চৈতন্য মহাপ্রভু'র নামে নব নির্মিত তোরণ উদ্বোধন কাটোয়ার দাঁইহাটে

উচ্চ মাধ্যমিকে রাজ্যের সেরা অদিশা দেবশর্মা, দশের মেধা তালিকায় ২৭২ জন # মাধ্যমিকে যুগ্ম প্রথম বর্ধমান সিএমএস হাই স্কুলের রৌনক মন্ডল এবং বাঁকুড়ার রাম হরিপুর রামকৃষ্ণ মিশনের অর্ণব ঘড়াই # আধার কার্ডের ফটোকপির অপব্যবহার রুখতে বিজ্ঞপ্তি জারি # ইউনেস্কো'র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুজো # বাংলার চিকিৎসক উজ্জ্বল পোদ্দার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরার তালিকায়মাধ্যমিকের পর উচ্চমাধ্যমিকেও তাক লাগালো কাটোয়ার অভীক পশ্চিমবঙ্গে কোভিড বিধিনিষেধ প্রত্যাহার #১০০ দিনের কাজের বকেয়া টাকা নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের আন্দোলন

বিষেরবাঁশী

বিষেরবাঁশী

 ✳ শিবানন্দ পাল

 ➡ কবি নজরুলের জন্মদিন আজ। ২৫ মে, ১৮৯৯, এইদিনে জন্মেছিলেন তিনি। বিদ্রোহী কবি নজরুল, রবীন্দ্রনাথকে তাঁর 'সঞ্চিতা' কাব্যগ্রন্থটি উৎসর্গ করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ নজরুলের 'বিদ্রোহী' কবিতাটি পড়ে মুগ্ধ হ'ন। তিনি তাঁর ‘বসন্ত’ গীতিনাট্য নজরুলকে উৎসর্গ করেন ১০ ফাল্গুন, ১৩২৯ বঙ্গাব্দে, “শ্রীমান কবি কাজী নজরুল ইসলাম, স্নেহভাজনেষু” সম্বোধন করে।

আমরা হয়তো অনেকেই জানি না নজরুল তিনখানি উপন্যাস লিখেছিলেন 'মৃত্যুক্ষুধা' (১৯৩০), 'বাধঁনহারা' (১৯২৭), 'ব্যথার দান' (১৯২৭)।

১৯৪২ সালের আগষ্ট মাসে কবি নজরুল দুরারোগ্য শিরঃপীড়ায় আক্রান্ত হন। তখন থেকেই তিনি ছিলেন বাকহারা। নজরুল প্রয়াত হয়েছেন ১৯৭৬-এর ২৯ আগস্ট। প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে তিনি নির্বাক, কলম চলেনি তাঁর। রবীন্দ্রনাথ বেঁচে ছিলেন আশি বছর। জীবনের শেষপ্রান্তেও তিনি ছিলেন কর্মমুখর। নজরুল বেঁচে র‌ইলেন ৭৭বছর, কিন্তু তিনি স্তব্ধ। কেউ কেউ বলেন রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর দিনে তিনি শিরঃপীড়া রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

১৯৪১-এর ৭ আগস্ট, রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু হয়। আর ১৯৩০ সালের ৭ মে কবি নজরুলের দ্বিতীয়  প্রিয় পুত্র বুলবুলের মৃত্যু হয়েছিল বসন্ত রোগে। কবিপত্নী প্রমীলাদেবীর মৃত্যু হয় অনেক পরে ৩০ জুন, ১৯৬২ সালে।

রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু বোধহয় তাঁর পুত্রশোকের ব্যথাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। কবির প্রয়াণ সংবাদে হয়তোবা কবির শেষযাত্রার বিবরণ শুনে তিনি শোকে বিহবল ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। সেদিনকার অল ইন্ডিয়া রেডিও কবির শেষযাত্রার ধারাবিবরণী সম্প্রচার করছিল। ধারাবিবরণী দিচ্ছিলেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। তাঁকে টেলিফোনে তথ্য সরবরাহ করছিলেন নলিনীকান্ত সরকার।

