চৈতন্য মহাপ্রভু'র নামে নব নির্মিত তোরণ উদ্বোধন কাটোয়ার দাঁইহাটে

উচ্চ মাধ্যমিকে রাজ্যের সেরা অদিশা দেবশর্মা, দশের মেধা তালিকায় ২৭২ জন # মাধ্যমিকে যুগ্ম প্রথম বর্ধমান সিএমএস হাই স্কুলের রৌনক মন্ডল এবং বাঁকুড়ার রাম হরিপুর রামকৃষ্ণ মিশনের অর্ণব ঘড়াই # আধার কার্ডের ফটোকপির অপব্যবহার রুখতে বিজ্ঞপ্তি জারি # ইউনেস্কো'র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুজো # বাংলার চিকিৎসক উজ্জ্বল পোদ্দার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরার তালিকায়মাধ্যমিকের পর উচ্চমাধ্যমিকেও তাক লাগালো কাটোয়ার অভীক পশ্চিমবঙ্গে কোভিড বিধিনিষেধ প্রত্যাহার #১০০ দিনের কাজের বকেয়া টাকা নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের আন্দোলন

মেমারির উদীয়মান বিজ্ঞানী জেলা তথা রাজ্যের গর্ব


মেমারির উদীয়মান বিজ্ঞানী জেলা তথা রাজ্যের গর্ব

সেখ সামসুদ্দিন : মেমারির উদীয়মান বিজ্ঞানীকে চেনেন ?  মেমারি বিদ্যাসাগর স্মৃতি বিদ্যামন্দির শাখা ২ -এর দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী তথা মেমারি পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতানপুরের বাসিন্দা দিগন্তিকা বোস। ইতিমধ্যেই রাজ্য ছেড়ে দেশ-বিদেশে বিজ্ঞানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। মেমারির এই খুঁদে বিজ্ঞানী পূর্ব বর্ধমান জেলা তথা রাজ্যের গর্ব।  সে নবম শ্রেণীতে পড়ার সময় সুন্দরবনে মধু সংগ্রহে যাওয়া মৌলিদের বন‍্য প্রাণীদের হাত থেকে রক্ষার্থে ৩৮০ ডিগ্রী দেখতে পাওয়া বিশেষ চশমা আবিষ্কার করে, যা ভিউ ফাইন্ডার নামে পরিচিত। তার পর থেকে একের পর এক আবিষ্কারে ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানী হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। তারপর আবিষ্কার কালেক্টিং অ্যাটাচমেন্ট ফর ড্রিল মেশিন এই যন্ত্র ধোঁয়া বা ধুলো বিহীন ড্রিল করতে পারে, এরপর স্মার্ট সারভাইক্যাল কলার টেকনোলজি উইথ ইমোশন বেস্ড অ‍্যান্টি পলিউশন নামক বিশেষ কলার, যাদের ঘাড়ে স্পন্ডিলাইটিস হয় তারা কোন বিরক্তিকর অস্বস্তি ছাড়াই এই কলার ব‍্যবহার করতে পারে। একটি ডিভাইস ফর ভেহিকেল যা চালক গাড়িতে স্টার্ট দেওয়ার সাথে সাথেই তাকে নির্দেশ দেবে হেলমেট পড়ার জন্য এরপর গাড়ির গতি অতিবৃদ্ধি হয়ে গেলে বা কোন বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তাকে বিশেষ বিশেষ নির্দেশ দিতে থাকবে যার ফলে গাড়ি চালকের জীবন সুরক্ষিত থাকবে।  আবিষ্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এরপর নিয়ে আসে এয়ার প্রোভাইডার এন্ড ভাইরাস ডেস্ট্রয়েড মাস্ক যা কোনোভাবে মানব শরীরে করোনা ভাইরাস প্রবেশ করলেও ফুসফুসে যাওয়ার আগেই ধ্বংস হয়ে যাবে।  দিগন্তিকার মুকুটে নতুন পালক সংযোজন। কারণ বিশ্বজুড়ে কোভিদ ১৯ ভাইরাসের আতঙ্কে যখন গোটা বিশ্ব কাঁপছে ঠিক এরকম সময়ে এরকম একটা মাক্স আবিষ্কার করে আলোড়ন ফেলে দেয়। