Scrooling

নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রীসভায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে শপথ নিলেন ডঃ সুকান্ত মজুমদার ও শান্তনু ঠাকুর # অ্যালার্জিজনিত সমস্যায় ভুগছেন ? বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ অয়ন শিকদার আগামী ২১ জুলাই বর্ধমানে আসছেন। নাম লেখাতে যোগাযোগ 9734548484 অথবা 9434360442 # আঠারো তম লোকসভা ভোটের ফলাফল : মোট আসন ৫৪৩টি। NDA - 292, INDIA - 234, Others : 17 # পশ্চিমবঙ্গে ভোটের ফলাফল : তৃণমূল কংগ্রেস - ২৯, বিজেপি - ১২, কংগ্রেস - ১

সাঁওতাল বিদ্রোহ  (দ্বিতীয় কিস্তি)


সাঁওতাল বিদ্রোহ  (দ্বিতীয় কিস্তি)

 🔸 শিবানন্দ পাল

 ➡️ মহাজনদের অত্যাচারের বিষয়ে ব্রিটিশ কমিশনারের কাছে লেখা নরসিং মাঝি ও কুদরু মাঝি-র ১৯-৮-১৮৫৪ তারিখের আবেদনপত্রটি পড়লে বিষয়টি স্পষ্ট হয় তারা  লিখেছেন, মহাজনরা আমাদের সংস্পর্শে এসে নিজেদের লাভের জন্য দু’চার টাকা ঋণ দেয়। কিন্তু তারা চড়া হারে সুদ নেয় এবং বলপ্রয়োগ ও অত্যাচার করে। ফসলের সাহায্যে ঋণ পরিশোধ করা হয়, তারা নিজেরাই মাপজোপ করে এবং হিসাবনিকাশে আমরা অজ্ঞ জংলি হওয়ায় তারা যা খুশি তাই করে। শুধু তাই নয়, ঋণ আদায়ের ছুতোয় মহাজন আমাদের ঘরে প্রবেশ করে। ছাগল, মুরগি যা পায় ধরে নিয়ে যায়, এর জন্য কোন রশিদ  দেয় না। তারা ৪০/৫০ টাকার জাল খত তৈরি করে মামলা দায়ের করে। এমনকি যদি কোন সাঁওতাল ঋণের জন্য কোন মহাজনের বাড়ি যায়, সে তার নামে চুরি বা ডাকাতির অভিযোগ আনে। ওদেরই কেউ হয়, ফরিয়াদি, কেউ সাক্ষী। এ-ব্যাপারে ম্যাজিস্ট্রেট,  কালেক্টর, সুপারিন্টেনডেন্ট  সবার কাছে বহুবার আবেদন করেও কোনো ফল হয়নি। মহাজনের অত্যাচারে অনেকে নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে,  অন্যেরা যাবার পথে, আমরা যখন প্রথম এখানে আসি, জঙ্গল কেটে আবাদযোগ্য ভূমি তৈরি করি,  সরকারের  কোষে লক্ষ লক্ষ টাকা জমা করি। সরকার আমাদের ভালো চোখে দেখত। আমাদের সুরক্ষার জন্য তৈরি হয় ১৮২৭-এর ১নং রেগুলেশন, এখন সরকারি আইনকে তোয়াক্কা না করে মহাজনরা যদি এভাবে অত্যাচার করে, আর সরকার যদি আমাদের সুরক্ষার কোনও ব্যবস্থা না করে, তাহলে আমরা কি করতে পারি? যদি এর প্রতিবিধান না হয় তাহলে এই ভূমি ছেড়ে আমরা চলে যাব। তখন এই এলাকা আবার জঙ্গলপূর্ণ হয়ে উঠবে। আমাদের প্রার্থনা এবিষয়ে সুপারের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হোক এবং মহাজনের অত্যাচার বন্ধের ব্যবস্থা করা হোক। মহাজনদের দামিন থেকে সরিয়ে নেওয়া হোক যাতে তাদের গ্রাস থেকে আমরা রক্ষা পেতে পারি। (Judicial Pros. No. 157, 14-02-1856.)