কবি নজরুল সেদিন ছিলেন রেডিও স্টেশনেই। পরপর তিনটি কবিতা লিখেছিলেন। একটিতে লেখেন ‘‘দুপুরের রবি ঢলে পড়েছে অস্তপারের কোলে’’। অপরটিতে লেখেন―
"ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবিরে, জাগায়ো না জাগায়ো না। সারা জীবন যে আলো দিল, ডেকে তার ঘুম ভাঙায়ো না।।"

প্রথম কবিতাটি কলকাতার রেডিওতে আবৃত্তি করছিলেন। আবৃত্তি করতে করতেই তাঁর দেহে রোগাক্রমণের লক্ষণ দেখা দেয়, তিনি আবৃত্তি সম্পূর্ণ করতে পারেননি, তাঁর জিহবা আড়ষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তারপর তিনি আর কথা বলতে পারেননি।

১৯৭৪ সালের ২৩ শে মে কবিকে কলকাতা থেকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রথমে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়। তারপর বাংলাদেশের 'জাতীয় কবি'র মর্যাদা ও 'একুশে পদক' প্রদান করা হয়। স্থায়ীভাবে তাঁর ঢাকায় বসবাসের ব্যবস্থা হয়। এর আগে ১৯৭২ সালের মে মাসে অবশ্য একবার তাঁকে সদ্য-স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে ভারত-বাংলাদেশ, উভয় দেশের মৈত্রীদূত হিসেবে ঢাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

কবি ১৯৭৬-এর ২৯ আগস্ট ঢাকায় প্রয়াত হন। রেডিও-তে কবির মৃত্যু সংবাদ প্রচারিত হয়। তাঁর মরদেহ কলকাতায় আসবে কি আসবে না এইনিয়ে একটা দোলাচলতা সৃষ্টি হয়। শেষপর্যন্ত জানা যায় তাঁর মরদেহ ঢাকাতেই সমাহিত করা হবে।

কর্মস্থল হিসেবে রানিগঞ্জে দীর্ঘদিন থাকার সুবাদে দেখেছি নজরুলের স্কুল, নজরুল সিয়ারশোল হাইস্কুলে পড়েছিলেন। সেখানে রায়সাহেব মৃত্যুঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের ভাগিনেয় সাহিত্যিক শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় তাঁর বাল্যবন্ধু ছিলেন। তিনি যেখানে থাকতেন সেই ষষ্ঠীগড়িয়ার মেসবাড়ির জায়গা ঘুরে দেখেছি। কাটোয়া মহকুমার কেতুগ্রামে আমাদের দেশের বাড়ি। সেজন্য কাটোয়া মহকুমায় মাথরুনের স্কুল, যেখানে নজরুল কিছুদিন পড়াশোনা করেছেন, সেখানেও ঘুরেছি। সেই স্কুলের প্রধানশিক্ষক পল্লীকবি কুমুদরঞ্জন মল্লিকের অজয় নদের বাঁকে বাড়িটাও দেখেছি। রানিগঞ্জে পরিচয় হয়েছে কবির ভ্রাতুষ্পুত্র চুরুলিয়ার কাজী মোজাহার হোসেন এবং কাজী রেজাউল করিম-এর সঙ্গে।

মোজাহারদা আকাডেমীতে নিয়ে গিয়ে দেখিয়েছেন কবির হাতের লেখা পাণ্ডুলিপি, কবির স্বর্ণপদক, ব্যবহৃত জিনিসপত্র সহ পোষাক পরিচ্ছদ। কবিপত্নী প্রমীলাদেবীর সমাধি আছে সেখানে। পরে সেখানে কবির প্রতীক সমাধি তৈরি করা হয় ... তাও দেখেছি। ঘুরেছি কবির ছেলেবেলার জায়গাগুলো। গুলমোহর গাছের জায়গা, পুকুরঘাট।

