চৈতন্য মহাপ্রভু'র নামে নব নির্মিত তোরণ উদ্বোধন কাটোয়ার দাঁইহাটে

উচ্চ মাধ্যমিকে রাজ্যের সেরা অদিশা দেবশর্মা, দশের মেধা তালিকায় ২৭২ জন # মাধ্যমিকে যুগ্ম প্রথম বর্ধমান সিএমএস হাই স্কুলের রৌনক মন্ডল এবং বাঁকুড়ার রাম হরিপুর রামকৃষ্ণ মিশনের অর্ণব ঘড়াই # আধার কার্ডের ফটোকপির অপব্যবহার রুখতে বিজ্ঞপ্তি জারি # ইউনেস্কো'র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুজো # বাংলার চিকিৎসক উজ্জ্বল পোদ্দার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরার তালিকায়মাধ্যমিকের পর উচ্চমাধ্যমিকেও তাক লাগালো কাটোয়ার অভীক পশ্চিমবঙ্গে কোভিড বিধিনিষেধ প্রত্যাহার #১০০ দিনের কাজের বকেয়া টাকা নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের আন্দোলন

কোভিড বিধি মেনে বয়স্ক এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের পুজো দেখার পরিবেশ তৈরির জন্য 'দুর্গোৎসব পুরস্কার ২০২১' ঘোষণা




কোভিড বিধি মেনে বয়স্ক এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের পুজো দেখার পরিবেশ তৈরির জন্য 'দুর্গোৎসব পুরস্কার ২০২১' ঘোষণা 


ডিজিটাল ডেস্ক রিপোর্ট সংবাদ প্রভাতী : বিশেষভাবে সক্ষম এবং বয়স্ক নাগরিকদের জন্য পুজো দেখার পরিবেশ তৈরী করা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি পুজো কমিটির ক্ষেত্রে। এই বিষয়টিকে সামনে রেখে বিশেষভাবে সক্ষম এবং দৃষ্টিহীনদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারের জন্য কাজ করা এনআইপি (এনজিও), ফোরাম ফর দুর্গোৎসব, রোটারি ডিস্ট্রিক্ট ৩২৯১ এবং নারায়ন মেমোরিয়াল হসপিটাল মিলিতভাবে 'দুর্গোৎসব পুরস্কার ২০২১'-র  আয়োজন করেছে। যে সমস্ত পুজো কমিটি তাদের পুজো মন্ডপে কোভিড প্রোটোকল মেনে বয়স্ক নাগরিক এবং বিশেষভাবে সক্ষম নাগরিকদের জন্য সুবিধার ব্যবস্থা রাখবে, তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পুজো কমিটিকে পুরস্কৃত করা হবে। ইতিমধ্যেই ৩৫০টি পুজো কমিটি তাদের নাম নথিভুক্ত করিয়েছে এই পুরস্কারের জন্য। ২৩ সেপ্টেম্বর কলকাতা প্রেস ক্লাবে পুরস্কারটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারায়ন মেমোরিয়াল হাসপাতালের সিইও সুপর্ণা সেনগুপ্ত, গ্র্যান্ডমাস্টার দাবাড়ু দিব্যেন্দু বড়ুয়া, অভিনেতা দেবশঙ্কর হালদার, চিত্রশিল্পী সমীর আইচ, সঙ্গীত পরিচালক তথা তবলিয়া পন্ডিত মল্লার ঘোষ, ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের তরফে পার্থ ঘোষ, রোটারি ৩২৯১-এর জেলাপাল প্রবীর চ্যাটার্জী, নারায়ন মেমোরিয়াল হসপিটালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার কনসালট্যান্ট ডাঃ প্রসূন কুমার মিত্র সহ আরও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।   

২০০২ সালে নিজেদের যাত্রা শুরু করে নন প্রফিট এবং নন গভর্নমেন্ট অর্গানাইজেশন 'এনআইপি'। শুরু থেকেই তারা বিশেষভাবে সক্ষমদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং আর্থিক উন্নতির জন্য কাজ করে আসছে। নারী, শিশু কল্যাণ ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রকের তরফে রাজ্য সরকার থেকে এই কাজে অভাবনীয় সাফল্যের জন্য তারা পুরস্কৃত হয় ২০১২ সালে। এনআইপি'ই প্রথম উপলব্ধি করে, বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো সঠিকভাবে আনন্দ সহকারে উদযাপন করতে পারেননা বিশেষভাবে সক্ষমরা। তার কারন পুজো মন্ডপগুলিতে বিশেষভাবে সক্ষম এবং তার পাশাপাশি বয়স্কদের জন্য কোনওরকম ব্যবস্থা থাকেনা। এই ভাবনা থেকে ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের সঙ্গে যৌথভাবে ২০১০ সাল থেকে তারা (এনআইপি) সার্ভে করে এবং যে সমস্ত মন্ডপগুলি বিশেষভাবে সক্ষম তথা বয়স্কদের বাধাহীনভাবে পুজো দেখার বন্দোবস্ত করবে তাদের জন্য পুরস্কারের ঘোষণা করে। এছাড়াও এনআইপি বিশেষভাবে দৃষ্টিতে সক্ষমদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতিতে পুজো পরিক্রমা গাইড প্রকাশ করে এবং সকল রকম বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য পুজো প্যান্ডেল হপিং-এর আয়োজন করে। 

এনআইপি-র সচিব দেবজ্যোতি রায় সংবাদমাধ্যমকে জানালেন, "বর্তমানে অধিকসংখ্যক পুজো কমিটি প্রয়োজনীয় গাইডলাইন মেনে চলেন। তবে এবারে এই অতিমারির পরিস্থিতিতে মন্ডপের আবহ বজায় রেখে ভিড় এড়িয়ে কোভিড বিধি রক্ষা করাই একটা চ্যালেঞ্জ সমস্ত পুজো কমিটির কাছে। এ বছর দায়িত্ব নিয়ে পুজো উদযাপন করতে হবে সকলকেই"। 

ফোরাম ফর দুর্গোৎসব কমিটির তরফে পার্থ ঘোষ এবং শাশ্বত বোস বললেন, "এ বছর প্রত্যেক পুজো উদ্যোক্তা এবং সদস্যদের অনুরোধ করা হচ্ছে কোভিড প্রোটোকল মেনে এবং বয়স্ক ও শারীরিকভাবে সক্ষমদের পুজো দেখার জায়গা তৈরি রেখে পুজোর ব্যবস্থাপনা করতে"। 

এই ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে নারায়ন মেমোরিয়াল হসপিটাল (বেহালা) এর সিইও  সুপর্ণা সেনগুপ্ত জানালেন, "নথিভুক্ত পুজো কমিটিগুলির মন্ডপে কোভিড বিধি গঠন করার জন্য এনআইপি আমাদের চয়ন করেছে, যা আমাদের কাছে যথেষ্ট গর্বের বিষয়। তিনি জানান, করোনার তৃতীয় ঢেউ দোরগোড়ায় সেই কারণেই আমাদের যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিটি পুজো কমিটিকে আমরা অনুরোধ করবো আমাদের গঠন করা বিধি মেনে পুজো দেখার বন্দোবস্ত করতে, পুজো দেখতে আসা দর্শকরা যেন সুরক্ষিতভাবে পুজোর আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, তার ব্যবস্থা করতে। আমাদের এই লক্ষ্যে পুজো কমিটিগুলিকে পাশে থাকার অনুরোধ করছি"।


Post a Comment

0 Comments