১৮৫৪-র ১৯ আগস্টের এই চিঠিকে ব্রিটিশ প্রশাসন যদি গুরুত্ব দেয় তাহলে সাঁওতাল বিদ্রোহ হয়না। ১৮৪৮ থেকেই সাঁওতালরা মহাজন,   নায়েব-সুজোয়াল  ও রেলওয়ে কনট্রাক্টরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সুপারিন্টেনডেন্ট ও ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ পেশ করে আসছিল। এতে কোনও ফল না হওয়ায় বহু জায়গায় বহু সাঁওতাল পরিবার নিয়ে গ্রাম ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। ১৯৪৮-এ দামিনকো এলাকার তিনটি গ্রাম এভাবে সাঁওতাল শূন্য হয়েছিল। ১৮৫১-য় মিঃ পনেট তাঁর একটি রিপোর্টে লিখেছিলেন,
মহাজনদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত চড়াহারে সুদগ্রহণের এবং ওজনে ঠকানোর প্রচুর অভিযোগ আসছে। ১৮৫৩-র রিপোর্টেও তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একই অভিযোগ করে জানান, মহাজনরা অজ্ঞ সাঁওতালদের কাছ থেকে অত্যন্ত চড়া হারে সুদ নিচ্ছে। ১৮৫৪-য় তিনি জানান, সাঁওতালরা মহাজন ও রেল কর্মীদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ করছে। মিঃ বিডওয়েল তার রিপোর্টে লিখেছেন, “the Primary cause of the out break amongst the tribe, on account of the oppressive exactions of the Mohajons, added to the corruption of the Naib Sezuwals, and in some places oppression on the part of Railway employees, and the little check which they received from the Govt. authorities.” (Judicial Pros. No. 157, 14-02-1856.)

স্বাভাবিকভাবে এইসব কারণে কোম্পানি সরকারের প্রতি সাঁওতালদের বিতৃষ্ণা চরমে ওঠে। আবেদন নিবেদনে কোনও ফল না হওয়ায় সাঁওতালরা ডাকাতির পথ ধরে। বেছে বেছে তারা মহাজনদের বাড়িতে ডাকাতি করতে শুরু করে। ১৮৫৪ থেকে দেখা যায় মহাজনদের ঘরে ডাকাতির সংখ্যা বেড়েছে। ১৮৫৪-র মে-জুন মাসেই দামিনকোর ছ’জন মহাজনের বাড়িতে ডাকাতি হয়। ভাগলপুরের সেশন জজ এবং ম্যাজিস্ট্রেট ২৪-০৬-১৮৫৪ কমিশনারকে এবিষয়ে রিপোর্ট দেবার সময় মন্তব্য করেন, এটা খুব চিন্তার কথা যে সাঁওতালদের মতো শান্ত এবং নিরীহ মানুষরা এইসব ডাকাতি করেছে। কারণ জিজ্ঞাসা করলে তারা বলে, বাঙালি মহাজনরা আমাদের ভিখারিতে পরিণত করেছে।  আশঙ্কা প্রকাশ করে ম্যাজিস্ট্রেট বলেন,  সাঁওতালদের এই মনোভাব স্থায়ী হলে, এ অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু থাকবে না।
মহাজনরা যে বাড়াবাড়ি করছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ তা বুঝতে পারে। ভাগলপুরের কমিশনার মিঃ ব্রাউন কয়েকটি ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলেন। কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি মিঃ পনেটকে মুন্সেফ ক্ষমতা দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেন। কোম্পানিও সরকার ০৩-১১-১৮৫৪ মিঃ পনেটকে দামিনকো-র মুন্সেফ ক্ষমতা প্রদান ঘোষণা করে।

কিন্তু মিঃ পনেট কেন এই পদে বেশ কয়েক মাস পরে যোগদান করেন জানা যায় না। প্রায় পাঁচ মাস পর ২০ মার্চ, ১৮৫৫ পনেট এই পদে যোগ দেন। এই পাঁচমাসে ভাগীরথী দিয়ে অনেক জল বহে যায়। সরকারি আধিকারিক মিঃ পনেট সাঁওতাল বিদ্রোহ সম্পর্কে তাঁর রিপোর্টে লিখেছেন, “I fully believe the whole cases false. Certainly as regards the amount sued for, but in some instances I am sure the whole debt had been paid ten-fold, These poor fellows from not being able to read and write, have no check whatever over the Bengally in marking off their Payments, and as for the Bengally giving a receipt when paid in full, or returning the lands, such a thing is never known… .” Judicial Pros. No. 157, 14-02-1856.