বামফ্রন্ট সরকারের সময় প্রতিবছর এই সময় বসতো বিরাট নজরুল মেলা। তৈরি হয় অতিথি নিবাস ... ইয়ুথ হস্টেল। তারপর কলেজ তৈরি হল ... এখন তো কবির নামে বিশ্ববিদ্যালয়। নজরুল মেলায় সারারাত চলতো নানা অনুষ্ঠান। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসতেন কবিতীর্থ চুরুলিয়ার মাটিকে প্রণাম করতে। শিল্পীবন্ধু সুশীল পাল চুরুলিয়ার নজরুল আকাডেমীতে অঙ্কন এবং অঙ্গসজ্জার প্রচুর কাজ করতেন। রানিগঞ্জ শহরে প্রতিষ্ঠিত নজরুলের আবক্ষ মূর্তি তাঁরই হাতে তৈরি। তাঁর সঙ্গে রাত জাগতাম। আমাদের আপ্যায়নের সব দায়িত্ব অভিভাবকের মতো সামলাতেন কবি ভ্রাতুষ্পুত্র রেজাউলদা।

শুনেছি কলকাতার বাড়িতে কবি একেবারে চলচ্ছক্তিহীন ছিলেন না। কারও সাহায্য নিয়ে হাঁটতে পারতেন। তাঁর স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য আসতেন আলিপুর হাসপাতালের চিকিৎসক অঞ্জলি মুখোপাধ্যায়। ডাঃ অঞ্জলি মুখোপাধ্যায় ছিলেন বিশিষ্ট নজরুলগীতি গায়িকা। আসতেন কবির গুণগ্রাহী বিশিষ্ট মানুষজন। মাঝে মাঝে কবিকে কবির পছন্দের গান শোনানোর আয়োজন হতো। স্মৃতিচারণে অনেকেই বলেছেন গান একটু বেসুরে গাইলেই কবির মধ্যে উত্তেজনার প্রকাশ ঘটতো। ভালো লাগলে আবার কখনো কখনো হাঁটুতে হাতের টোকা মেরে তাল ঠুকতেন। কবিকে কখনো কখনো
দেখা গেছে একাই বিছানা ছেড়ে উঠে ... টলোটলো পায়ে জানলার ধারে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন। তাকিয়ে রয়েছেন বাইরের দিকে।

নজরুল হয়তো বুঝেছিলেন রবীন্দ্রনাথের গানের পাশে তাঁর গানকেও টিঁকে থাকতে হবে। সেইজন্যই গান নিয়ে তাঁর পরীক্ষানিরীক্ষার অন্ত ছিল না।  রবীন্দ্রনাথের থেকে অনেক বেশি গান রচনা করেছেন। লিখেছেন ৩,০০০-এরও বেশি গান। পৃথিবীর আর কোনো ভাষায় একক হাতে এত বেশি সংখ্যক গান আছে কিনা জানিনা‌। আমরা এখনো তাঁর গান গাই, তাঁর স্বপ্ন মিথ্যা হয়নি।

নজরুলের লেখা পাঠ করলে দেখা যায় তিনি বাঙালিকে একটি স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে দেখেছেন। ভারতীয় পরিচয়কেও অস্বীকার করেননি। এজন্য সুভাষচন্দ্র তাঁকে খুব পছন্দ করতেন, পছন্দ করতেন তাঁর গান। আইএন‌এ সেনারা তাঁর গানের সঙ্গে মার্চ করতেন।
১৯৪০ সালের পর যখন মুসলমানদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র ‘পাকিস্তান’-এর দাবির পক্ষে কেউ কেউ কথা বলতেন, কবি পাকিস্তানকে "ফাঁকিস্তান" বলে ব্যঙ্গ করতেন।

বাকহারা হবার আগে নজরুল “বাঙালি বাঙলা" নামে একটি ঐতিহাসিক প্রবন্ধ লেখেন। সেখানে লিখেছেন―“বাঙালি যেদিন ঐক্যবদ্ধ হয়ে বলতে পারবে বাঙালির বাংলা সেদিন তারা অসাধ্য সাধন করবে।" তিরিশ বছর আগেই বাঙালির জীবনের ভবিষ্যতকে নজরুল প্রত্যক্ষ করেছেন, বিষয়টি স্বাধীন বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী এবং বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমান উপলব্ধি করেছিলেন।