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সিলমোহরও দিয়ে দেয়।এই মাস্ক বিশেষ করে চিকিৎসা পরিষেবায় যুক্ত ডাক্তার - নার্সদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের স্বশাসিত সংস্থা ন্যাশনাল ইনোভেশন ফাউন্ডেশন ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে এই মাক্স ব্যবহারে দিগন্তিকার কাছ থেকে সম্মতিও নিয়েছে। এখানেই থেমে থাকেনি দিগন্তিকা, আবিষ্কার করে ওয়াটার গান অর্থাৎ ভাইরাস ডেস্ট্রয়েড ওয়াটার গান এতে ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ব‍্যবহারে সাধারণ জল স্প্রে করে সানিটাইস করে নেওয়া যেতে পারে যে কোন কিছু। একইসঙ্গে হোমমেড ট্রান্সপারেন্ট ফেস গার্ড তৈরি করে যা টুপি, চশমা, মাস্ক ইত্যাদির সঙ্গে ব্যবহার করা যেতে পারে। করোনা ভাইরাস সংক্রমনের পরিবেশে পুলিশ কর্মীদের সুরক্ষায় ডিসটেন্স এরেস্টার ফর পুলিশ নামে একটি যন্ত্র উদ্ভাবন করে। এই যন্ত্রের সাহায্যে দূরত্ব থেকে সহজেই অপরাধীকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারবে। তার আবিষ্কারের কয়েকটি প্রজেক্ট কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়ায় দেখাতে পারেনি। এই সকল আবিষ্কারের ফলে ইতিমধ্যে সে ডক্টর এপিজে কালাম ইগনাইট অ্যাওয়ার্ড ২০১৭ ও ২০১৮ সালে পরপর দু'বার ডাস্ট বিহীন ড্রিল মেশিন ও সারভাইক‍্যাল কলার আবিষ্কারের জন‍্য পায়। সি ভি রমন ইয়াং সায়েন্স ইনোভেটার অ্যাওয়ার্ড ৩৮০ ডিগ্রী চশমা আবিষ্কারের জন‍্য পায়। স্টার্ট অফ ইন্ডিয়া  অ্যাওয়ার্ড পায় ডাস্ট বিহীন ড্রিল মেশিন আবিস্কারের জন্য। ২৫ তম ন্যাশনাল চিল্ড্রেন সায়েন্স কংগ্রেস ফাইনালিষ্ট সম্মান পায়। ২০১৭ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্টেট ইনোভেটর অ্যাওয়ার্ড পেয়ে আসছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কন‍্যাশ্রী সম্মানও পেয়েছে। নাসা'র মিশন টাচ টু সান প্রজেক্টে নমিনেশন করে এখানেও নাম নথিভুক্ত হয়। এই বিজ্ঞানীর ২০১৮ সালে রাষ্ট্রপতি ভবনে ফেস্টিভাল অফ ইনোভেশন এন্ড এন্টার প্রিনিউরশিপ তথা (এফ আই এন) এ আমন্ত্রিত ছিল এবং ২০২০ সালেও আমন্ত্রণ পেয়েছে কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে স্থগিত আছে। ২০২০ সালের সাইন্স কংগ্রেস অফ বাংলাদেশ, ঢাকার জাতীয় জাদুঘরে আমন্ত্রণ পেয়েও করোনার জন্য স্থগিত হয়ে যায়। দিগন্তিকা এটাই ছিল বিদেশযাত্রার প্রথম সুযোগ। বাবা-মার প্রেরণায় পড়াশোনার ফাঁকে এই সমস্ত গবেষণার কাজ বাড়িতেই চালিয়ে যায়। ভবিষ্যতে তার প্রতিষ্টিত বিজ্ঞানী হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে বলে জানায়। তার অনুজ পড়ুয়াদের জন্য বার্তা দেয় পড়াশোনা করো এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার শপথ নাও।

Post a Comment

0 Comments