মহাজনদের অত্যাচারই সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রধান কারণ বলে মনে করতেন ক্যাপ্টেন শেরউইল  এবং পাকুড়ের রানী। রামপুরহাটে সেসময় রেলপথ স্থাপনের কাজ চলছিল। সেখানেও রেলওয়ে কলোনি গড়ে উঠেছিল। ইউরোপীয় কন্ট্রাক্টর ও রেলওয়ে ইন্সপেক্টরদের কোয়ার্টার ছিল। সপরিবারে তারা থাকতেন। তাদের কাছে সাঁওতালরা কাজ করলে ন্যায্য মজুরি পেত না। সাঁওতালদের পল্লীতে ঘুরে তারা ছোটোখাটো অত্যাচার করেই ক্ষান্ত ছিল না। সাঁওতাল মেয়েদের শ্লীলতাহানিও করত।
১৮৫৬-তে ‘ক্যালকাটা রিভিউ’-এর লেখক লিখেছেন, “একজন সাঁওতালকে তাঁর ঋণের জন্য জমির ফসল, লাঙ্গলের বলদ, এমনকি নিজেকে এবং তার পরিবারকে হত, আর সেই ঋণের দশগুণ পরিশোধ করলেও তার ঋণের বোঝা পূর্বে যেমন ছিল, পরেও তেমন থাকত।এইসব মহাজনদের সুদের হারও অবিশ্বাস্য-৫০ থেকে ৫০০ শতাংশ।“ (The Calcutta Review, 1856,p.241.)

১৮৫৫-র শুরুতেই কালেক্টরের নজরে আসে সাঁওতালদের ওপরে মহাজনদের অত্যাচারের ব্যাপারটা। তিনি এই বিষয়ে তদন্তের এবং মহাজনদের কতগুলো নির্দেশ দেন।মহাজনদের বলা হয় সাঁওতাল বিচ্ছিন্ন গ্রাম ছেড়ে বা গঞ্জে, যেখানে হাট বাজার আছে, সেখানে গিয়ে বসবাস করতে। এমনকি সেই নির্দেশ অমান্য করলে দিন প্রতি ৫ টাকা হারে তাদের জরিমানা করারও নির্দেশ দেন তিনি। অবশ্য এতে কাজের কাজ কিছু হয়না।
১৮৫৫-য় মিঃ পনেট-এর কাছে সাঁওতালরা ৬৭টি অভিযোগ পেশ করে। তাঁর অর্ধেকই ছিল মহাজনদের অত্যাচারের বিষয়ে। ততদিনে সাঁওতাল বিদ্রোহের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়ে গেছে। সিধু কানু দুই ভাই নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে এলেন। ভগনাডিহির নারায়ণ মাঝির এই দুই পুত্র ঘোষণা করলেন, "ঈশ্বরের আশীর্বাদ নিয়ে অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াইতে আমরা নামতে যাচ্ছি। ঈশ্বর তাঁদের গৃহে আবির্ভূত হয়েছেন, ঈশ্বর নিজেই যুদ্ধ করবেন। তাঁর হাতেই সব সাহেব বধ হবে। তাঁর আশীর্বাদে সাহেবদের বন্দুকের গুলি সাঁওতালদের আঘাত করবে না। বিশ্বাসঘাতকের শাস্তি হবে মৃত্যু। মহাজনরা ঘৃণ্য অপরাধে অপরাধী। আমলারা খারাপ নিমকানুন তৈরি করছে, এর জন্য দায়ী সাহেবরা। ঈশ্বর বলেছেন এ দেশ সাহেবদের নয়, তিনি নিজে সাঁওতালদের হাতে অস্ত্র তুলে দেবেন।" (Judicial Pros. No, 221, 23.8.1855)

এই পরোয়ানা প্রচারের কয়েক দিনের মধ্যে ভগনাডিহিতে সিধু-কানুর বাড়িতে কয়েক হাজার সাঁওতাল সমবেত হয়। সিধু তাদের দুটো ছাপা বই, দু’টুকরো কাগজ আর একটা ছবি দেখিয়ে বলেন, ঠাকুর এগুলো পাঠিয়েছেন। বলেছেন, সাঁওতালরাই এদেশের রাজা। বলদের লাঙ্গলের জন্য এক আনা মোষের লাঙ্গলের জন্য দু’আনা খাজনা ধার্য হয়েছে। মহাজনদের ঋণ পরিশোধের প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে টাকা প্রতি বছরে এক পয়সা হারে সুদ দেওয়া হবে, আর ইংরেজদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে।প্রায় দশ হাজার অস্ত্র সজ্জিত সাঁওতাল জড়ো হয়।

