চৈতন্য মহাপ্রভু'র নামে নব নির্মিত তোরণ উদ্বোধন কাটোয়ার দাঁইহাটে

শতবর্ষে বর্ধমান ডিস্ট্রিক্ট রাইস মিলস অ্যাসোসিয়েশন # উচ্চ মাধ্যমিকে রাজ্যের সেরা অদিশা দেবশর্মা, দশের মেধা তালিকায় ২৭২ জন # আধার কার্ডের ফটোকপির অপব্যবহার রুখতে বিজ্ঞপ্তি জারি # ইউনেস্কো'র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুজো # বাংলার চিকিৎসক উজ্জ্বল পোদ্দার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরার তালিকায়সরকারি কর্মচারীদের সুখের দিন শেষ, শ্রম কোড চালু হতে চলেছে সমগ্র ভারতে পশ্চিমবঙ্গে কোভিড বিধিনিষেধ প্রত্যাহার #পূর্ব বর্ধমান জেলায় মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ এর উদ্যোগে খালবিল ও চুনোমাছ উৎসবের উদ্বোধন ২৫ ডিসেম্বর

যশ পরিস্থিতি সামাল দিতে তৈরি ব্লক প্রশাসন


 

যশ পরিস্থিতি সামাল দিতে তৈরি ব্লক প্রশাসন


অতনু হাজরা, জামালপুর : আর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ভুমিভাগে আছড়ে পড়তে চলেছে বঙ্গোপসাগরে উদ্ভূত ঘূর্ণিঝড় যশ। পশ্চিমবঙ্গের বেশিরভাগ জেলাতেই কম বেশি প্রভাব পড়বে। পূর্ব বর্ধমান জেলাও রয়েছে রেড জোনে। পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর ব্লক পুরোপুরি ভাবে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান জামালপুর ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা। জামালপুর ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক শুভঙ্কর মজুমদার জানান, তাঁর ব্লক প্রশাসন আসন্ন ঘূর্ণিঝড় নিয়ে পুরো প্রস্তুত রয়েছে। তিনি জানান ইতিমধ্যেই তিনি নিজে, বিধায়ক অলক কুমার মাঝি, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খান, পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ ভুতনাথ মালিক সহ কৃষি অধিকর্তা সানজিবুল ইসলাম, বিদ্যুৎ বিভাগের স্টেশন ম্যানেজার বিদ্যুৎ কুমার সাহা, ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ ঋত্বিক ঘোষ তাঁরা একটা মিটিং করেছেন কিভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে যদি বিপর্যয় ঘটে। তিনি আরো জানান ব্লকের সমস্ত বিদ্যালয়গুলিকে সচেতন থাকতে বলে হয়েছে প্রয়োজন হলে সেখানে মানুষজনকে উদ্ধার করে রাখা হবে। ব্লকে ফ্লাড শেল্টার আছে সেগুলো রেডি করা আছে প্রয়োজনে সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের এনে রাখা হবে। তাদের খাবার ব্যবস্থাও করা হবে। তিনি নিজে সমস্ত পঞ্চায়েতের প্রধানদের সাথে কথা বলেছেন সকলেই তৈরি আছেন তাঁরা। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা তৃণমূল কংগ্রেসের জামালপুর ব্লক সভাপতি মেহেমুদ খান জানান, যশ পরিস্থিতিতে তৈরি আছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশমত তাঁরা প্রস্তুতি নিয়েছেন। প্রতিটি অঞ্চলে তিনি নিজে খোঁজ খবর নিয়েছেন। স্কুল গুলোকে তৈরি রাখা আছে যাতে সাথে সাথে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সেখানে নিয়ে যাওয়া যায়। কোভিড বিধি মেনেই সেগুলো করা হবে। এছাড়াও ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ২৫ তারিখ ও ২৬ তারিখ এই দুই দিনের জন্য তিনি কন্ট্রোল রুম খুলেছেন যেখানে তিনি একটি নম্বর দিয়েছেন। নম্বরটি হলো ৯৫৯৩৯৭৩৮৮৭। কোনো সমস্যায় বা কোনোরকম সহায়তায় এই নাম্বারে ফোন করলেই সাথে সাথে সাহায্য করা হবে বলে তিনি জানান। এছাড়াও প্রয়োজনে বিডিও, থানার ওসি ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির নাম্বারে ফোন করলেও সাহায্য মিলবে। বিধায়ক অলক কুমার মাঝি জানান, দলনেত্রী পুরো বিষয়টি নজরে রাখছেন কারোর কোনো অসুবিধা তিনি হতে দেবেন না। