বর্ধমান রাজ আমলের ঐতিহ্য মেনে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে দুর্গাপুজোর ঘট উত্তোলন
Sangbad Prabhati, 11 October 2026
জগন্নাথ ভৌমিক, বর্ধমান : বর্ধমান রাজ আমলের প্রাচীন রীতি ও ঐতিহ্য মেনে মহালয়ার পরের দিন রবিবার সকালে বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা সর্বমঙ্গলার মন্দিরে দুর্গাপুজোর পবিত্র ঘট উত্তোলন ও প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠান সম্পন্ন হল। প্রাচীন আচার-অনুষ্ঠান, ধর্মীয় নিষ্ঠা এবং ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে এই অনুষ্ঠান ঘিরে মন্দির চত্বরে তৈরি হয় এক পবিত্র ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
রীতি মেনে এদিন সকালে বর্ধমানের ঐতিহ্যবাহী কৃষ্ণসায়র থেকে ঘটে জল ভরা হয়। এরপর শোভাযাত্রা সহকারে সেই পবিত্র জল নিয়ে আসা হয় সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। নির্দিষ্ট ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মন্দিরে ঘট স্থাপন করা হয়। বর্ধমান রাজ পরিবারের আমল থেকে চলে আসা এই ঐতিহ্য আজও যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে, যা বর্ধমানের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় পরম্পরার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই পবিত্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু, প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, বর্ধমান রামকৃষ্ণ আশ্রমের সম্পাদক স্বামী অজ্ঞেয়ানন্দজী মহারাজ, বিশিষ্ট আইনজীবী আশীষ কুমার পাল, রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের প্রবীন কার্যকর্তা সুবীর দত্ত, মন্দিরের প্রধান পুরোহিত অরুণ ভট্টাচার্য এবং সর্বমঙ্গলা মন্দির ট্রাস্ট কমিটির সম্পাদক তথা আইনজীবী সঞ্জয় ঘোষ-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
মা সর্বমঙ্গলার মন্দির বর্ধমানের মানুষের কাছে শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনাস্থল নয়, বরং এই অঞ্চলের সুপ্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অন্যতম ধারক। দুর্গাপুজোর ঘট উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শারদোৎসবের ধর্মীয় পর্বের সূচনা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই রীতির মধ্য দিয়ে বর্ধমানের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা আজও অটুট রয়েছে।