দিঘির দারোগা মহেশ দত্ত খবর পেয়ে কয়েকজন বরকন্দাজ নিয়ে ঘটনাস্থলে যাবার সময় ভগনাডিহির ৩ মাইল দূরে পাঁচকাটিতে সিধু-কানুর নেতৃত্বাধীন প্রায় ৫০০ সাঁওতালের সামনে পড়ে। দুই পক্ষে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। সিধু দারোগাকে আঘাত করে। কানু দারোগার সঙ্গী মানিকরাম মহাজনকে। কয়েকজন বরকন্দাজও নিহত হয়।
ঘটনা এখানেই থামে না। অত্যাচারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে সাঁওতালরা। ভাগলপুরের ম্যাজিস্ট্রেট ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ৯ জুলাই
(১৮৫৫) সরকারকে জানালেন, এই জেলায় বিরাট সংখ্যক সাঁওতাল সিংভুম ও অন্যান্য জেলার সাঁওতালদের সহায়তায় দেশের কর্তৃত্ব হাতে নেবার জন্য বিদ্রোহ করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তিনি আরও সৈন্য চেয়ে পাঠালেন। (Judicial Pros. No, 1, 19.7.1855) একই দিনে ঔরঙ্গাবাদের এসি ম্যাজিস্ট্রেট মিঃ ইডেন কর্তৃপক্ষের কাছে খবর পাঠালেন, সাঁওতালরা বিদ্রোহ করেছে, সমস্ত ইংরেজ এবং সম্ভ্রান্ত লোকদের হত্যা করতে তারা বদ্ধপরিকর। ১০ জুলাই, (১৮৫৫) আর একটি চিঠিতে তিনি জানালেন, সাঁওতালরা অত্যন্ত সরল এবং শান্ত প্রকৃতির মানুষ। মনে হয়, এ পথ নিতে তারা বাধ্য হয়েছে। তাদের জমাট বাধা ক্ষোভের কোনও প্রতিকার হয়নি। তাদের অবস্থা খুব শোচনীয়। অম্বর ও সুলতানাবাদ পরগণায় সাঁওতালরা প্রাণধারণের অতিরিক্ত কিছু পায়না। জমিদাররা তাদের উদ্বৃত্ত নিয়ে নিয়েছে। খাসমহলেও তাদের অভিজ্ঞতা একইরকম।

কলকাতায় এসব খবর পৌঁছায় ১২ জুলাই (১৮৫৫)। পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করে কোম্পানি সরকার সেনা তলব করে।
বারহেট বাজারে জনা ৫০ মহাজনের বাস ছিল। তাদের কয়েকজনকে হত্যা করে কানুর দলবল। সিধুর নেতৃত্বে রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়রদের  আবাস স্থল শ্রীকুণ্ড আক্রান্ত হয়। ইঞ্জিনিয়ররা পালিয়ে বাঁচে। রেলওয়ে কনট্রাকটরদের প্রধান ঘাঁটি পলসা লুট করে বাংলোগুলো ধ্বংস করা হয়। টমাস নামে এক অত্যাচারী কন্ট্রাক্টর গুরুতর আহত হয়। তার স্ত্রী এবং শ্যালিকা নিহত হয়। টমাসের ওপরে সাঁওতালদের রাগ ছিল। টমাস সাঁওতাল মেয়েদের বেইজ্জত করত। টাকা পয়সা না দিয়ে, সাঁওতাল পল্লী থেকে ছাগল, ভেড়া,  মুরগী তুলে নিয়ে আসত। একজন বাধা দেওয়ায়, তাকে সে হত্যা করেছিল। এবিষয়ে একজন অভিযোগ করতে ভাগলপুর গেলে তাকে সেখানে জেলে পোরা হয়।

এ প্রসঙ্গে গবেষকদের জেনে রাখা ভালো। দামিনকো এলাকার ফৌজদারি সংক্রান্ত বিষয়ের জন্য ভাগলপুর যেতে হতো, আর দেওয়ানি বিষয়ে যেতে হতো জঙ্গিপুর। সাঁওতালদের এজন্য খুবই অসুবিধা হতো। কোম্পানি প্রশাসন এই ব্যবস্থা ইচ্ছা করেই করেছিল। ঔরঙ্গাবাদে ও রাজমহলের নীলকুঠিগুলো আক্রান্ত হয়। ঔরঙ্গাবাদের অনেকগুলো নীলকুঠি বন্ধ হয়ে যায়। হেনশ নামে এক নীলকর, দুই পুত্র সহ নিহত হয়। ৫০০০ সাঁওতাল কদমসার নীলকুঠি আক্রমন করে। সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করা হয়। কানু ঘোষণা করেন, পাপের রাজত্বের অবসান হয়ে পুণ্য রাজ্ত্বের সূচনা হয়েছে। ঈশ্বর আমাদের রাজ্য দান করেছেন এবং এখন থেকে আমরা পাপপুণ্যের বিচার করব। পাকুড়ের রানী ক্ষেমাসুন্দরীকে বিদ্রোহীরা তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানায়। রানী সেই আহ্বানে সাড়া না দেওয়ায় ১২ জুলাই, (১৮৫৫) পাকুড় রাজবাড়ি লুণ্ঠিত হয়।

                                        (পরের অংশ আগামী মঙ্গলবার)