১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সম্মানসূচক ‘ডি-লিট’ উপাধি প্রদান করে। বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমান কবিকে বাঙালির 'জাতীয় কবি' হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর শোক ও ব্যাধিতে ভয়ঙ্কর ভাবে আক্রান্ত হয়েছিলেন নজরুল। তাঁর বাকহারা হবার সেটা একটা মস্ত কারণ। প্রায় দশ বছরের‌ও বেশী আগে অত্যন্ত আদরের সন্তান বুলবুলকে হারিয়েছেন। কিন্তু রবীন্দ্র প্রয়াণের পর তাঁর পাশে কী ছিলেন কেউ?

রবীন্দ্র প্রয়াণের পর দেশ ভাগ হয়েছে, স্বাধীনতা এসেছে, সীমাহীন উদ্বাস্তু সমস্যা, পশ্চিমবঙ্গ হয়েছে ভারতের একটি অঙ্গরাজ্য। পূর্ববঙ্গ চলে গেছে পাকিস্তানের কব্জায়। শ্বশুরবাড়ি যেতে গেলেও তৈরি হয়েছে পাসপোর্টের লালফিঁতের ফাঁস। শুধু কি তাই! তলোয়ার দিয়ে দাড়ি চাঁছা নজরুলকে আর কেউ ছেড়ে কথা বলেননি। কলকাতার সারস্বত সমাজের কেউ কেউ সেদিন কী আচরণ করেছিলেন লেখা আছে সাহিত্যের ইতিহাসে! কাকাবাবু! তিনি তখন যথেষ্ট প্রবীণ তখন। চলে গেলেন ৮৪ বছর বয়সে ১৮ ডিসেম্বর ১৯৭৩।

একবৃন্তে দুটি কুসুম যেমন হিন্দু-মুসলমান, ঠিক তেমনি কবি অন্নদাশঙ্কর রায়ের অমর পংক্তি “আর সবই ভাগ হয়ে গেছে শুধু, ভাগ হয়নিকো নজরুল”। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ! বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রেরণা দিয়েছে রবীন্দ্রনাথ এবং নজরুলের গান। সেই সঙ্গীতের উন্মাদনায়
একটার পর একটা রণাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধারা পেয়েছেন বিজয়ীর সম্মান। বাংলাদেশের স্বাধীনতাপ্রাপ্তি অবধারিত ভাবে নির্দিষ্ট করে দেয় নজরুলের পরিণতি।

অসুস্থ কবি সেসময়ে একেবারেই ভেঙে পড়েছিলেন। স্ত্রী প্রথমে বাতে আক্রান্ত হন, পরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। নজরুলের বাকহারা পর্যায় শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এর সঙ্গে চারপাশের পরিবেশ‌ও দায়ী।

নজরুল ভ্রাতুষ্পুত্র মোজাহার হোসেন-এর সঙ্গে এখনো কথা হয় চুরুলিয়ার নজরুল আকাদেমী বা টাউন লাইব্রেরি সম্পর্কে ... প্রচুর হতাশা প্রকাশ করেন। আজ সেখানে নমো নমো করে শুধু সেই প্রবীণ মানুষটির নেতৃত্বে কবির জন্মদিনের কিছু অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। যদিও লকডাউন চলছে।

