চৈতন্য মহাপ্রভু'র নামে নব নির্মিত তোরণ উদ্বোধন কাটোয়ার দাঁইহাটে

হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের যাত্রার সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী # ফুটবলে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়, ফ্রান্স কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ান মেসি # জয়েন্ট এন্ট্রান্স (মেইন) এর প্রথমভাগের পরীক্ষা ২৪ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত # বর্ধমান জেলা রাইস মিলস অ্যাসোসিয়েশন এর শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন # বাংলার চিকিৎসক উজ্জ্বল পোদ্দার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরার তালিকায় #সরকারি কর্মচারীদের সুখের দিন শেষ, শ্রম কোড চালু হতে চলেছে সমগ্র ভারতে # পশ্চিমবঙ্গে কোভিড বিধিনিষেধ প্রত্যাহার # #পূর্ব বর্ধমান জেলায় মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ এর উদ্যোগে খালবিল ও চুনোমাছ উৎসবের উদ্বোধন ২৫ ডিসেম্বর

সকল দেব-দেবীর পুজোর আগে কেন সিদ্ধিদাতা গণেশের পুজো করা হয় ?

 আর কে হাউসের গণেশ মূর্তি।                   ছবি : সত্যজিৎ দত্ত

সকল দেব-দেবীর পুজোর আগে কেন সিদ্ধিদাতা গণেশের পুজো করা হয় ?


🔸 জগন্নাথ ভৌমিক


 একদন্তং মহাকায়ং লম্বোদরং গজাননম।

বিঘ্ন-নাশকরং দেবং হেরম্বং প্রণমাম্যহম।।


হে একদন্ত বিশিষ্ট, বিশাল শরীর, স্ফীতোদর, গজমস্তকসম্পন্ন, সর্বপ্রকার বাধাবিঘ্ন বিনাশকারী দেবতা, তোমাকে আমরা ভক্তি ভরে প্রণাম করি।

ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর এই তিন শ্রেষ্ঠ দেবতা এক সঙ্গে সকল জনগণের অধিপতিরূপে গণেশ কে 'গণপতি গণেশ' নামে অভিহিত করেন। তাঁরা তাঁকে দেবতাদের সর্বাধ্যক্ষ বলেও ঘোষণা করেন। পিতা দেবাদিদেব মহাদেবও পুত্রের গণেশকে নানা বরং দান করেন। আর এই সব ঘটনায় মা পার্বতী অত্যন্ত সুপ্রসন্ন হন। তিনি গণেশকে জানালেন, তোমার জন্মলগ্ন হল ভাদ্র মাসের শুক্লা পক্ষের চতুর্থী তিথি। তোমার জন্মতিথি উপলক্ষে যারা ব্রত পালন করবে তাদের সমস্ত মনস্কামনা পূর্ণ হবে। তারপর থেকেই ভাদ্র মাসের চতুর্থী তিথি গণেশ চতুর্থী নামে পরিচিত।



সিদ্ধিদাতা গণেশের জন্ম নিয়ে পুরাণে নানা কাহিনী আছে। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ মতে, পার্বতীর সঙ্গে শ্মশানবাসী শিবের বিয়ে হয়। তারপর শিব দীর্ঘদিন কৈলাশে তপস্যামগ্ন থাকেন। অন্যদিকে দেবী পার্বতীও তপস্যা করছেন। পরে পার্বতী দেবাদিদেব মহাদেবের কাছে প্রার্থনা করেন প্রভু আপনার কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান কামনা করি। দেবাদিদেব পার্বতীকে বললেন, তুমি সকলের আধার এবং বীজ অর্থাৎ কারণস্বরূপা। জগদম্বে, তোমার সমস্ত অভীষ্টই আমি পূরণ করব। তবে শুনে রাখ, জননী নিজের কর্মফল আর ধর্মাচরণে পুত্রসন্তান লাভ করলে তার সব থেকে গৌরবজনক হয়। দেবাদিদেবের কথায় উৎসাহিত হয়ে তাঁর নির্দেশ মতো পার্বতী এক বছর কঠোর ভাবে 'পুণ্যকব্রত' পালন করলেন। অবশেষে শ্রীবিষ্ণুর কৃপায় দেবী পার্বতীর কোলে অনিন্দ্য সুন্দর এক পুত্র সন্তান এলো। দেবাদিদেব পার্বতীর পুত্রকে দর্শন করে আশীর্বাদ করে গেলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে শনি মহারাজের দৃষ্টিতে শিশুটির মস্তক ছিন্ন হল। এরপর ভগবান বিষ্ণু তাঁর সুদর্শন চক্র দ্বারা দুটি শ্বেত দন্ত সহ ঐরাবতের মাথাটি কেটে যোগবলে শিশুটির মাথায় গজমুন্ড স্থাপন করে ব্রহ্মজ্ঞান প্রভাবে ভগবান ব্রহ্মধ্বনি উচ্চারণ করে পার্বতী পুত্র গণেশকে বাঁচিয়ে তুললেন। ভগবান বিষ্ণু দেবপুত্রকে আশীর্বাদ করে নিজ ভূষণ কৌস্তুভ মণি দান করলেন। ব্রহ্মা নিজের মুকুট দান করলেন। রত্নভূষণ দান করলেন ধর্ম। তারপর ক্রমে সকল দেব-দেবীগন এগিয়ে এসে শিশু গণেশকে যথোচিত রত্ন দান করেন। বিষ্ণু সর্বোত্তম উপহার দ্বারা গণেশকে পুজো করে বললেন, 'হে বৎস, তুমি যোগীন্দ্র এবং দেবতাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হবে। আমি সবার আগে তোমার পুজো করলাম যাতে তুমি সকলের পূজ্য হও। এমনকি তিনি গণেশকে বনমালা ও ব্রহ্মজ্ঞান প্রদান করলেন। ভগবান বিষ্ণু নবজাতক পুত্রকে মোক্ষদায়ক ব্রহ্মজ্ঞান এবং সম্পূর্ণ সিদ্ধিদান করে নিজের সমকক্ষ করে তাঁকে অষ্টনামে ভূষিত করলেন -- বিঘ্নেশ, গণেশ, হেরম্ব, গজানন, লম্বোদর, একদন্ত, শূর্পকর্ণ এবং বিনায়ক। এভাবেই গণপতি গজানন দেবতাদের মধ্যে সর্বাগ্রে পূজিত হন।


Post a Comment

0 Comments