছরের মধ্যে পাঁচ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছ এলাকায় রোপণ করবে। বিধায়ক নিশীথ কুমার মালিকের হাত দিয়ে সেই কর্মসূচির সূচনা হলো ।

আজকের এই রক্তদান অনুষ্ঠানের মাঝে স্থানীয় স্বস্তিপল্লীর একজন মেধাবী ও দুঃস্থ ছাত্রীকে একাদশ শ্রেণীর পিওর সায়েন্স বিভাগের সব বই তুলে দেওয়া হয়।