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই ব্লক সভাপতি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা করেছেন সকলকে তিনি আশ্বস্ত করেন ব্লক প্রশাসন সমস্ত রকমের সাহায্য করবেন। ব্লক কৃষি অধিকর্তা সানজিবুল ইসলাম জানান ব্লকে এই মুহূর্তে ৯৫% বোরো ধান কাটা হয়ে গেছে। বাকি ধান কেটে মাঠেই পড়ে আছে। সেই ধান যাতে কৃষকরা তাড়াতাড়ি বয়ে নিয়ে ঝেড়ে গুদামজাত করেন সেই মর্মে সমস্ত পঞ্চায়েত প্রধানদের সাথে কথা বলেছেন তিনি। এমনকি পুরো ব্লকে মাইকিং করিয়েছেন। ব্লকে প্রায় ৫০০০ হেক্টর জমিতে তিল চাষ করা আছে যেগুলো এখনো কাটার সময় হয়নি। সবগুলো ক্ষতি হতে পারে তবে তিল জমিতে জমা জল যদি দ্রুত বের করে দেওয়া যায় তাহলে ক্ষতি কম হবে। বেরুগ্রাম, জামালপুর ১ নং পঞ্চায়েত সহ যেখানে যেখানে সবজি চাষ হয় সেখানে মাচা গুলো ভালো ভাবে বাঁধার কথা বলা হয়েছে। ঝড় জল থেমে গেলে ক্ষয় ক্ষতি দেখে জেলায় রিপোর্ট করা হবে বলে তিনি জানান। জামালপুরে ব্লকের বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিক বিদ্যুৎ সাহা বলেন যুদ্ধ কালীন তৎপরতায় তাঁরা তৈরি আছেন। সরকারি নির্দেশে তাঁদের সকল কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে, যাঁরা ছুটিতে আছেন তাঁদের কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছে। ঝড়ে ক্ষয় ক্ষতি ব্যাপক হলে একটু সময় তাঁদের লাগবে বলে জানান।কারণ প্রথমে ৩৩ হাজার লাইন, তারপর ১১ হাজার লাইন ঠিক হলে ৪৪০ বা ২২০ লাইন সারানো হয়। গোটা ব্লকটাকে তিনটি জোনে ভাগ করে তাঁরা কাজ করবেন। অনেক জায়গায় হয়তো গাছ পড়ে যাবে সে ক্ষেত্রে তিনি স্থানীয় মানুষজনের সাহায্য চান।যেভাবে আমফানের সময় মানুষ সাহায্য করেছিলেন। প্রসঙ্গত আমফনের সময় দ্রুততার সাথে কাজ করে জামালপুরকে বিদ্যুৎ দিয়ে দিয়েছিলেন তাঁরা। তিনি জামালপুরবাসীর উদ্দেশ্যে জানান যেকোনো রেজিস্টার মোবাইল নাম্বার থেকে টোল ফ্রি নাম্বার ১৮০০-৩৪৫-৩২০১ এবং ১৯১২১ ও ৮৪২২৯৯০৩৩৭ এই নাম্বারে মিসড কল দিলেই পরিষেবা পাবেন উপভোক্তারা। ব্লক স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডা: ঋত্বিক ঘোষ জানান সরকারি নির্দেশ মত তাঁরা তৈরি আছেন। জেনারেটরের ব্যবস্থা করেছেন, আছে পর্যাপ্ত অক্সিজেন। করোনা পরিস্থিতিতে এই ঘূর্ণি ঝড়ে কোনো মানুষের চিকিৎসার প্রয়োজনে পরিষেবা দিতে তাঁর স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জানান।কোভিড বিধি মেনেই দেওয়া হবে স্বাস্থ্য পরিষেবা। জামালপুর ১ নং পঞ্চায়েতের উপ প্রধান সাহাবুদ্দিন মন্ডল(পাঞ্জাব) জানান তাঁর পঞ্চায়েতে যেসমস্ত গ্রামে মাটির বাড়ি আছে যেগুলোর অবস্থা খারাপ তাঁদের স্থানীয় বিদ্যালয়গুলিতে নিয়ে এসে রাখা হবে ২৫ ও ২৬ তারিখ এই দুই দিন। তাদের খাবারের ব্যবস্থাও তিনি করবেন বলে জানান।এছাড়াও তিনি ৩০ জনের একটি টিম তৈরি করেছেন (যাতে গাছ কাটার লোকেরাও আছেন) যেকোনো পরিস্থিতি এরা ফিল্ডে নেমে কাজ করবেন। প্রয়োজনে তাঁর নিজের ফোন নাম্বারে (৯৭৭৫৭০১২৯৮) ফোন করতে পারেন তাঁর পঞ্চায়েতের কোনো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। মোটের উপর ঘূর্ণি ঝড় মাথার উপর খাঁড়া হয়ে ঝুললেও সমস্ত রকম পরিস্থিতিতে তা সামাল দিতে প্রস্তুত জামালপুর ব্লক প্রশাসন।




Post a Comment

0 Comments