পবিত্র রমজান মাসে লকডাউনের মধ্যে মুসলিম ভাইয়েরা দিনগুলি পালন করছেন নিজেদের মতো করে যে যেভাবে পারেন। নজরুল সম্ভবত ১৯৪০ সালে ঈদ উপলক্ষে ‘কৃষকের ঈদ’ নামে একটি কবিতায় শেষ পংক্তিতে লিখেছেন―
"দীন কাঙ্গালের ঘরে ঘরে আজ দেবে যে নব তাগিদ
কোথা সে মহা- সাধক আনিবে যে পুন ঈদ?
ছিনিয়া আনিবে আসমান থেকে ঈদের চাঁদের হাসি,
ফুরাবে না কভু যে হাসি জীবনে, কখনো হবে না বাসি।
সমাধির মাঝে গণিতেছি দিন, আসিবেন তিনি কবে?
রোজা এফতার করিব সকলে, সেই দিন ঈদ হবে।"

ওই কবিতার ৮০ বছর পর আবার একটি ঈদ উপস্থিত হয়েছে আজ আমাদের সামনে। করোনা জনিত কারণে আজ কর্মহীনতা, দারিদ্র্য, একাকীত্ব, শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা, জীবনধারণের অকল্পনীয় অনিশ্চয়তা সবার মাথার ওপরে চেপে বসেছে। কর্পোরেটদের তুষ্টিকরণের রাজনীতির বিপদ ঘাড়ে নিয়েই মানুষের মধ্যে লকডাউন তুলে দেবার তাগিদ উপচে পড়ছে। পরিণতিতে যা হবে দায় সবটাই জনগণের।

রাষ্ট্র হাত ধুয়ে ফেলেছে। করোনা থেকে দৃষ্টি ঘোরাতেই হয়তো উম্পুনের ঝড়ে বিপর্যস্ত মহানগরী চারদিন ধরে বিদ্যুৎহীন। অবস্থা কবে স্বাভাবিক হবে কেউ বলতে পারছে না। কবিগুরুর ভাষায় "কেষ্টা বেটাই চোর"! সব দায় বামফ্রন্টের সময়ে তৈরি সিএসসি-র! আর এতদিন তিনি কম্পাস, ক্যালকুলেটর নিয়ে ঘুমোচ্ছিলেন! দিকে দিকে পানীয় জলের হাহাকার, ঘরে অসুস্থ রোগী, খোঁজ নেই প্রশাসনের, নাগরিক বিক্ষোভে পুলিশের লাঠি চলছে, যন্ত্রণা সহ্য করতে উপদেশ দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওদিকে হোয়াটস‌অ্যাপ কলেই চলছে দেদার কর্মী ছাঁটাই। ঘরের চারপাশে কেউ ভালো নেই। অসহায় মানুষকে নামতে হয়েছে পথে। এই দুর্দিনে কবি নজরুলের 'বড়ো বিষ-জ্বালা এই বুকে' হোক আমাদের দিশা ... হোক আমাদের সকলের সাম্যের সাথী।
"গাহি সাম্যের গান-
যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান
যেখানে মিশছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুস্‌লিম-ক্রীশ্চান।
গাহি সাম্যের গান!"
সংগৃহীত ছবি―চুরুলিয়ার নজরুল আকাদেমীতে নজরুলের সমাধিতে আজ পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে (মাঝখানে মুখে মাস্ক) দাঁড়িয়ে আছেন নজরুল ভ্রাতুষ্পুত্র কাজী রেজাউল করিম।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার :
১। ৩০ আগস্ট, ২০১৯ আনন্দবাজার পত্রিকা।
২। উদ্ধৃত, চির উন্নত শির, সম্পাদক মানিক মুখোপাধ্যায়, সারা বাংলা নজরুল শতবর্ষ কমিটি, কলকাতা ২০০১।
৩। অচিন্ত্য কুমার সেনগুপ্ত, কল্লোল যুগ, কলকাতা, এম সি সরকার অ্যান্ড সন্স, ১৯৫০।
৪। পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়, চলমান জীবন (দ্বিতীয় পর্ব), কলকাতা, কলকাতা বুক ক্লাব, ১৯৫৩।
৫। কালি ও কলম ৩০, জুলাই, ২০১৮। রবীন্দ্র-নজরুল সম্পর্ক এবং তার পরে―সিরাজুল ইসলাম।

Post a Comment

0 Comments